দুই বছরে সার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে দেশ : বিসিআইসি চেয়ারম্যান

বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০

মরিয়ম সেঁজুতি : বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) অধীন অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ এখন সার উৎপাদন ও বিতরণ। বর্তমানে ৮টি সার কারখানার মধ্যে ৬টি ইউরিয়া ও ২টি টিএসপি কারখানা রয়েছে। শাহজালাল সার কারখানা চালুর পাশাপাশি ঘোড়াশাল-পলাশে নতুন কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে। ২০২২ সালে চালু হলে এ কারখানায় বছরে প্রায় ১০ লাখ টন সার উৎপাদন হবে। তখন চাহিদার প্রায় কাছাকাছি দেশে উৎপাদন বাড়লে আমদানি কমে যাবে। এতে লাভজনক হবে সংস্থাটি।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. হাইয়ুল কাইয়ুম জানালেন, আগামী ২ বছরের মধ্যেই সারে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দেশে সারের চাহিদা মেটাতে স্থানীয় কারখানায় উৎপাদন বাড়াতে নতুন কারখানা স্থাপন করছে সরকার। একই সঙ্গে সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিসিআইসি নানা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের চাহিদার সব সার উৎপাদন সম্ভব হবে। পাশাপাশি সঠিকভাবে সার সংরক্ষণ সম্ভব হবে। এ কাজ বেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। তিনি আশা করছেন, নতুন পদক্ষেপে লোকসানের ধারা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে। আগামী ২ বছরে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর হবে বিসিআইসি। জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ২৬ লাখ ৫০ হাজার টন চাহিদার মধ্যে প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ উৎপাদন হয়। বাকি চাহিদা স্থানীয়ভাবে মেটাতে নতুন একটি সার কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করেছে সরকার। আরো একটি নতুন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে। নতুন কারখানা চালু হলে প্রায় ২০ লাখ টন সার উৎপাদন বাড়বে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, এদেশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করা হয়। বিসিআইসি সূত্রে জানা যায়, দেশের পুরনো সার কারখানাগুলো বছরের বেশিরভাগ সময় বন্ধ ও অচল থাকায় বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়। এসব কারখানা সংস্কারে ব্যয় করে শুধু লোকসান বাড়ছে। এ কারণে সংস্কার ব্যয় না বাড়িয়ে নতুন করে কারখানা স্থাপনে নেমেছে বিসিআইসি। সংস্থাটি ইতোমধ্যে শাহজালাল সার কারখানা নতুন করে চালু করেছে। তাছাড়া প্রায় ১০ লাখ টন উৎপাদন সক্ষমতার ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানায় জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে নতুন করে উন্নয়ন কাজ শুরু করেছে। এরপরে উত্তরবঙ্গে একই সক্ষমতার নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিসিআইসির নিজস্ব সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় বিএডিসির গোডাউন ভাড়ায় মাত্র ৩ লাখ টন সার রাখা হয়েছে। এখন নতুন ৪৭টি গোডাউন নির্মাণ হলে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টন সার সংরক্ষণ হবে। ২০২০ সালে প্রায় ১৩টি গোডাউন নির্মাণ শেষ হবে। নতুন সার কারখানার বিষয়ে হাইয়ুল কাইয়ুম বলেন, উত্তরবঙ্গে কারখানা করার বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এখনো স্থান চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ হয়নি। উত্তরবঙ্গে গ্যাস পাওয়ার ওপর নির্ভর করবে কোন স্থানে হবে। জ্বালানি বিভাগ এ জন্য কিছু বিষয়ে জানতে চেয়েছে, তার জবাব দেয়া হয়েছে। এখন জ্বালানি বিভাগ নিশ্চয়তাপত্র দিলে স্থান চূড়ান্ত করা হবে। নতুন এ কারখানা কেমন সক্ষমতার করার পরিকল্পনা আছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ কারখানা ন্যূনতম ৫ থেকে ১০ লাখ টন সক্ষমতার হতে পারে। দেশের সারের চাহিদার ৪০ শতাংশ উত্তরবঙ্গে ব্যবহার করা হয়। ওই এলাকায় ১০ থেকে ১২ লাখ টন সার সরবরাহ করতে হয়। সিলেট থেকে পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে এক টন সার নিয়ে যেতে প্রায় আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়।

বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, গত দুবছর সার কারখানাগুলো গ্যাসের অভাবে উৎপাদন বাড়াতে পারেনি। তখন ১৫ থেকে ১৭ মাস কয়েকটি কারখানা বন্ধ ছিল। এটা আগে কখনো হয়নি। এ কারণে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রায় ২০ লাখ টন সার আমদানি করতে হয়েছে। এবার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ১০ লাখ টন। এর বিপরীতে আমদানি হয়েছে সাড়ে ৯ লাখ টন।

এ বিষয়ে বিসিআইসির চেয়ারম্যান বলেন, এবার সারের কোনো ঘাটতি হবে না। এখন চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত রয়েছে। কারখানাগুলো চালু থাকায় চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে। তিনি বলেন, সারাবছরে সাড়ে ২৬ লাখ টন চাহিদা থাকলেও ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ৪ মাসেই প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টন সার প্রয়োজন হয়।

এদিকে সার কারখানা ছাড়া অন্য কারখানাগুলো চালু করার বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে বিসিআইসি। চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্সের জায়গায় ২ হাজার ৩২৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ গøাস শিট ফ্যাক্টরি করা হবে। নতুন গ্যাস কারখানা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিসিআইসির চেয়ারম্যান বলেন, গ্যাস কারখানা নতুন করে সচল করতে ডিপিপি তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ছাতক সিমেন্ট কারখানার উৎপাদন ওয়েট পদ্ধতি থেকে ড্রাই পদ্ধতিতে রূপান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কাজে ৮৯০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। তাছাড়া পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন স্থানান্তরের জন্য উজালা ম্যাচ ফ্যাক্টরির জায়গায় গোডাউন নির্মাণকাজ চলছে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj