৫ পুলিশ ও ১০ জঙ্গির ফাঁসি : রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক

বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০

বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী ‘চট্টগ্রাম গণহত্যা মামলা’র রায় ঘোষিত হয়েছে সোমবার। রায়ে তৎকালীন ৫ পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই দিন প্রায় দুই দশক আগে ঢাকার পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় হরকাতুল জিহাদের (হুজি) ১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের কৌঁসুলিরা। একই দিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের আলোচিত এই দুই মামলার রায় হওয়ায় সুশাসনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা আরো মজবুত হয়েছে বলা যায়। জানা যায়, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি বিকেলে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় লালদীঘি ময়দানে জনসভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। সভায় যাওয়ার পথে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের সামনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহর লক্ষ্য করে গুলি করে পুলিশ। শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মারা যান ২৪ নেতাকর্মী। আহত হন কমপক্ষে দুই শতাধিক। ঘটনাটি চট্টগ্রাম অঞ্চলে ‘চট্টগ্রাম গণহত্যা মামলা’ হিসেবে পরিচিত। এ ঘটনার পর এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। তবে এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে মামলা দায়ের করা যায়নি। স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে প্রয়াত আইনজীবী শহীদুল হুদা বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ওই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ‘হত্যার নির্দেশদাতা’ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মির্জা রকিবুল হুদাকে প্রধান আসামি করা হয়। নানা প্রতিবন্ধকতায় থমকে গিয়েছিল এ মামলা। বিচারকাজ পড়েছিল দীর্ঘসূত্রতায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বহুল আলোচিত মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে এ মামলার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছিলেন। চট্টগ্রামের আইনজীবীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করার তাগিদ দেন। আদালতের নির্দেশে সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রথম দফায় ১৯৯৭ সালের ১২ জানুয়ারি এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় মির্জা রকিবুল হুদাসহ আট পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। অন্যদিকে ২০০১ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বোমা হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৯ বছর পর সেই বর্ষপূর্তির দিনেই রায় ঘোষণা করলেন আদালত। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আসামিরা হুজির সদস্য এবং তাদের ধারণা- সিপিবির লোকেরা কাফের, বিধর্মী, নাস্তিক, ইসলাম ধর্মে বিশ^াসী নয়। সে কারণে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিকে নিশ্চিহ্ন করতে জঙ্গিরা ওই হামলা চালিয়েছিল। দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের স্বার্থে এই জঙ্গিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। পবিত্র ধর্ম ইসলাম জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না। আমরা আশা করব, এই দুটি আলোচিত হত্যা হামলার রায় যাতে দ্রুত নিষ্পন্ন হয় তার জন্য সচেষ্ট থাকবেন সংশ্লিষ্টরা। এমন নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি যাতে এ দেশে আর কোনোভাবেই ঘটতে না পারে তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় অঙ্গীকার করতে হবে আমাদের।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj