বাণিজ্যমেলায়ও পণ্যের মান নিয়ে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার পণ্যের মান নিয়ে ক্ষুব্ধ ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। গুলিস্তান বা নিউমার্কেটের মতো দেইখা লন-বাইছা লন শুনে বিরক্ত তারা। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ফুটপাতের পণ্যে সয়লাব। আর কিছু কিছু দোকানি উচ্চস্বরে ডেকে ডেকে পণ্য বিক্রি করায় বিরক্তের পাশাপাশি পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা। তবে বরাবরের মতো এসব অভিযোগ মানতে নারাজ আয়োজক কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, আমরা মেলায় আন্তর্জাতিকমানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্টল বরাদ্দ দিয়েছি। গতকাল রবিবার মেলাপ্রাঙ্গণ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

আগারগাঁও বাণিজ্যমেলা ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাতের হকারদের মতই মেসার্স ফ্যাশন মেলা এবং মায়ের দোয়া ওড়না হাউজের দোকানের কর্মচারীরা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে উচ্চস্বরে চিৎকার করছেন। আর বলছেন, আসেন আপা আসেন, দেইখা লন ১০০, বাইছা লন ১০০, হিজাব লন, ওড়না লন ১০০, একদাম একদর। ঠিক একইভাবে ১৫০ টাকা দরে নামাজের হিজাব ও শাল বিক্রি হচ্ছে, মেয়েদের গাউন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। ছেলেদের শার্ট আর মেয়েদের বিভিন্ন ডিজাইনের ওয়ান পিস বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। এ ছাড়াও দোকানগুলোতে বিভিন্ন রকম ছোট ও মাঝারি লেডিসদের ব্যাগ বিক্রি হচ্ছে একদাম ১৫০ টাকায়। মেলার ৫৮ নম্বর স্টল মেসার্স ফ্যাশন মেলায় সুতিসহ অন্তত ১৫-২০ ধরনের হিজাব-ওড়না একদাম ১০০ টাকা করে ডেকে ডেকে বিক্রি করছে। দোকানগুলেতে ছেলেদের নানা রংয়ের শার্ট বিক্রি করছে ২০০ টাকায়। একই দামে বিক্রি করছে মেয়েদের কামিজ। তবে মেয়েদেরটিকে বলা হচ্ছে ওয়ান পিস। এসব দোকানে বিভিন্ন রকম ছোট ও মাঝারি লেডিসদের ব্যাগ বিক্রির হচ্ছে একদাম ১৫০ টাকায়।

দোকানের কর্মকর্তারা বলছেন, আমরা কম দামে ভালো কাপড় বিক্রি করছি। তাই আমাদের বিক্রিও ভালো হচ্ছে। মায়ের সঙ্গে মেলায় আসা রুহি বললেন, দাম কম পেয়েছি- তাই দুটি গাউন কিনেছি। এদিকে মেলা শুরুর আগে প্রবেশমূল্য বাড়ানোর কারণে অনেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এবার এত দামে টিকেট কেঠে মেলায় এসব নি¤œমানের পণ্য বিক্রি দেখে অবাক ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। তারা বলছেন, আগের বছরের তুলনায় প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা বাড়ানো হলেও আন্তর্জাতিক মানের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি আয়োজক কর্তৃপক্ষ। যাকে তাকে স্টল বরাদ্দ দিয়ে মেলার মান প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ অনেকের। মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয় রাজধানীর মিরপুর থেকে আসা বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আসমাউল হুসনার সঙ্গে। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা ৪০ টাকা দিয়ে প্রবেশ করে কি দেখলাম। একবার এই টাকা দিয়ে মানুষ প্রবেশ করলে আর দ্বিতীয়বার আসবে না। যেভাবে গুলিস্তানসহ রাজধানীর ফুটপাতের মতো পণ্য বিক্রি হচ্ছে মনে হচ্ছে এটা আধুনিক মানের কোনো ফুটপাত, যেখানে ৪০ টাকার বিনিময়ে প্রবেশ করতে হয়।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj