ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি : নোবেল শান্তি পুরস্কারের সমমানে বঙ্গবন্ধু পুরস্কার ঘোষণার দাবি

সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে। শুধু আতশবাজি আর উৎসবের মধ্যে মুজিববর্ষ পালন সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বঙ্গবন্ধুর ৭২’ এর সংবিধানে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সংবিধানে এখনো তা নিষিদ্ধ করা হয়নি। রাজনীতি ও রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধ সফল হবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তিতে অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারের সমমানের বঙ্গবন্ধু পুরস্কার ঘোষণা করতে বক্তারা দাবি জানান। গতকাল রবিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সেমিনার কক্ষে ‘মুজিববর্ষে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নাগরিক আন্দোলনের অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্মূল কমিটির সভাপতি ও লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। আরো উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, সংসদ সদস্য ও মানবাধিকার নেত্রী আরোমা দত্ত, রাজনীতিবিদ ও সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, নারীনেত্রী ও সাংসদ শিরিন আক্তার, শহীদ সন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়। শাহরিয়ার কবির বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭২’ এর সংবিধানে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সংবিধানে এখনো তা নিষিদ্ধ করা হয়নি। আওয়ামী লীগও এখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলে না। কিন্তু ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলে। মুজিববর্ষে উৎসবের কথা বলে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার এই সরকার স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও সরকারিভাবে বঙ্গবন্ধুর একটি আত্মজীবনী বা বায়োগ্রাফি বের করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তিতে অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারের সমমানের একটি পুরস্কার ঘোষণা করা হোক, মুজিববর্ষে নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে আমরা এই দাবি জানাচ্ছি।

বাউল সঙ্গীত শিল্পী শরিয়ত বয়াতির গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে শাহরিয়ার কবির বলেন, মোল্লাদের দাবির মুখে লালনের অনুসারি শরিয়ত বয়াতিকে ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করে জেলে ঢোকানো হয়েছে। বাংলাদেশে লালনের গান থাকবে না তো কোথায় থাকবে। এটা কোন বাংলাদেশে আমরা বাস করছি। অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকারের সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আপিল বিভাগে কেন জমে থাকবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তিকে বিলুপ্ত করতে হবে। তা না হলে বঙ্গবন্ধুর চেতনার বাস্তবায়ন হবে না। মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উচিত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তিতে অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারের সমমানের একটি পুরস্কার ঘোষণা করা। শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শকে জানতে হবে। সংবিধানকে জানতে হবে। এখন তো কেউ ইতিহাস পড়েন না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কীভাবে ধারণ করবে।

আরোমা দত্ত বলেন, এখন ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজকে ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু ধর্মান্ধ মানুষের সঙ্গে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি কখনো আপস করেনি। বঙ্গবন্ধু ও জাহানারা ইমাম সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে আমাদের সাহস দিয়ে গেছেন। ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, সব জায়গায় ধর্মের ব্যবহার হচ্ছে। মুজিববর্ষে আতশবাজির পরিবর্তে একটি আদর্শিক আন্দোলনের ডাক দিতে হবে। শিরিন আক্তার বলেন, আমরা মুজিববর্ষ বঙ্গবন্ধুর দর্শনের মধ্য দিয়ে পালন করতে চাই। আমরা শুধু ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলি, কিন্তু প্রতিটি ধর্মের মর্যাদা দিতে পারি না। শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ বলেন, বঙ্গবন্ধু অনগ্রসর স্থানে জন্ম নিয়েও বাঙালির চেতনা বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি ধর্মভিত্তিক সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিলেন। এখন ধর্মের কারণে লোকজ সংস্কৃতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ লোকজ সংস্কৃতি অনুসরণ না করলে আমরা ধর্মান্ধ হয়ে যাব।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj