বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত আজ

রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

এম. নজরুল ইসলাম, গাজীপুর : আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আজ রবিবার শেষ হচ্ছে বিশ্ব তাবলিগ জামাত আয়োজিত ৫৫তম বিশ^ ইজতেমার দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মাওলানা সাদপন্থি একাধিক মুরব্বি। শেষ পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে গতকাল শনিবার দুপুর থেকেই বাস, ট্রেন, ট্রাক, লঞ্চ, নৌকাযোগে দলে দলে ইজতেমাস্থলে আসতে শুরু করেছেন ঢাকা, গাজীপুরসহ আশপাশের জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিদের এই ঢল অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন আয়োজক কমিটির মুরব্বি মো. হারুনর রশিদ। এই পর্বের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন দিল্লি মারকাজের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা জামশেদ। এর আগে হেদায়েতি বয়ানও দেবেন তিনি।

গতকাল শনিবার সরেজমিনে ইজতেমা মাঠ ঘুরে দেখা যায়, পুরো ময়দান এলাকার সামিয়ানার নিচে লাখো মুসল্লি তাদের নিজ নিজ খিত্তায় অবস্থান নিয়ে ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল রয়েছেন। জিকির-আসকার, বয়ান- আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে মুখরিত টঙ্গীর তুরাগ তীর। গতকাল বাদ ফজর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা মুরসালিন ইমান, বাদ জোহর বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা আ. সাত্তার মেওয়াতী, বাদ আছর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা মোশারফ।

১০ জোড়া যৌতুকবিহীন বিয়ে : টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ^ ইজতেমার দ্বিতীয় দিন শনিবার বাদ আসর ১০ জোড়া বর-কনের যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়কারী মো. সায়েম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পারস্পরিক সম্মতিতে বররা ইজতেমা ময়দানে একটি বিশেষ কামড়ায় উপস্থিত হন আর কনেরা নিজেদের গৃহে অবস্থান করেন। স¤পূর্ণ শরিয়ত মেনে তাবলিগের রেওয়াজ অনুযায়ী বিয়ে শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে খুরমা খেজুর বিতরণ ও দোয়া করা হয়। মাওলানা শামীম তাদের বিয়ে পড়ান। ইজতেমার প্রথম পর্বে ৯৬ জোড়া বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। এর আগে ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিশ^ ইজতেমায় যৌতুকবিহীন বিয়ে বন্ধ ছিল।

ইজতেমায় বিদেশি মুসল্লি : ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনই ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, লিবিয়া, আফ্রিকা, লেবানন, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ইরাক, সৌদি আরব, ইংল্যান্ডসহ বিশে^র ৩২টি দেশ থেকে প্রায় আড়াই সহ¯্রাধিক মুসল্লি যোগ দেন। ভাষাভাষী ও মহাদেশ অনুসারে ময়দানে পৃথক তাঁবুতে রয়েছেন মেহমানরা। তাদের জন্য আলাদা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।

আরো ৫ মুসল্লির মৃত্যু : শুক্রবার রাত ও গতকাল সকালে ইজতেমায় যোগ দিতে আসা ৫ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নোয়াখালীর হাতিয়া থানার আজিম নগরের মফিজুল ইসলামের ছেলে মো. মনির উদ্দিন (৪০)। এর আগে শুক্রবার রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার উসমানপুর এলাকার হুমায়ুন কবীর (৬৫), ঝিনাইদহ সদর থানার কালাহাট গোপালপুর গ্রামের আ ফ ম জহুরুল আলম (৬২) ও ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার নলভোগ এলাকার ইলিয়াস মিয়া (৮৫)। এ ছাড়া হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার কামালের পাড়া গ্রামের আবদুস ছোবহান (৬৫)।

মোনাজাতে অতিরিক্ত মাইক : আখেরি মোনাজাত প্রচারের জন্য গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও গাজীপুর জেলা তথ্য অফিস বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। জেলা তথ্য অফিস জানিয়েছে, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ইজতেমা ময়দান থেকে আবদুল্লাহপুর ও বিমানবন্দর রোড পর্যন্ত এবং গাজীপুর জেলা তথ্য অফিস ইজতেমা ময়দান থেকে চেরাগাআলী, টঙ্গী রেলস্টেশন, স্টেশন রোড ও আশপাশের অলিগলিতে পর্যাপ্ত মাইক সংযোগের ব্যবস্থা করেছে।

যানবাহন চলাচলে নির্দেশনা : দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে লাখো মুসল্লির সমাগম নির্বিঘ্ন করতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। জিএমপি কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ইজতেমায় মুসল্লিদের আসা-যাওয়া নির্বিঘ্ন করতে শনিবার ভোর রাত ৪টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর চৌরাস্তায় এবং ঢাকার মহাখালী থেকে বন্ধ করে দেয়া হবে। উত্তরবঙ্গ থেকে আসা গাড়ি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ি থেকে বন্ধ করে দেয়া হবে। এ ছাড়া টঙ্গীমুখী সকল শাখা সড়কগুলো বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ ট্রাফিক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। পুলিশ কমিশনার বলেন, ইজতেমায় যোগ দেয়া বৃদ্ধ মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য শাটল বাসের ব্যবস্থা থাকবে। ইজতেমাস্থল থেকে চৌরাস্তামুখী ৩০টি এবং মহাখালীমুখী ৩০টি বাস চলাচল করবে।

বিশেষ ট্রেন : টঙ্গীর রেলওয়ে স্টেশনের কর্মকর্তা জানান, আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে রেলওয়ে আখাউড়া, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। মোনাজাতের আগে ও পরে সব ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। ইজতেমায় আগত যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে অতিরিক্ত টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকল আন্তঃনগর ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রা বিরতি করবে। এ ছাড়া ১৬টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা থাকছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj