সাংস্কৃতিক উৎসব : নন্দনমঞ্চে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পালাগান

রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চে শীতের সন্ধ্যাটি ছিল উৎসব মুখর। পুরো আঙ্গিনাজুড়েই ছিল প্রাণের কলরব। এ কলরব শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চসহ মাঠজুড়ে ছড়িয়েছে। দর্শকরা উপভোগ করছেন দেশের প্রতি জেলার শিল্পীদের নৃত্যগীতে সজ্জিত আঞ্চলিক পরিবেশনা। শেকড়ের সংস্কৃতির স্রোতধারায় এভাবেই মুখরিত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব।

গতকাল কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পালাগান পরিবেশনা দর্শকদের বেশ উদ্বেলিত করল। তারা প্রাণের আবেগে একেকটি পরিবেশনার পর করতালি দিয়ে শিল্পীদের অভিবাদন জানায়।

উৎসবের ষোলতম দিনে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। পরে একাডেমির পরিবেশনায় অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পরিবেশনা। শিল্পকলা একাডেমির উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পীদের পরিবেশনায় সমবেত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত। একক আবৃত্তি পরিবেশন করে শিল্পী এস এম মহসিন, সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে বাংলাদেশ রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী সংস্থা, গোলাম সারোয়ার এবং মীর বরকতের পরিচালনায় বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে কণ্ঠশীলন এবং অন্তর দেওয়ানের পরিচালনায় সমবেত নৃত্য পরিবেশিত হয়।

সিলেট জেলার পরিবেশনায় জেলা ব্রান্ডিং ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, পার্থ প্রতিম দাসের নৃত্য পরিচালনায় ‘আবার আসিব ফিরে’ নৃত্যালেখ্য পরিবেশন করে শিল্পী মিথিলা চৌধুরী শৈলী, জ্যোতি সোম নুপুর, উপাসনা চৌধুরী মেধা, প্রিয়া চন্দ, সুপ্রিয়া সরকার, জাওয়াতা আফনান রোজা, অনন্যা মনির লামিয়া, সারাফ ওয়ামিয়া রহমান, নিঝুম রায় সুইটি এবং ডেইজী ঘোষ। পূর্ণিমা দত্ত রায় এবং প্রতীকের পরিচালনায় শাহ আব্দুল করিমের গান ‘কোন মেস্তরী নাও বানাইলো এবং রাধারমণ দত্তের গান ‘জলে যাইওনা গো’ দুটি সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে শিল্পী বিপ্লব দেবনাথ, সজীব কান্তি দাস, সিমন সায়ন চৌধুরী, সুমাইয়া ইসলাম শোভা, তাসনোভা জহির মেঘলা, তন্নী রায়, শ্রাবন্তী ধর, অনুপমা বণিক, প্রিতম সূত্রধর এবং অয়ন পাল অপু। যন্ত্রে আঞ্চলিক লোকগানের সুর তোলেন শিল্পী প্রতীক এন্দ, নৃপন্দ্র দেব লনু, কৃতি সুন্দর দাস এবং প্রণয় দাস। একক সঙ্গীত পরিবেশন করে জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী আকরামুল ইসলাম এবং উপজেলা পর্যায়ের শিল্পী পংকজ দেব।

বরিশাল জেলার পরিবেশনার শুরুতে জেলা ব্রান্ডিং ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, ‘বাংলার হিন্দু বাংলার বৌদ্ধ এবং বরিশালের আঞ্চলিক গান

‘বরিশালে আইয়ো বন্ধু আইয়ো মোগো বাড়ি’ সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মৈত্রী ঘরাই, রিমি সাব্বীর, রফিকুল ইসলাম, কাজী মামুন, জহুরুল হাসান, তরিকুল ইসলাম, কমল ঘোষ, রিয়া বর্মণ, সুপ্রভা সরদার, দেবপ্রিয় কুণ্ড এবং নিক্কন বিশ্বাস। এস আই শফিকের নৃত্য পরিচালনায় ‘ধান নদী খাল, এই তিন মিলে বরিশাল এবং পলাশী থেকে অগ্রযাত্রা’ সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে শিল্পী শফিক সুজন, গোপাল, অনামিকা, অনন্যা, তুলি, রূপকথা, ফারজানা, ঐশি ও ফারাবি। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী জহুরুল হাসান সোহেল এবং উপজেলা পর্যায়ের শিল্পী মৈত্রী ঘরাই। যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী নিক্কন চৌধুরী।

নাটোর জেলার পরিবেশনার শুরুতেও জেলা ব্রান্ডিং ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, ‘নাটোর আমাদের ঐতিহাসিক স্মৃতির প্রিয় আবাসভূমি এবং আমৃত্যু সংগ্রামী চেতনার ব্যক্তিত্ব’ সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী মাসমিয়া রহমান উপমা, পদ্ম ইয়াসমিন, রুকাইয়া জাহান, অন্বেষা কর্মকার, পিয়ালী ধর, সজল রায়, ইশতিয়াক মাহমুদ, রনী দে, সাদমান সাকিব এবং শাহরিয়ার হোসেন সিমান্ত। ‘পুবের আকাশে সূর্যের হাসি এবং মানবো না বন্ধনে, মানবো না শৃঙ্খলে’ সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে শিল্পী সৌরভ, মাহফুজ, শান্ত, ইন্না, বৃষ্টি, পপি, নিতু, পূজা, তোওফা এবং মৌ। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী মো. ফরিদুল ইসলাম এবং উপজেলা পর্যায়ের শিল্পী মো. আব্দুল আওয়াল। যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করে শিল্পী মো. আব্দুল আওয়াল, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. জাহাঙ্গীর আলম মিলন এবং শ্রী বাবুল দাস।

উল্লেখ্য, দেশের ৬৪টি জেলা, ৬৪টি উপজেলা এবং জাতীয় পর্যায়ের পাঁচ হাজারের অধিক শিল্পী ও শতাধিক সংগঠনের অংশগ্রহণে চলছে ২১ দিনব্যাপী এই শিল্পযজ্ঞ। উৎসবে প্রতিদিন ৩টি জেলা, ৩টি উপজেলা, জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী ও সংগঠনের পরিবেশনার পাশাপাশি একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে একটি লোকনাট্য পরিবেশিত হচ্ছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj