ছয়-সাত দিন টেস্ট খেলতে চান মুশফিক

রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের মি. ডিপেন্ডেবল খ্যাত টেস্ট প্লেয়ার মুশফিকুর রহিম ৬-৭ দিনব্যাপী টেস্ট ম্যাচ খেলতে আগ্রহী। আন্তর্জাতিক সূচির চাপ ও খেলোয়াড়দের ক্লান্তি কমাতে টেস্টকে ৪ দিন করার পরিকল্পনা আইসিসির। তবে এর বিরোধিতা করেছেন সাবেক ও বর্তমান অনেক ক্রিকেট তারকাই। রিকি পন্টিং, শচিন টেন্ডুলকার, ইয়ান বোথাম, মাহেলা জয়াবর্ধনে, হাশিম আমলা থেকে শেন ওয়াটসন, বিরাট কোহলি- সবাই এর বিপক্ষে অবস্থান করেছেন। তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক থাকা মুশফিকুর রহিমও। অন্যদের মতো তিনিও মনে করেন টেস্ট ম্যাচ ৫ দিনই থাকা বাঞ্ছনীয়। ৪ দিনের টেস্টে করা হলে টেস্টের গুরুত্বটা হারিয়ে যাবে।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে রাজশাহী রয়্যালসের বিপক্ষে ফাইনাল হেরে শিরোপা বঞ্চিত হওয়া খুলনা টাইগার্স অধিনায়ক মুশফিক ৪ দিনের টেস্ট প্রসঙ্গে বলেন, ‘৪ দিনের টেস্ট হওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। অন্য যারা ৫ দিনের টেস্টকে সমর্থন করেছেন আমিও তাদের সঙ্গে একমত। টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যই ৫ দিনের। আমার তো ইচ্ছে করে ৬/৭ দিন টেস্ট খেলতে, টু বি অনেস্ট। বেশির ভাগ ম্যাচেই কিন্তু ৫ দিনে চা বিরতির পর গিয়ে ফল হয়েছে। ৪ দিন হলে তো ফল হওয়ার সুযোগ থাকবে না। হয়তো খেলার ধরনে কিছু পরিবর্তন থাকবে। আমি মনে করি, টেস্ট ক্রিকেট অবশ্যই ৫ দিনের হওয়া উচিত।’

কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যে এটা শুরুই হয়েছে ওখান থেকে আর পরিবর্তন করা উচিত না।

ওদিকে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি। এ প্রসঙ্গে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান বলেন, এটা অবশ্যই ভালো সাইন। শুধু দেশীয় ক্রিকেটার হিসেবে না, সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে আমার মনে হয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের অনেক বড় একটা স্টেজ, যেখানে আমাদের বাংলাদেশকে কেউ ঊর্ধ্বমুখী করবে।

আইসিসি ফিউচার ট্যুর প্ল্যানের (এফটিপি) বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালে। এর মধ্যে চলবে বিশ^ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। এরপর ২০২৩-২০৩১ সাল পর্যন্ত ফের এফটিপি ঠিক করা হবে। আর পরবর্তী পরিকল্পনায় আইসিসি টেস্ট ম্যাচকে ৫ দিনের পরিবর্তে ৪ দিনে নামিয়ে আনার কথা চিন্তা করছে। ৪ দিনের টেস্টের ব্যাপারটি চলতি বছর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনায় আনতে পারে আইসিসি। তবে ৪ দিনের টেস্টের ব্যাপারে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা এর বিপক্ষে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখার কথা জানিয়েছে।

ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণ বলা হয় টেস্ট ক্রিকেটকে। প্রায় ১৫০ বছর ধরে ক্রিকেট ঐতিহ্যের বাহক হয়ে আছে টেস্ট ক্রিকেট। তরুণ ক্রিকেটারদের টেস্ট খেলার স্বপ্ন শুরু ক্রিকেটের হাতেখড়ির পরই। তবে ক্রিকেটের বাণিজ্যিকীকরণ শুরু হতেই টেস্ট সংখ্যা কমার পাশাপাশি এসেছে কিছু মূল ঘরানায় পরিবর্তনও। অবশ্য টেস্ট ক্রিকেটে অনীহা আসা দর্শকদের জন্যও চেষ্টার কমতি রাখেনি আইসিসি। কিন্তু সম্প্রতি ৫ দিনের টেস্টকে ৪ দিনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা ক্রিকেটারদের মধ্যে বেশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj