পুলিশকে মারধর : যুবলীগ নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ১

শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক, জামালপুর : জামালপুরে দুই পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে জেলা যুবলীগের সভাপতি রাজন সাহা রাজুসহ ১১ জনের নামে মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত মো. মনিরুজ্জামান (১৯) জামালপুর শহরের বিয়ারা পলাশতলা এলাকার কামরুজ্জামানের ছেলে। সে যুবলীগের একজন কর্মী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন জামালপুর শহরের গেটপাড় এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলযোগে শহরে প্রবেশ করছিল মো. মনিরুজ্জামানসহ তিন যুবক। সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন এ সময় তাদের মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখাতে বলেন। কিন্তু মোটরসাইকেলটির কোনো নম্বরপত্র ছিল না। পরে মো. মনিরুজ্জামান ও তার লোকজন উত্তেজিত হয়ে কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকার করে। একপর্যায়ে ফোন করে মো. শুভ নামে একজনকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনে তারা। ঘটনাস্থলে এসে শুভ সার্জেন্টকে মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দিতে বলে অন্যথায় তার চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি দেয়।

পরে মুঠোফোনে জেলা যুবলীগ সভাপতি রাজন সাহার সঙ্গে সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুনকে শুভ কথা বলিয়ে দেয়। রাজন সাহা মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন সার্জেন্টকে। কিন্তু তার অনুরোধে মোটরসাইকেলটি ছেড়ে না দেয়ায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন রাজন সাহা। এ সময় সার্জেন্ট মোটরসাইকেলের কাগজপত্র না থাকায় প্রসিকিউশন (মামলা) লিখতে যান। তাকে প্রসিকিউশন লিখতে বাধা দেয় সেখানে উপস্থিত যুবকরা। তারা এসে সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন ও পুলিশ সদস্য জুবায়ের হোসেনকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে যুবকরা। একপর্যায়ে তারা আটককৃত মোটরসাইকেলের চাবিটি ছিনিয়ে নেয়। পরে তিনি দ্রুত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিত হয় ঘটনাস্থলে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ মোটরসাইকেলটি জব্দ করে এবং মো. মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলা যুবলীগের সভাপতি রাজন সাহা ওরফে রাজুসহ ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

জামালপুর সদর থানার ওসি সালেমুজ্জামান জানান, পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের সভাপতি রাজন সাহা রাজু জানান, পুলিশকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মোটরসাইকেল ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করা হলে পুলিশই উল্টো তার ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj