সিএএ আন্দোলনে রাজনৈতিক লাভ কার?

শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

কাগজ ডেস্ক : নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কী ভাবছে তার আঁচ পাওয়া গেল সা¤প্রতিক একটি সমীক্ষায়। রাজ্যের অধিকাংশ মানুষ এই আইনের বিরুদ্ধে। যদিও সমর্থকের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ভারতীয় সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) পাস হওয়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ছাত্রসমাজ প্রবলভাবে রাস্তায় নেমেছে। প্রতিদিনই চলছে বিক্ষোভ। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইনের বিরোধিতায় প্রধান ভূমিকা নিয়েছেন। তার নেতৃত্বে আন্দোলন চলছে রাজ্যে। পথে নেমেছে বাম ও কংগ্রেসও। প্রতিবাদে মুখর একাধিক অরাজনৈতিক সংগঠন। সব মিলিয়ে নয়া আইন কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনায় রয়েছে প্রবলভাবে। সিএএ আন্দোলন দেখে যদি মনে হয়, প্রায় সব মানুষই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধী, তাহলে ভুল হবে। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় আইনের বিরোধিতার সঙ্গে সমর্থনের ছবিটাও উঠে এসেছে। চলতি সপ্তাহে একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত সমীক্ষা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের ৫৯ শতাংশ মানুষ আইনের বিরুদ্ধে মমতার আন্দোলনকে সমর্থন করছেন। ২ হাজারের কিছু বেশি নাগরিকের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি সমীক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর প্রতি এই বিপুল সমর্থন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কাড়ছে। রাজ্যে সংখ্যালঘু মানুষ মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ। তার দ্বিগুণ মানুষের সমর্থন পাচ্ছেন মমতা। অর্থাৎ সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মানুষকে পাশে পাচ্ছে তৃণমূল। গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে উঠে আসার পর নতুন আইন নিয়ে আন্দোলন মমতাকে অক্সিজেন দিল বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই সমীক্ষা আরো একটি বিষয় সামনে এনেছে। মমতার প্রতি যেমন সমর্থন আছে, তেমনি আইনের সমর্থকের সংখ্যা একেবারে কম নয়। বরং বলা যায়, অর্ধেক ভোটার এর পক্ষে। তাই ৫১ শতাংশ মানুষ যেমন মনে করেন, তৃণমূলকে রাজনৈতিক ফায়দা দেবে চলতি আন্দোলন। তেমনি ৪৩ শতাংশ মানুষের ভাবনা ঠিক বিপরীত। তারা বলছে, এতে সুবিধা পাবে বিজেপি। যে মেরুকরণের ফলে লোকসভা ভোটে বিজেপির বিস্ময়কর উত্থান হয়েছিল বাংলায়, সেই প্রবণতাকে আরো শক্তিশালী করছে নয়া আইন বিরোধী আন্দোলন। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মেরুকরণ আরো তীব্র হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। অধ্যাপক বিমলশঙ্কর নন্দ বলেন, ‘সমীক্ষক সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলব না। তবে মানুষের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, এ রাজ্যে নতুন আইনের খুব বেশি বিরোধিতা নেই। এতে এখানকার শাসক দল বিরাট লাভবান হবে বলে আমি মনে করি না।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj