বন্দুকের মুখে ক্রিকেট

মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২০

ক্রিকেটপ্রেমীরা শিরোনাম পড়ে হয়তো অনেকেই ঘাবড়ে গেছেন। ভাবছেন বন্দুকের মুখে ক্রিকেট আবার কি? বলছিলাম পাকিস্তান সফরে গিয়ে ক্রিকেট খেলার কথা। এর আগে পাকিস্তানের লাহোরে ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এ হামলার পর থেকে পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ ছিল। গত বছর অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সেই শ্রীলঙ্কা দলকে ঘরের মাঠে খেলতে রাজি করে পিসিবি। কিন্তু দেশে ফিরে লংকানরা পাকিস্তানের নিরাপত্তার বিষয় সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও সারাক্ষণ বন্দুকের সামনে আতঙ্কেই ছিল এমনটা জানিয়েছে। এমনকি ১৮ জানুয়ারি পাকিস্তান সফরে টাইগাররা যাবে কিনা এ বিষয় নিয়ে যত দিন গড়াচ্ছে ততই গুঞ্জন বাড়ছে। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তানে টেস্ট সিরিজ খেলতে চাইছে না। কারণ তিনটি টি-টোয়েন্টিসহ দুই ম্যাচ সিরিজের টেস্ট খেলতে এক মাস টাইগারদের পাকিস্তানে অবস্থান করতে হবে। যদিও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দলের কাছে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেছে। কিন্তু খেলতে গিয়ে যদি খেলার পরিবেশটাই না পাওয়া যায়, কঠোর নিরাপত্তার নামে মাঠ-হোটেল সব জায়গাতে দমবন্ধ এক পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে হয়। যদি সারাক্ষণ চোখের সামনে পুলিশ-মিলিটারির অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে খেলার মেজাজ কেমন থাকবে। পাকিস্তানের করাচি ন্যাশনাল স্টেডিয়াম কিংবা লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে যাওয়ার আগে কয়েক কিলোমিটার শুধু সৈন্য দল চোখে পড়বে। এমনকি স্টেডিয়ামের গেটে পৌঁছেও চোখে পড়বে বালুর বস্তার বাংকার। আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে নিরাপত্তারক্ষীর জলপাই রঙা হেলমেট। সূর্যের আলোতে বন্দুকের নলটা একটু ঝিলিক দিচ্ছে। এসবে অনভ্যস্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা লম্বা সময় ধরে কি পারবেন খেলায় মনোযোগ ধরে রাখতে? সে জন্যই বিসিবির প্রস্তাব ছিল, রুদ্ধশ্বাস আবহে বেশিদিন পাকিস্তানে না খেলে আপাতত বাংলাদেশ দল সিরিজের তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলে আসুক।

এ ছাড়া ক’দিন আগে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অসহ্য অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী। তিনি বলেছেন, কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে রীতিমতো হাঁসফাঁস করতে হচ্ছিল ২০০৩-০৪ মৌসুমে দেড় মাসের পাকিস্তান সফরে যাওয়া ভারতীয় ক্রিকেটারদের। নিরাপত্তা কর্মীদের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিলাম। প্রথম দিন হোটেলের ঘর থেকে বেরিয়ে দেখি যে একে-৪৭ হাতে দুইজন দাঁড়িয়ে রয়েছেন। একজন তাকিয়ে রয়েছে দরজার দিকে, অন্যজনের নজরে অন্য দিক। আমি তো বিরক্ত হয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের না জানিয়েই চলে গিয়েছিলাম স্থানীয় খাবার খেতে। আমাদের বন্ধু রাজদীপ সারাদেশই তা ধরে ফেলে। সে সবাইকে বলে দেয় যে, ভারত অধিনায়ক রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাবাব খাচ্ছে। বন্দুকের মুখে ক্রিকেট খেলা যায় না এ সত্য বুঝেও না বুঝার ভান করছে পিসিবি। পাকিস্তান এমনিতেই কারো জন্য নিরাপদ নয়। তাই অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের ক্রিরকটাররা নিরেপক্ষ ভেন্যুতে খেলতে আগ্রহী। টাইগারও নিরপেক্ষ ভেন্যুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে যত ইচ্ছে খেলুক এমন প্রত্যাশা ক্রিকেটপ্রেমীদের।

:: কামরুজ্জামান ইমন

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj