আইপিএলে ধোনির ভাগ্য নির্ধারণ

মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২০

ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্বকাপের পর ভারতের জার্সিতে আর নামা হয়নি সাবেক অধিনায়ক মাহেন্দ্র সিং ধোনির। বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে সর্বশেষ বার খেলেছেন ভারতকে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে বিশ্বকাপ এনে দেয়া ধোনি। বিশ্বকাপের পর স্বেচ্ছায় ক্রিকেট থেকে দূরে থাকা এ সফল অধিনায়ক ৬ মাস ব্যাট হাতে আর মাঠে নামেননি। অবশ্য বলতে গেলে দলে তাকে আর সুযোগ দেয়া হয়নি। তাই অনেকের ধারণা ভারতের হয়ে ইতোমধ্যেই শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন তিনি। বিশেষ করে তাকে ওয়ানডেতে ব্লু জার্সিতে দেখার সম্ভাবনা আর নেই বললেই চলে। তবে টি-টোয়েন্টিতে ধোনিকে আরেকবার দেখা যেতে পারে ভারতের জার্সি গায়ে। এ বছরের অক্টোবর মাসে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেখানে ধোনিকে একটি সুযোগ দেয়া হতে পারে। এমন কথা জানিয়েছেন ভারতীয় কোচ রবি শাস্ত্রী। তবে ধোনিকে আগে আইপিএল পরীক্ষায় উতরাতে হবে। আইপিএলে ভালো পারফরমেন্স করতে পারলে তবেই সুযোগ পাবেন তিনি। আগামী মার্চে বসবে আইপিএলের ১৩তম আসর। ফলে বলা যায় আইপিএলেই নির্ধারণ হবে ধোনির ভারত ভাগ্য। আইপিএলের অতীত পরিসংখ্যান বলে এখানে সফল হবেন ধোনি। তিনি ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত ১৯০টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে অবশ্য ১৭০ বার তিনি ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন।

এই ম্যাচগুলো খেলে তিনি করেছেন ৪ হাজার ৪৩২। আইপিএলে এখনো তিনি কোনো সেঞ্চুরি করতে পারেননি। তবে এখন পর্যন্ত ২৩টি হাফসেঞ্চুরি পেয়েছেন। আইপিএলে তার এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ৮৪। স্ট্রাইক রেট ১৩৭.৮৫। এই রানগুলো করতে তিনি ছয় হাঁকিয়েছেন ২০৯টি। চার হাঁকিয়েছেন ২৯৭টি। আইপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ৭ম স্থানে রয়েছেন তিনি।

এত গেল ধোনির ব্যাটসম্যান হিসেবে আইপিএলে সাফল্যের কথা। এবার আসা যাক তার অধিনায়কত্বের দিকে। ধোনি আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চেন্নাইকে এখন পর্যন্ত ৩ বার শিরোপা জিতিয়েছেন। যা যে কোনো অধিনায়কের জন্য সর্বোচ্চ।

এদিকে বিশ্বকাপে ধোনির পারফরমেন্সে খুশি হতে পারেননি অনেকে। ফলে তাকে দল থেকে বাদ দিয়ে তরুণ কাউকে সুযোগ দেয়ার দাবি ওঠে। তবে ধোনিকে বাদ দিতে হয়নি তিনি নিজেই স্বেচ্ছায় ক্রিকেট থেকে কয়েক মাসের জন্য দূরে চলে যান। ধোনি ২০১৪ সালে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দেন। এরপর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পারফরমেন্সের পাশাপাশি তার বয়স নিয়েও অনেকে কথা তুলেছেন। বর্তমানে ধোনির বয়স ৩৮ বছর চলছে। অবশ্য ধোনি যখন ২০০৭ সালে ভারতের অধিনায়কের দায়িত্ব পান তখন তিনি নিজেই অনেকটা জোর করে বুড়ো খেলোয়াড়দের দল থেকে বের করে দিয়েছিলেন। এখন নিজের নিয়মেই বন্দি পড়েছেন তিনি। ওই সময় তার কথা ছিল বেশি বয়সের একজন খেলোয়াড় ঠিকমতো ফিল্ডিং করতে পারে না। আর তার কাছে ফিল্ডিংয়ের গুরুত্ব ব্যাটিং ও বোলিংয়ের চেয়েও বেশি। কারণ একজন ব্যাটসম্যান প্রতিদিন জ্বলে উঠতে পারেন না। আবার একজন বোলার প্রতিদিন জ্বলে উঠতে পারেন না। তবে একজন ফিল্ডার ইচ্ছে করলে অনেক রান বাঁচাতে পারেন। অবশ্য তার যুক্তিতে ২০০৭ সালে সাফল্য পেয়েছিল ভারত। অভিজ্ঞ দল নিয়ে যেখানে ভারত ২০০৭ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়েছিল, সেখানে তরুণদের নিয়ে সে বছর প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘরে তুলেছিল তারা।

:: কাগজ ডেস্ক

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj