টেবিলটক : পাটপণ্যকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই…

রবিবার, ১২ জানুয়ারি ২০২০

আশরাফুল ইসলাম রানা

মডেল ও অভিনয়শিল্পী হিসেবে প্রায় ৫০টি বিজ্ঞাপনচিত্র আর ১৫-১৬টির মতো মিউজিক ভিডিও সবমিলিয়ে বর্তমান মিডিয়া ক্যারিয়ার। তবে মূল লক্ষ্য উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের উপস্থিতি জানান দেয়া। সম্প্রতি গ্লোবাল ইয়ুথ পার্লামেন্টের আয়োজনে ফিলিপাইনে এশিয়ান ইয়ুথ লিডারশিপ সামিটে তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবেও মিলেছে কাজের সেই স্বীকৃতি। সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে। বর্তমানে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে বাংলাদেশ থাইল্যান্ড বিজনেস এসোসিয়েশনেরও। বলছি পেন্টাগন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অন্তু করিমের কথা। ক্যারিয়ার, তারুণ্যের কর্মসংস্থান এবং নিজের পরিকল্পনা নিয়ে বলেছেন অনেক কথা।

মডেল না ব্যবসায়ী অন্তু করিম বেশি জনপ্রিয়?

আমার মনে হয়, ব্যক্তি অন্তু করিমই বেশি গ্রহণযোগ্য সবার কাছে। আমি মনে করি, জনপ্রিয়তা সবার একরকম স্থায়ী হয় না, আমারও হবে না। আমাকে ক্যামেরায় যেমন দেখেন, বাস্তবে ঠিক একই রকম।

তবে নিজেকে যদি বিশ্লেষণ করতে বলা হয়?

প্রথমেই বলব, আমি খুবই সাধারণ একটি ছেলে। মধ্যবিত্ত পরিবেশে ফরিদপুরে বেড়ে ওঠা। তাই সাময়িক জনপ্রিয়তার মোহে নিজেকে লোভী করে তুলতে চাইনি কখনোই। কাজের জায়গায় আমি খুবই পরিশ্রমী। আমি যে কোনো কাজই শ্রদ্ধা ও গুরুত্ব দিয়ে করি। তা যত ছোট হোক বা বড়।

তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে কতদিন ধরে ব্যবসায় সম্পৃক্ত রয়েছেন?

কম্পিউটার বিজ্ঞানে ¯œাতকত্তোর অবস্থায় বন্ধুরা মিলে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি আর রপ্তানি দিয়ে ব্যবসার হাতেখড়ি।

এরপর ধীরে ধীরে হাতেখড়ি হয়েছে বিদেশি ব্র্যান্ড স্টেশনারি, শিশু স্বাস্থ্য পণ্য বিপণনের সঙ্গে।

আমি মূলত শিশু স্বাস্থ্য ও প্রসাধনী পণ্য নিয়ে কাজ করি। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই কাজের সঙ্গে আছি। এটি জাপানিজ বেবিকেয়ার ব্র্যান্ড, নাম কোদোমো। এর বাংলাদেশের সোল এজেন্ট আমরা। সারাদেশে আমি প্রোডাক্টটাকে ছড়িয়ে দিয়েছি। আমাদের তিন বন্ধুর যতেœ গড়া প্রতিষ্ঠানের নাম পেন্টাগন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। বলতে পারেন, গত ১০-১২ বছর ধরে এই প্রোডাক্টের সহযোগিতায় কোটি কোটি শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আর বিভিন্ন প্রসাধনী, স্টেশনারি ও বাচ্চাদের বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছি।

সুপারশপসহ সারাদেশের শিশুপণ্য বিপণন বিতানে ‘লায়ন’ নামে আমাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের তৈরি শিশু প্রসাধনী পণ্য পাওয়া যাচ্ছে এখন। এছাড়া বর্তমানে পাট দিয়ে তৈরি কিছু পণ্যও বিদেশে রপ্তানি করছি আমি।

পাট নিয়ে বিশেষ আগ্রহের কারণ?

জেনে থাকবেন, গত বছর আগস্টে প্রকাশিত বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ-২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশ এখন ৪২তম বড় রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্বে যে কটি দেশের রপ্তানি আয় খুব দ্রুত বাড়ছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ। অতএব আমাদের এক সময়ের সোনালি আঁশ পাট দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে পারলে বিদেশে রপ্তানির বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।

বলা যায়, দেশের রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে পোশাক ও চামড়া খাতের পরই পাট খাতের অবস্থান। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জুলাই থেকে অক্টোবর মাসে ৩১ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের পাটপণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। যা আগের অর্থবছর (২০১৮-১৯) একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি।

একই সময়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি।

বিশ্ববাজারের চাহিদা অনুযায়ী বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে সক্ষমতার অভাবকে এই খাতের মূল সমস্যা বলে মনে করেন এ খাত সংশ্লিষ্টরা। আমি সক্ষমতার এই জায়গাটির উন্নয়ন নিয়েই কাজ করছি। পচনশীল পরিবেশবান্ধব পাটপণ্য তৈরিতে বৈচিত্র্য তাই দরকার। বিপণন ব্র্যান্ডিংয়ের উন্নয়ন করে এভাবেই পাটপণ্যকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই।

ব্যবসায়িক বৈচিত্র্য আনতে আরো কী কী কাজ করার ইচ্ছা আছে তাহলে?

সরকারি ব্যবস্থাপনায় পিপিপির তত্ত্বাবধানে গ্রামপর্যায়ে পর্যটনশিল্পের বহুমুখী সুবিধা বৃদ্ধি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরে বসেই আয়ের একটি প্ল্যাটফর্মও আমরা অবমুক্ত করতে যাচ্ছি শিগগিরই। বিনিয়োগে আগ্রহী নতুন উদ্যোক্তাদেরও সাহায্য করছে আমাদের প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি নিজেদের প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংখ্যা এ বছর ৫০০তে উন্নীত করতে চাই, বাড়াতে চাই ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বমূলক কর্মকাণ্ড।

এখন থেকে কী তবে শুধুই ব্যবসাতে মনোযোগ?

না তা হবে কেন? আমার বাবা প্রয়াত মো. গোলাম মোস্তফা আমার অনুপ্রেরণা, তিনি মুখ ও মুখোশ-এ অভিনয় করেছিলেন। আমিও তাই শিল্প-সংস্কৃতির চর্চায় নিজেকে সম্পৃক্ত অব্যাহত রাখতে চাই। পেন্টাগন ফিল্মস নামে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নতুনদের ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় কাজের সুযোগ সুদৃঢ় করে দিতে চাই।

আমাদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে ৭টা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং গোটা পাঁচেক ওয়েব সিরিজ মুক্তির অপেক্ষায়। যেহেতু এ পেশাটাকে ভালোবাসি, সেহেতু আগামীতে প্রযোজনা করার ইচ্ছা আছে।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কোনো পরামর্শ

যেটাই কাজ হিসাবে করতে চান, সেটি আগে ভালো করে জেনে বুঝে নিতে হবে। ব্যবসার ধরন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পর্যাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগে যেতে হবে। মনে হয় প্রতিক‚লতা জয়ের সাহস এবং পরিশ্রমী হলে নিজের ইচ্ছার বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়।

নতুন কোনো খবর?

নতুন খবর বলতে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চীন এবং বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে। আমিসহ চীনের কয়েকজন চলচ্চিত্র পরিচালক গত শুক্রবার এ ব্যাপারে মিটিংও করেছি। পাশাপাশি টিভি বিজ্ঞাপন, স্টেজ উপস্থাপনা এবং মিউজিক ভিডিতে দেখতে পারবেন।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj