সেরাদের সেরা : ওয়াল্ট ডিজনি

রবিবার, ১২ জানুয়ারি ২০২০

প্রিয় সব কার্টুন চরিত্র। ভাবুন তো, ওয়াল্ট ডিজনিকে ছাড়া পৃথিবীটা কেমন হতো? কেমন কাটতো আপনার শৈশব ডিজনির মজার চরিত্রগুলো ছাড়া? অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের এই অগ্রদূত আমাদের শৈশবকে রাঙিয়ে তুলতে কালজয়ী সব চরিত্র আর রূপকথার জগৎ উপহার দিয়ে গেছেন। কিন্তু এর জন্য নাছোড়বান্দা এই উদ্যোক্তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে বিশাল এক দুর্গম পথ। প্রিয় সব কার্টুন চরিত্র। ভাবুন তো, ওয়াল্ট ডিজনিকে ছাড়া পৃথিবীটা কেমন হতো? কেমন কাটতো আপনার শৈশব ডিজনির মজার চরিত্রগুলো ছাড়া?

অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের এই অগ্রদূত আমাদের শৈশবকে রাঙিয়ে তুলতে কালজয়ী সব চরিত্র আর রূপকথার জগৎ উপহার দিয়ে গেছেন। কিন্তু এর জন্য নাছোড়বান্দা এই উদ্যোক্তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে বিশাল এক দুর্গম পথ। প্রতারিত হয়েছেন অনেকবার। মুখোমুখি হতে হয়েছে কঠোর বাস্তবতার। ইতিহাসের পাতায় যা তাকে কিংবদন্তীর আসন দিয়েছে। আবার ডিজনির চরিত্রগুলোর আড়ালে ঢাকা পড়েছে অনেক নির্মম বাস্তবতা। কেমন ছিল এই কিংবদন্তীর জীবনের চলার পথ?

ডিজনির মিকি মাউস, ডোনাল্ড ডাকসহ হাজারো কার্টুন দেখেই তো কেটেছে আমাদের ছেলেবেলা। জানেন কি এসব কার্টুনের জনক সেই ওয়াল্ট ডিজনি একটি দৈনিক পত্রিকা থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন তিনি ‘যথেষ্ট ক্রিয়েটিভ’ না এই অভিযোগে। এখানেই তার ব্যর্থতা শেষ হয়নি, বরং শুরু হয়েছিল। তার সৃষ্ট প্রথম কার্টুন চরিত্র- ‘অসওয়াল্ড দ্য লাকি র?্যাবিট’-এর নির্মাণস্বত্বও (কপিরাইট) তিনি হারান। তার প্রথম গড়ে তোলা ব্যবসায় এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে তাকে দেউলিয়া বলে ঘোষণা করা হয়। যখন ডিজনি প্রথম পূর্ণর্দৈঘ্য অ্যানিমেশন চলচিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেন তখন কেউই তার এই ধারণাকে সম্ভাবনা বলেও পাত্তা দেয়নি। তাকে এমন কি নিজের বাড়ি বন্ধক রেখে তার অ্যানিমেশন চলচিত্র ‘স্নো হোয়াইট এন্ড সেভেন ডোয়ারফস’ বানাতে হয় কারণ তার কাছে যথেষ্ট পরিমাণে নগদ অর্থ ছিল না। কিন্তু যখন অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রটি রিলিজ পায় তখন তা চলচ্চিত্র সমালোচকদের কাছ থেকে বিপুল প্রশংসা পায়। চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনীর স্বত্ব $৮ মিলিয়ন ইউএস ডলারে বিক্রি করা হয় এবং তা সে সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।

উল্লেখ্য, অ্যানিমেশন জগতের এই কিংবদন্তী ছিলেন সবার থেকে আলাদা। শত বাধা অতিক্রম করে, প্রতারণা-অপমান, চাকরি না পেয়ে থাকার জ্বালা তাকে কম ভোগান্তি দেয়নি।

কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত, ধৈর্য্যধারণ এবং নিজ লক্ষে অটুট থাকা তাকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। বুকের মধ্যে স্বপ্নটাকে শুধু বড়ই করেননি এর জন্য ভালবাসা দিয়ে তাকে লালনপালনও করে গেছেন ডিজনি। কর্মজীবনে অর্জন করেছেন প্রচুর পুরস্কার।

কার্টুন জগতের এই কালজয়ী কারিগর ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ১৯৬৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর। কিন্তু আজও তিনি বেঁচে আছেন কোটি শিশু কিশোরের হৃদয়ে, বড় হবার পরও ছোটবেলার সেই রঙ্গিন স্মৃতি পিছু ছাড়ে না কারোই।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj