মোটরসাইকেল নিরাপদ রাখার উপায়

রবিবার, ১২ জানুয়ারি ২০২০

গত বছরের শুধু ব্রিটেনেই ২০ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া মোটরসাইকেলের ৭০ শতাংশই চুরি হয় বাসা থেকে। টেলিগ্রাফ পত্রিকার জরিপে দেখা যায়, চুরি হওয়া মোটরসাইকেলের চল্লিশ শতাংশই উদ্ধার করতে পারে পুলিশ, বাকিদের পাওয়া যায় না কোন হদিস। ভীতিকর পরিসংখ্যান যেখানে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বাংলাদেশের চেয়ে অনেক ভালো বলেই মনে হয়, বাংলাদেশে মোটরসাইকেল চোরদের হাত থেকে কতটুকু অনিরাপদ এবং হুমকিতে, তা তো আন্দাজই করা যায়।চেইন ব্যবহার করুন : নোঙর করার শেকলকে বলা হয় মেরিন অ্যাঙ্কর, কেস হার্ডেন্ড স্টিলের তৈরি এ ধরনে শেকল বা চেইন ব্যবহার করতে পারেন মোটরসাইকেল লক করতে। ব্র্যান্ডের চেইনের মত এরা তেমন ব্যয়বহুল নয়। তবে ব্র্যান্ডের চেইন চাইলে আমরা বরং পরামর্শ দেবো অ্যালমাক্স অথবা প্র্যাগম্যাসিস ব্র্যান্ডের চেইন নিতে। বোল্ট কাটারের সামনে সাধারণ চেইন না টিকলেও ১৬ মিলিমিটারের বেশি সলিড স্টিল চেইন ভালো সময় টিকে থাকে।

শেকল মাটি থেকে উপরে রাখুন : চেইন বা শেকল মাটিতে রাখা থাকলে চোর মাটিতে রেখে দ্রুত বোল্ট কাটার ব্যবহার করার সুযোগ পায়, খুব সহজেই চেইনের যে কোনো একটা রিং ফাঁকা করিয়ে শেকল খুলে ফেলে।

সুবিধা অনুযায়ী চেইন ফিট করুন : ফ্রেম, সামনের চাকা কিংবা পেছনের চাকা, যে কোনো একটা খুলে ফেলা সহজ, এই সহজ কাজটাই কঠিন হয়ে যাবে যখন দুটো খুলতে হবে। তাই সুবিধাজনক অবস্থায় চেইন ফিট করে চোরের কাজকে কঠিন থেকে কঠিনতর করে তুলুন।

ডিস্ক লক : ডিস্ক লক হয়তো লক হিসেবে খুব কার্যকরী না, তবে চাকাতে যখন ডিস্ক লক লাগানো হয়, তখন এতে লাথি কিংবা হাতুড়ি, যে কোনো ভাবেই আঘাত করা কঠিন হয়ে পড়ে। দুই চাকাতে ডিস্ক লক লাগান।

পার্ক করুন দৃশ্যমান জায়গায় : ভেতরের অন্ধকার গ্যারেজ থেকে মোটরসাইকেল বা গাড়ি প্রায়ই চুরি হলেও পার্কিং লট থেকে বাইক বা গাড়ি চুরির হার খুবই কম। তাই পার্কিং করার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান জায়গাকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত, সঙ্গে যদি নিজের কর্মস্থল থেকে নজরে রাখা যায়, তাহলে তো কথাই নেই।

সিকিউরিটি অ্যালার্ম : মোটরসাইকেল বা গাড়ির লকে এখন প্রায় সবাই অ্যালার্ম ব্যবহার করছে। মোটরসাইকেল অন্য কেউ টাচ করলেই তীব্র শব্দে অ্যালার্ম বেজে উঠে চোরকে যেমন ভড়কিয়ে দেয় তেমনি আশপাশের মানুষকে সচেতন করে তোলে।

ডাটা ট্যাগ : ডাটা ট্যাগের কারণে হয় চার-পাঁচ হাজার টাকা খসবে আপনার পকেট থেকে, যাবে প্রতি মাসেই আরো কিছু তবে আপনাকে আশ্বস্ত করতে বলা যায়, এই প্রযুক্তি ব্যবহারে নব্বই শতাংশ পর্যন্ত মোটরসাইকেল নিরাপদ হয়ে যায় চোরদের হাত থেকে। মোটরসাইকেল চোরদের জন্য আরো বড় ভাবনার ব্যাপার হচ্ছে, ডাটা ট্যাগযুক্ত মোটরসাইকেল চুরির পর উদ্ধারের হার প্রায় শতভাগ।

ডাটা ট্যাগ স্টিকার : উপরের পরিসংখ্যানগুলো আরো ভালোভাবে জানা চোরদের, তারা ভালোভাবেই জানে এখন, ডাটা ট্যাগযুক্ত বাইক চুরি করলেও হজম করতে পারবে না,

সেহেতু তারা এ ধরণের প্রযুক্তি ব্যবহৃত বাইক চুরি এড়িয়ে চলারই চেষ্টা করবে। এখন আপনার দায়িত্ব শুধু বাইকে ডাটা ট্যাগ লাগানোই না, চোরকে জানিয়ে দেয়া আপনার বাইকটি ডাটা ট্যাগযুক্ত।

স্টিকার লাগানোর উল্টোপিঠ : পেশাদার চোর যারা, তারা একটু বেশি সাহসী হলে ডাটা ট্যাগ থাকা স্বত্বেও চুরি করবে, তারপর প্রথম যে কাজটি করবে তা হলো, ট্র্যাকারটি খুঁজে বের করে ডিজেবল করা।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj