‘অভিনয়ের মাধ্যমগুলোকে কখনো আলাদা করে ভাবিনি’

শনিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২০

গতকাল মুক্তি পেয়েছে এম সাখাওয়াত হোসেন পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘জয়নগরের জমিদার’। চলচ্চিত্রটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারজানা ছবি। তার সঙ্গে চলচ্চিত্র ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয় মেলার। লিখেছেন মেলা প্রতিবেদক

জীবনে নতুন সংযোজনা

প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক ঘরানার চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। আরেকটি বিষয়, নতুন বছরের শুরুতে প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিও এটি। সব মিলিয়ে আমার জন্য এই বছরের শুরুটা ভীষণ আনন্দের ও প্রাপ্তির। ‘জয়নগরের জমিদার’ আমার অভিনয় জীবনে নতুন সংযোজনা।

নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা

এমন একটি ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য ভালোবাসা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা দরকার। এই চলচ্চিত্রের পুরো আয়োজন ছিল অনেকদিনের। গল্প ও সময়কাল বিবেচনা করে লোকেশানগুলো নির্ধারিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের জমিদার বাড়িতে আমরা ছবির দৃশ্যায়নে কাজ করেছি। প্রত্যেক অভিনয়শিল্পীই নিজের পুরোটা দিয়ে কাজ করেছেন। এর জন্য আমাদের প্রযোজক আবু সাঈদ খান এবং পরিচালক এম সাখাওয়াত হোসেন তারা দুজন প্রশংসার দাবি রাখেন।

অর্থ লগ্নিকারীরা ডিসেন্ট্রালাইজড

বর্তমানে আমাদের চলচ্চিত্র কিছুটা অস্থিতিশীল সময় পার করছে। এর জন্য কিছু কারণও রয়েছে। যেমন, দেশীয় চলচ্চিত্রের অর্থ লগ্নিকারীরা ডিসেন্ট্রালাইজড হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে হলের সংখ্যা প্রতিনিয়ত কমছে। এক সময় প্রায় ১ হাজার ৩০০-র মতো হল ছিল। এখন তা ২৫০-তে এসে দাঁড়িয়েছে। অনেক স্বনামধন্য প্রেক্ষাগৃহগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ছবি প্রদর্শনের জন্য যদি হলই না থাকে তবে তো ছবির নির্মাণ সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমবে।

গল্পটি ভিন্ন ধাঁচের

এই চলচ্চিত্রের গল্পটি সমসাময়িক ভাবনার এবং ভিন্ন ধাঁচের। নির্মাণশৈলীর দিক থেকেও কিছুটা আলাদা। আমার মতে, এই চলচ্চিত্রটি আমাদের ইতিহাস ও শেকড়ের কথা বলবে। মৌলিক গল্প ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে আমার মনে হয়, চলচ্চিত্রটি দেখে দর্শক বিমুখ হবেন না। তারা সিনেমাটিকে ইতিবাচকভাবে নেবে বলে আমি আশাবাদী।

অভিনয় আমার প্রাণের স্পন্দন

দর্শক নাটকে আমাকে যেমন বৈচিত্র্যময় চরিত্রে দেখেছেন ফিল্মেও আমার সেই চেষ্টাটাই অব্যাহত থাকবে। এখন থেকে চলচ্চিত্রে নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছা আছে। সত্যি বলতে কী, আমি অভিনয়ের মানুষ, অভিনয় আমার প্রাণের স্পন্দন।

আমি কখনো অভিনয়ের মাধ্যমগুলোকে আলাদা করে ভাবিনি। আমার কাছে কাজটাই মূল কথা। তাই সবগুলো মাধ্যমেই নিরলসভাবে কাজ করতে চাই। অভিনয়ের মধ্যেই বেঁচে থাকতে চাই।

ফিল্ম ফেস্টিভালে ‘মালা ভাবী’

মিজানুর রহমান লাবুর চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মালা ভাবী’। এটি এবারের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র রাজস্থান ফিল্ম ফেস্টিভালে নির্বাচিত হয়েছে। পাপ-পুণ্য ও কর্মফলের সঙ্গে প্রকৃতির অতিপ্রাকৃত সংযোগ এমন একটি ভাবনায় চলচ্চিত্রটি নির্মিত। এই কাজটিও আমার ভীষণ পছন্দের একটি কাজ।

নতুন বছরে প্রত্যাশা

নতুন বছরের প্রত্যাশার একটাই, অগুনিত দর্শকের পদচারণায় আমাদের স্তব্ধ হলগুলো আবারো মুখরিত হয়ে উঠবে।

সাম্প্রতিক কাজ

বর্তমানে বেশকিছু কাজ করছি। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের বিশেষ নাটক ‘সত্য গল্পের অসত্য উপাখ্যান’-এ কাজ করেছি। নাটকটি রচনা করেছেন পান্থ শাহরিয়ার এবং পরিচালনা করেছেন মাসুদ চৌধুরী।

এ ছাড়া কায়সার আহমেদের পরিচালনায় দীপ্ত টেলিভিশনের ধারাবাহিক নাটক ‘বকুলপুর’, সৈম্য নজরুলের পরিচালনায় দুরন্ত টেলিভিশনের ধারাবাহিক ‘মেছো তোতা গেছো ভূত’, ধারাবাহিক নাটক ‘আরশীনগর’, অরণ্য আনোয়ারের রচনা ও পরিচালনায় ‘চান্দের বুড়ী নোয়াখালী’সহ আরো কিছু খণ্ড নাটকে কাজ করছি।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj