তুমি রবে নীরবে : জারিফ এ আলম

শনিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২০

কলেজের সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র সাগর। প্রতিদিন সকাল ৮টায় ঘুম ভাঙে তার। আজ ঘুম ভাঙতেই মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠল।

পরপর দুবার রিংটোন বাজল। আলস্যতার কারণে রিসিভ করা হয়নি। তৃতীয়বার সাগর চোখ ডলতে ডলতে ফোন রিসিভ করল- কে?

মেয়েলি কণ্ঠ মিষ্টি হেসে বলল- সাগর ভাইয়া, আমি রুদমিলা। ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি।

– হ্যাঁ চিনেছি, কেমন আছো, মিলা?

– ভালো আছি, আপনি?

– ভালো।

– আজ কলেজে আসবেন না?

– না, আজ বাসায় অনেক কাজ আছে তো, তাই যেতে পারব না।

– আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে রাখি।

– না না ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই কী বলবে বলো…।

– কলেজে এলে তবেই বলব।

সাগর একটু চিন্তা করে বলল- ঠিক আছে। আমি কাজ সেরে চলে আসব। তবে একটু লেট হবে।

রুদমিলা মিষ্টি হেসে ধন্যবাদ জানিয়ে ফোন রেখে দেয়।

২.

সাগর যথাসময়ে সাইকেল নিয়ে কলেজে উপস্থিত হয়। কলেজের আমতলায় এসে বসে। তারপর রুদমিলাকে ফোন দেয়। সাগর বলল- হ্যালো, রুদমিলা, তুমি কোথায় ?

রুদমিলা বলল- আমরা তো কলেজেই আছি। আপনি কোথায়?

– আমি তো আমতলায়।

– একটু দাঁড়ান আমরা আসছি। আমার এক বান্ধবীকে নিয়ে যাচ্ছি।

– আচ্ছা ঠিক আছে, এসো।

এই বলে সাগর ফোন কেটে দেয়। আর ভাবতে থাকে- কী বলতে পারে রুদমিলা!

মিনিট কয়েকের মধ্যে রুদমিলা এলো। সে সাগরকে দেখেই স্নিগ্ধ হেসে বলল- কেমন আছেন ভাইয়া?

সাগর উত্তরে বলল- ভালো আছি, তুমি কেমন আছো?

– জি, এইতো ভালো। তাছাড়া আপনার সঙ্গে দেখা হলো, তাই বেশ লাগছে।

তারপর রুদমিলা তার বান্ধবীকে সাগররের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

পরিচয়পর্ব শেষে সাগর রুদমিলাকে বলল- কি যেন বলতে চেয়েছিলে?

রুদমিলা এবার একটু মৃদুস্বরে হেসে বলল- ধীরে ভাইয়া। একটু স্থির হোন। বলব তো, এত চিন্তা করার কিছু নেই।

– এখন তো বলতে পারো।

এরপর পরস্পর কথা চলল দীর্ঘসময়।

এভাবে প্রতিদিন কথা চলতে লাগল ওদের। কখনো কখনো সরাসরি কখনো আবার ফোনে। রুদমিলা আর সাগর হয়তো তাদের প্রতিশ্রæতির কথাও ভুলে গেল। তারা মাঝে মাঝেই ‘ভিক্টোরিয়া ফুডজোনে’ যায়। সাগর অবশ্য চিকেন ফ্রাই পছন্দ করে। কিন্তু টাকা না থাকলে যা হয় আর কি। রুদমিলার পছন্দ পেস্ট্রি আর ফুচকা। তাই রুদমিলার সঙ্গে সাগরকেও ফুচকা খেতে হয় মাঝে মাঝে।

এসব নিয়ে সাগরের বন্ধুরা সাগরকে প্রচুর খ্যাপাত। বিশেষ করে মনির আর আরমান। সাগর অবশ্য বেশি কিছু বলত না। শুধু বলত- ধুর, তোরা বেশি বেশি ভুল বকছিস!

এভাবেই ওদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়।

৩.

কিছুদিন যাবৎ দুজনের মাঝে কথা হয় না। ফোন বন্ধ থাকে রুদমিলার।

সাগর কলেজে গিয়ে রুদমিলার এক বান্ধবীর কাছ থেকে জানতে পারল- ওরা নাকি টাঙ্গাইল থেকে কুমিল্লা চলে গেছে। ওর বাবা নাকি সরকারি চাকরি করে, তাই সেখানে বদলি হয়েছে।

সাগর যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ল। কী বলে এসব!

তারপর থেকে সাগর থানাপাড়ার যে বাসাটায় রুদমিলারা থাকত, মাঝে মাঝে সেখানে যেত। সুযোগ পেলে এখনো যায়। কারণ রুদমিলা যদি কোনোদিন ফিরে আসে। রুদমিলার ফোন নম্বরটা সংগ্রহ করার অনেক চেষ্টা করেছে সে। কোনো লাভ হয়নি। ওর বান্ধবীরা বলেছে- রুদমিলা নাকি মোবাইলও চেঞ্জ করেছে।

তবু সাগরের বিশ্বাস কোনো একদিন সে রুদমিলার দেখা পাবেই। কারণ সে আর কিছু না পেলেও অন্তত ভালোবাসার আস্বাদ তো পেয়েছে।

সাগর এখনো রুদমিলার জন্য অপেক্ষমাণ। কারণ রুদমিলা প্রতিটি প্রহর নিভৃতে দেখা করে যায় সাগরের সঙ্গে। এখনো তার এই বিশ্বাস!

:: রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj