ভ্র ম ণ : প্যাসিফিকে পাঁচ রজনি

শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি ২০২০

ইকতিয়ার চৌধুরী

[ পর্ব : ৬ম ]

ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সংক্ষিপ্ত নাম ছিল ক্যাভিলম। মিইয়ে ক্যাভিলমে আমার সহপাঠী ছিল। একটি ঘটনায় ওকে আমার আজো মনে আছে। আমাদের সঙ্গে ফরাসি শিখত মিশরের হামদি। পেশায় উকিল। মাত্র ছয় সপ্তাহ ফরাসি শেখার পর দেশে ফেরার আগে হামদিকে আমরা বিদায় সংবর্ধনা দিচ্ছিলাম। শ্রেণিকক্ষে। আয়োজনটি এরকম সবার পক্ষ হতে মিইয়ে ওকে ফুলের তোড়ায় বিদায় শুভেচ্ছা জানাবে আর আমরা তখন শ্যাম্পেন ঠোকাঠুকি করব। মিইয়ে ওর কাজটুকু সেরে প্রথানুযায়ী গাল বাড়াল হামদির গালে ছোঁয়াতে। হামদি এতই অপরিশোধিত যে একজন ফ্যাশনদুরস্ত তরুণীর আহ্বানে আড়ষ্ট হয়ে গাল সরিয়ে নিল। প্রত্যাখ্যানের লজ্জায় লাল হয়ে গেল মিইয়ে। হামদির সঙ্গে ওর কোনো ঘনিষ্ঠতা ছিল না। আমরাই ওকে দায়িত্বটি দিয়েছিলাম।

মিইয়ে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী। ওর মা ইংরেজির প্রফেসর। মিইয়েও চমৎকার ইংরেজি জানে। আমরা ফরাসি বাদ দিয়ে সব সময় ইংরেজি বলতাম। ওর টোকিও ফেরার আগের রাতটি ছিল বিষণœ। রাত ২টার পর ক্যাভিলমের পাশে একটি বুলেঞ্জেরির (পাউরুটি-কেকের দোকান) সামনে দাঁড়িয়েছিলাম আমরা। কিছুক্ষণ আগে ফাঁকা রাস্তায় ছোট একটি নাচের আসর থেকে ফিরেছি। মিইয়ে আমাকে আস্তে করে বলল, তুমি যদি কোনোদিন জাতিসংঘে তোমাদের মিশনে কাজ কর তবে হয়তো আবার আমাদের দেখা হতেও পারে।

জিজ্ঞাসা নিয়ে তাকিয়ে থাকি। বলি, কেন টোকিওতে করলে হবে না।

না, তা নয়। আমার খুব ইউএন হেডকোয়ার্টারসে চাকরির ইচ্ছে।

মিইয়ের সঙ্গে আমার আর দেখা হয়নি। সে ইউএন জব করে কি না জানি না। আর আমারও কখনো জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কাজের সুযোগ হয়নি।

তাদের বলি, এক্সকিউজ মি। তোমরা কি সাগরে যাচ্ছ?

হ্যাঁ।

আমার নাম জানিয়ে ওদের বললাম, বাংলাদেশ থেকে এসেছি। দেখে তো মনে হচ্ছে তোমাদের দেশ জাপান। ঠিক বলেছি কি?

মেয়ে দুটোর ইংরেজি তত সচল নয়। সংক্ষেপে উত্তর দেয়, হ্যাঁ।

তা কোনো অঞ্চল?

ইওকোহামা।

ইওকোহামাতে আমার যাবার সুযোগ হয়নি। তবে ওসাকায় গেছি। সেখানকার দুই সপ্তাহে হিরোশিমা কিয়েটো দেখেছি। তোমরা কি কখনো বাংলাদেশে গেছ?

মেয়ে দুটো হাসে। মাথা নাড়িয়ে জানায়- যায়নি। আমি অবশ্য তা প্রশ্ন করার আগেই ধারণা করেছি। তারপরও প্রশ্ন করার কারণ বেড়াতে বেরিয়ে আশপাশের মানুষজনের সঙ্গে আমি কথা বলার চেষ্টা করি। তাতে অনেক কিছু জানা যায়। সময়ও কাটে আর তাদের অনেকে খুশিও হয় একাকীত্ব কাটল বলে। মেয়ে দুটোর ইংরেজি সচল নয় বলে জিজ্ঞেস করি ফ্রেঞ্চ জানে কিনা। তারা ভাঙা ইংরেজিতে বলল, জানে না। আমি এত কথা বলছি তারা কিছু বলছে না তা তো অভদ্রতা ভেবে একজন বলল, আমি ইয়োকো।

ইয়েকোকে অনুসরণ করল তার সঙ্গী।

আমার নাম সাচিকো।

গাড়ি চালাচ্ছে হাইড। সে ইমপ্যাকের ম্যানেজার। জাপানি। তার প্রধান কাজ হলো জাপান থেকে যেসব পর্যটকদের দল আসে পালাওয়ে তাদের গাইড করা। যেমন আজকের ট্যুরে সে আমাদের সঙ্গে থাকবে। প্যাসিফিকে আট ঘণ্টার রক আইল্যান্ডস ভ্রমণ। হাইডের শরীরের রং বাদামি। দেখতে জাপানিদের মতো নয়। তার পাশে ওয়েট। তারা আমাদের ইমপ্যাকের জেটিতে নিয়ে এলো। জেটি বলা হয়তো সর্বাংশে সত্য নয়। বরং বলা ভালো আমরা তাদের ঘাট অফিসে এলাম। সেখানে আমাদের সারাদিনের সঙ্গীদের আগেই নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ফরম পূরণ করছে। সাগরে যাবার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়া যেমন বাধ্যতামূলক তেমনি এর সঙ্গে নির্ধারিত ফিও আগাম পরিশোধ করতে হবে। ফি প্রতিজন নব্বই মার্কিন ডলার। আমি ফরম পূরণ করলাম কিন্তু তারা কোনো ফি রাখল না। বলল, দরকার হবে না। মি. রবার্টকে জিজ্ঞেস করো।

আমি কিছু বললাম না। সন্ধ্যায় রবার্টের সঙ্গে এর ফয়সালা করতে হবে। ইমপ্যাক আমাকে একটি কমপ্লিমেন্টারি পেমেন্ট রিসিপ্ট দিল। তখন আমি বললাম, আমি টাকাটা দিয়ে দিতে চাই।

আমি তো নিতে পারব না। আমার সে রকম কোনো ইনস্ট্রাকশন নেই।

জবাব দিল কাউন্টারের লোকটি। ওয়েট আমার সঙ্গেই থাকছে মোটামুটি। সে আমাকে সঙ্গে নিয়ে লাইফ জ্যাকেট, সুইমিং গøাসেস, ¯েœারকেল, মাস্ক, ফ্লিপার অর্থাৎ আজ সারাদিন সাগর অবগাহনের জন্য যা যা দরকার তা ইমপাকের স্টোর থেকে সংগ্রহ করে দিল। সারাদিনে প্যাসিফিকে আমাদের দলটি চার পাঁচটি জায়গায় যাবে। সব মিলিয়ে আঠারো উনিশ জনের দল। এর মধ্যে বোট ক্যাপ্টেন হ্যারল্ড আর ওয়েট স্থানীয়। আমি ছাড়া বাকিরা সবাই জাপানি বলেই মনে হচ্ছে। অডম্যান হয়ে এরকম একটি দলের সঙ্গে সারাদিন কাটানো কষ্টকর। যাত্রা শুরুর আগে ওয়েট বলল, স্যার আপনাকে চারটের মধ্যে কোরোরে ফিরতে হবে কথাটা কি ঠিক?

শুধু ঠিক নয়, একশ এক ভাগ ঠিক।

ওয়েটের চোখে তাকিয়ে হেসে জবাব দিলাম। ওর বয়স তিরিশ-বত্রিশের বেশি মনে হচ্ছে না। একটু আগ বাড়িয়ে কথা বলার স্বভাবও আছে বলে এর মধ্যে আমার মনে হয়েছে। আর সে যখন আমার অফিসিয়াল গাইড তখন তার তো কর্তৃত্বই রয়েছে আমাকে দেখভাল করার। জিগ্যেস করলাম, ঠিক সময়ে ফিরতে পারব তো?

আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপনাকে আমি শুধু কোরোরে নয় প্যালেশিয়ায় পৌঁছে দেব।

আচ্ছা।

কথা বলতে বলতে আমরা ঘাটে নোঙর করা স্পিডবোটে এলাম। ইস্পাতের কাঠামোর বোটটি যথেষ্ট শক্তিশালী। প্রয়োজনে তাকে প্যাসিফিকের ঝড়-ঝঞ্ঝার সঙ্গে লড়তে হবে। ডেকের উপরে শক্ত করে বসানো আসন। চারপাশে লোহার রেলিং। আমার পিঠে স্যাক। তাতে একটি তোয়ালে, সুইমিং কিটস্ আর এক বোতল পানি। আমাদের যানটি মাঝারি আকারের। বিশ-পঁচিশটি আসন সেখানে। আসনগুলো একাধারে যেমন বসার জায়গা অন্যভাবে তা আবার বক্সের মতো। এর উপরিভাগটা ঢাকনার মতো তুলে জিনিসপত্র রাখা যায়। ওয়েট আমার ব্যাগটি সেখানে ঢুকিয়ে দিল। জিগ্যেস করল, আপনি কি লাইফ জ্যাকেট পরে নিতে চান?

তার কি এখনই দরকার আছে?

পরে নেয়াই ভালো। সাবধান থাকায় ক্ষতি তো নেই।

প্যাসিফিকে তোমরা আমাদের কী দেখাবে ওয়েট?

এখানে মেরিন রিসোর্স দেখার কোনো শেষ নেই। আমরা আজ রক আইল্যান্ডস ট্যুর করব।

মনে মনে ভাবি রক আইল্যান্ডস অর্থাৎ পাথুরে আইল্যান্ডস ঘুরে কিইবা আর দেখতে পাওয়া যাবে। ওয়েট আমার মুখের পানে তাকিয়ে। সেকি আমার মনোভাব পড়তে পারছে। বলল, রক আইল্যান্ডস ট্যুরে তোমাদের প্রথমে একটি ¯েœারকেল স্পটে নিয়ে যাব। এই স্পট অলমোস্ট ভারজিন। পানির নিচে মেরিন এনভায়রনমেন্টে তোমরা সাঁতরাবে আর নানা জাতের মাছ, কোরাল আর আন্ডার সি নেচার দেখবে। উপুড় হয়ে মাথা ডুবিয়ে শান্ত নিঃস্তরঙ্গ জলে সাঁতরাবে আর রিলাক্স করবে। তা তুমি সাঁতার জানো তো?

আমি ভাবি সাতবার রামায়ণ খতমের পর এ কী প্রশ্ন।

উত্তর দিলাম, তোমার মতো অত পারদর্শী নই। তবে জানি মোটামুটি।

তোমাদের দেশে নদী আছে, সাগর?

শোন, আমার দেশ বাংলাদেশ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম বদ্বীপ। আমাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা পানিতেই। তোমাদের মতো চারপাশে সাগর নেই। তবে তটরেখা একেবারে কম নয়। সাতশ কিলোমিটার তো হবেই। তুমি কি জান পৃথিবীর দীর্ঘতম সি বিচ কোথায়?

না তো।

আমাদের দেশেই- মোটে একশ মাইল লম্বা।

ওয়েট বোঝার চেষ্টা করছে কতখানি দীর্ঘ হলে একশ মাইল হতে পারে কোনো সাগর সৈকত।

আমাদের দলের সবাই বোটে উঠে পড়েছে। কলকল করে কথা বলছে তারা। বলাই বাহুল্য মাতৃভাষায়। আমার সেখানে বোধগম্যতা নেই। সাচিকো আর ইয়োকো বাদে তারা সবাই পূর্ব পরিচিত আর সে সূত্রেই দলবেঁধে প্যাসিফিক বিহারে আসা। দলটির গড় বয়স সাতাশ-আঠাশের বেশি হবে না। হাইড আমাকে বলল, লাঞ্চে আপনার খেতে একটু কষ্ট হবে।

অসুবিধে হবে কেন? আমি তো কাঁকড়া শামুক থেকে ঘরগোশ ব্যাঙ সবই খেতে পারি।

সে জন্য নয়। গ্রুপের সবার থেকে আপনার খাবার একটু আলাদা হবে।

কেন?

কাল রাতে যখন আপনার বুকিং নিলাম তখন আর অন্য খাবার আয়োজনের সময় ছিল না।

আমার অসুবিধা হবে না।

ওয়েট বোটের নোঙর ইতোমধ্যে তুলে নিয়েছে। ক্যাপ্টেন হ্যারল্ডের হাত ড্রাইভিং হুইলে। হ্যারল্ডের কালো লম্বা শরীর। সুঠাম। বাবরি চুল। মনে হচ্ছে গালে পান। কিন্তু তা নয়। সেখানে কাঁচা সুপারি। বাংলাদেশি বনাম সুপারি, কোরোরে এখন বড় ইস্যু। আমার বিশ্বাস হ্যারল্ডের গালে শুধু সুপারি নয়। তার ঘোলা চোখ বোকা বোকা হাসি বলছে সেখানে মাড়িতে গুলের প্রলেপ। আর তা যদি নাও হয় নিদেন পক্ষে সাদা পাতা। তা না হলে এই রুদ্ধশ্বাস প্যাসিফিকের ঢেউয়ে বোটের হুইল সে ঠিক রাখবে কীভাবে। হ্যারল্ডকে আমার লাগছে পাইরেটস অব দি ক্যারিবিয়ানের জলদস্যুদের মতো। প্যাসিফিকের কেউ ক্যারিবিয়ানের জলদস্যু সদৃশ হতেই পারে। ওকে জিজ্ঞেস করি, কতদিন হলো সাগরে আছ?

নয় বছর বয়স থেকে।

নয় বছর বয়স থেকে। বুঝতে পারছ আমি কী জানতে চাচ্ছি।

হ্যাঁ। আমার বাবাও ছিল এ রকম হাই স্পিড ডাবল ইঞ্জিন বোটের কাপ্তান। আমি তখন তার সঙ্গে সাগরে কাটাতাম। নিজের হাতে জাহাজের হুইল ধরেছি একুশ বছর বয়সে।

ও তাই বলো। তা প্যাসিফিককে চেন তুমি?

চিনি।

এই যে সাগরের জলের কোথাও কোথাও নীল আর কোথাও কোথাও কালো- কেন?

আমি নিজেই এ প্রশ্নের জবাব বেশ কিছুদিন হলো খুঁজছি। তাই এই জিজ্ঞাসা। হ্যারল্ড অবলীলায় সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিল, জলের নিচে যেখানে পাহাড় সেখানে পানি কালো। মনে হয় ছায়া পড়ে আছে। আর যেখানে পাহাড় নেই-বালি, সেখানকার পানি নীলাভ।

ও গ্রেট! এ মিলিয়ন ডলার অ্যানসার।

আমার মন্তব্য শুনে হ্যারল্ড হাসে। তার চোখে কালো চশমা। শরীরে হাওয়াই শার্ট। বাতাসে শার্ট ফুলে উঠেছে আর সেই সঙ্গে উড়ছে বাবরি চুল। তার দৃষ্টি সামনে। দূরে। তাকে লাগছে যথার্থই একজন পাইরেটের মতো। বোটের স্পিড বাড়ছে। তার সঙ্গে দুপাশে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নোনা জলের ছলাৎ ছলাৎ। কখনো কখনো তা হাওয়ার ঝাপটায় বোটে হামলে পড়ছে। একজনের শরীর ভিজে গেল তাতে। একবার দুবার। সে ভদ্রলোক সামনের আসন ছেড়ে আমার পাশের সিটে এসে বসল। দেখে জাপানি লাগে আবার লাগেও না। বললাম, খুব সুন্দর আবহাওয়া। দিনটি ভালোই যাবে মনে হয়। কী বল?

ওয়েদার ফোরকাস্ট তাই তো বলে।

আমি ভাবি এই হলো জাপানি চরিত্র। যে কোনো কাজ হোক আটঘাট বেঁধে নামবে। আর এত সাগরে পানির উথাল পাথালের মধ্যে থাকা। আবহাওয়ার খবর না নিয়ে সাগরে সে ঝাঁপ দেয় কীভাবে? বললাম, কোথা থেকে এসেছ?

টোকিও।

টোকিও- পরিচিত শব্দ। তাও বুঝতে হলো কোনো মতে। কারণ ইঞ্জিনের শব্দ আর হাওয়ার তোড়ে কথা বোঝা যাচ্ছে না।

ঘণ্টাখানেক পরে হ্যারল্ড বোটটিকে ¯েœারকেল স্পটে দাঁড় করাল। বলল, আধঘণ্টা সময় এখানে।

আমি সাঁতারের পোশাক পরে নিলাম। মুখে প্লাস্টিক মাস্ক, ¯েœারকেল, পায়ে ফ্লিপার্স। জলে নামার জন্য বোটে সিঁড়ি লাগানো। জাপানিরা নামছে। তাদের বান্ধবী কিংবা স্ত্রীদের অধিকাংশেরই সারা শরীর উদোম। সেখানে শুধু এক টুকরো প্যান্টি আর ব্রা। কারো কারো পরনে সুইমিং কস্টিউম। ছোট্ট একটি পাথুরে আইল্যান্ডের গা ঘেঁষে এই ¯েœারকেল স্পটটি। আইল্যান্ডটিকে পাথুরে পাহাড় বলাই শ্রেয়। পালাওয়ে এরকম রক আইল্যান্ডের সংখ্যা আশি নব্বইটি। বোট থেকেই স্বচ্ছ পানির নিচে কোরাল নেচার দেখতে পাচ্ছি। আমি সিঁড়ি বেয়ে খানিকটা নেমে পিঠ দিয়ে সাগরে ঝাঁপ দিলাম।

জলে উপুড় হয়ে সাঁতার কাটছি। ধীরে। এতটাই ধীরে যে জলে আলোড়ন নেই বললেই হয়। আমার থেকে আরো খানিকটা গভীরে কোরাল ঝোপে দেখতে পাচ্ছি মাছেদের নিঃশব্দ সন্তরণ। তারা আছে নির্ভার-নির্ভয়ে। এখানে তো মাঝে মধ্যে পর্যটকদের দল ছাড়া আর কিছুর দেখা পড়ে না। সভ্যতার নির্যাতন এখানে নেই। সামুদ্রিক প্রাণীদের মনে করা অস্বাভাবিক নয় আমারাও এই সমুদ্র জগতে তাদের মতোই একজন।

সঙ্গীরা সবাই সাঁতরাচ্ছে জোড়ায় জোড়ায়। আমিই তাদের মধ্যে একমাত্র নিঃসঙ্গ। আমার সঙ্গে আমার নারী নেই। (চলবে)

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj