সারওয়ার আলী হত্যাচেষ্টা : অপরাধীদের আইনের আওতায় আনুন

শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি ২০২০

পরিবারের সদস্যদের চাপাতির মুখে জিম্মি করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলীকে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টাকারীরা জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ঘটনার সঙ্গে মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী যদি জড়িত থাকে তাহলে অনতিবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচিত করা জরুরি মনে করছি। গত রবিবার রাতে রাজধানী উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি বুদ্ধিজীবী সারওয়ার আলীর নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা সারওয়ার আলীর স্ত্রী, মেয়ে ও জামাতাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। তাদের বাঁচাতে গিয়ে ছুরিকাহত হন তাদের ভবনের দুই ভাড়াটিয়াও। ঘটনার পরপরই ভবনটির পার্কিং থেকে একটি ব্যাগে থাকা সাতটি নতুন চাপাতি, একটি মোবাইল ফোন, স্ক্রু ড্রাইভার, বৈদ্যুতিক শক দেয়ার যন্ত্র, একটি আইপ্যাড ও ভিডিও ক্যামেরার স্ট্যান্ড, সিনথেটিক দড়ি এবং কেমিক্যাল স্প্রে উদ্ধার করে পুলিশ। অকুস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মোবাইল ফোন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজে দেবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা ও আন্তরিকতার প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। সারওয়ার আলী বলেন, সন্দেহ করছি, কোনো উগ্রবাদী গ্রুপ বা জঙ্গিগোষ্ঠী আমাকে সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যেই বাসায় ঢুকেছিল। কারণ অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা ডাকাত হলে লুটপাট করত। কিন্তু তারা তা করেনি। তিনি আরো বলেন, ভবনের দারোয়ান ও সাবেক গাড়িচালকের সঙ্গে ওই দুর্বৃত্তদের যোগসাজশ রয়েছে। হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় দুজনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচজনকে আসামি করে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন সারওয়ার আলী। হত্যাচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় সারওয়ার আলীর বাড়ির দারোয়ান ও গাড়িচালককে। দীর্ঘ সময় থেকে দেশে মুক্তচিন্তা ও অগ্রসর চিন্তার শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, তরুণ-তরুণীদের হত্যার হুমকি, আক্রমণ ও প্রাণনাশের ঘটনা চলে আসছে। দেশের অগ্রযাত্রা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিপরীতে অবস্থানকারী ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারী মহল পরিকল্পিতভাবে সময়ে সময়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে নিজেদের হীনস্বার্থ হাসিলের প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে অনেকে এদের হাতে জীবন দিয়েছেন, অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পুলিশ-র‌্যাব-কাউন্টার টেররিজম-ইউনিট-সোয়াটসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিয়মিত নজরদারির পরও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে, জঙ্গি তৎপরতা কমছে না দেশে। বরং জঙ্গিরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে রাজধানীসহ সারাদেশে তাদের সন্ত্রাসী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। পুলিশি ভাষ্যমতে জঙ্গিরা অসংগঠিত ও দুর্বল হয়ে এলেও নব্য জেএমবি নামে ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা হামলা ও নাশকতার পাঁয়তারা করছে। ডা. সারওয়ার আলী একজন বুদ্ধিজীবী, মুক্তবুদ্ধি চর্চার অন্যতম ধারক ও বাহক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রসৈনিক। তাকে হত্যাচেষ্টা দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর চরম আঘাত। হত্যাচেষ্টাকারীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সারওয়ার আলী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj