সূচকের বড় পতনের নেপথ্যে গ্রামীণফোন

বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : ভয়াবহ পতনের কবলে দেশের পুঁজিবাজার। নানাবিধ উদ্যোগেও ফেরেনি ইতিবাচক ধারায়। চলতি সপ্তাহের চার কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে পুঁজিবাজারে। আগের ৩ কার্যদিবসের মতো গতকাল বুধবারও বড় পতন হয়েছে। এ দিন প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বড় পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে গ্রামীণফোন। কোম্পানিটির সূচক ২৬ পয়েন্ট কমেছে। ডিএসইর মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বড় পতন হয়েছে। এর মাধ্যমে তলানির আরো একধাপ নিচে নেমেছে শেয়ারবাজার। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২২৮ পয়েন্টে। যা ৩ বছর ৮ মাস ৬ দিন অর্থাৎ ৪৪ মাস বা ৮৯২ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনি¤œ। এর আগে ২০১৬ সালের ২ মে আজকের চেয়ে নি¤েœ অবস্থান করছিল ডিএসইর ডিএসইএক্স সূচকটি। ওই দিন ডিএসইএক্স অবস্থান করছিল ৪ হাজার ১৭১ পয়েন্টে।

গতকাল ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১৯ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯৫৪ ও ১ হাজার ৪২১ পয়েন্টে। ডিএসইর চালু হওয়া নতুন সূচক সিডিএসইটি ১০ পয়েন্ট কমে ৮৫১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ২৭৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। যা আগের দিন থেকে ৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩২৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকার।

ডিএসইতে গতকাল ৩৫১টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫১টির বা ১৫ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ২৪৯টির বা ৭১ শতাংশের এবং ৫১টি বা ১৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে লাফার্জহোলসিম সিমেন্টের। এদিন কোম্পানিটির ১৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা এডিএন টেলিকমের ১৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার এবং ১২ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক। ডিএসইর টপটেন লেনদেনে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ব্র্যাক ব্যাংক, খুলনা পাওয়ার, নর্দার্ন জুট, স্কয়ার ফার্মা, বিকন ফার্মা, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড এবং পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ১২৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৮৮৮ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২১৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৪৭টির, কমেছে ১৪৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির দর। গতকাল সিএসইতে ১৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

ব্লুক মার্কেটে লেনদেন ১২ কোটি টাকার : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লুক মার্কেটে গতকাল ১৪টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির ১২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, কোম্পানিগুলোর ৩০ লাখ ২৮টি শেয়ার ৩২ বার হাত বদল হয়েছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর ১২ কোটি ১৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩ কোটি ৬০ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে পদ্মা অয়েলের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ কোটি ৯৩ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে যমুনা ব্যাংকের।

এছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের ৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকার, বেক্সিমকো ফার্মার ৫৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকার, নাভানা সিএনজির ১৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকার, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫ লাখ ২০ হাজার টাকার, এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডের ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার, সুহৃদের ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকার, এসকে ট্রিমসের ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার, এসএস স্টিলের ৫ লাখ ১৮ হাজার টাকার, ইউনাইটেড পাওয়ারের ২৪ লাখ ২০ হাজার টাকার এবং ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ১৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj