থাইল্যান্ডে ৩৬ পণ্য রপ্তানিতে সুবিধা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশের সঙ্গে থাইল্যান্ডের বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ডিউটি ফ্রি-কোটা ফ্রি সুবিধা প্রয়োজন। আরো ৩৬টি পণ্য থাইল্যান্ডে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাণিজ্য সুবিধা দিলে উভয় দেশের বাণিজ্য বাড়বে এবং বাণিজ্য ব্যবধান কমে আসবে বলে জানিয়েছেন থাইল্যান্ডে সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভিসা প্রদান করা হলে বাণিজ্য সহজ হবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন চমৎকার বিনিয়োগের পরিবেশ বিরাজ করছে। থাইল্যান্ডের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে হেলথ সেক্টরে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন। থাইল্যান্ড যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে উন্নতমানের হসপিটাল নির্মাণ করলে বাংলাদেশ সরকার সহায়তা দিবে। এতে করে উভয় দেশে উপকৃত হবে। থাইল্যান্ডের মেডিকেল সেক্টরের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ সফর করলে বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। বাণিজ্যমন্ত্রী থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড দুদিনব্যাপী জয়েন্ট ট্রেড কমিটির (জেটিসি) ৫ম সভায় এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে। জয়েন্ট ট্রেড কমিটির ৫ম সভায় থাইল্যান্ডের পক্ষে সে দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী জুরিন লাকসানানাওসিত এর নেতৃত্ব দেন। থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমূল কোয়াওনি ও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ থাইল্যান্ডে ৪৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একই সময়ে আমদানি করেছে ৯৫২ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশ চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, সামুদ্রিক মৎস্য ও অন্যান্য প্রাণিজ পণ্য, কাগজ ও কাগজের পাল্প, সাবান, প্লাস্টিক পণ্য এবং রাবার রপ্তানি করছে। বাংলাদেশের আরো অনেক পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে থাইল্যান্ডে। রপ্তানি বাণিজ্য সুবিধা পাওয়া গেলে থাইল্যান্ডে রপ্তানি বৃদ্ধি করা সম্ভব। থাইল্যান্ড এবং বাংলাদেশ ‘ওয়ান বেল্ড ওয়ান রোড’ উদ্যোগের সদস্য, এতে উভয় দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে লাভবান হবে। উল্লেখ্য, বাণিজ্যমন্ত্রী ৩৬টি পণ্যের তালিকা থাই কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো থাইল্যান্ড সরকার সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে সভায় জানানো হয়। থাইল্যান্ডের বিনিয়োগকারীরা অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্পেশাল ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করবেন। উভয় দেশ কৃষি ও স্বাস্থ্য সেবা খাতে কারিগরি সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে একমত হয়েছে।

বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড জয়েন্ট ট্রেড কমিটির ৬ষ্ঠ সভা সুবিধাজনক সময় ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj