বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে স্বর্ণ

বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি ২০২০

কাগজ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্য সংকট এখন তুঙ্গে। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। এমন অবস্থায় সেফ হেভেন বা আপদকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ এখন বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করছে বলে মনে করছে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস।

ইরানের শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল সোলাইমানি হত্যার জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটে বাজার চাঙ্গা হওয়া শুরু করেছে। আর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়ছে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের পণ্যবিষয়ক গবেষণা বিভাগের গ্লোবাল হেড জেফরি কুরি বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় স্বর্ণ এখন হেজ (আপদকালীন নিরাপদ বিনিয়োগ) হিসেবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। জেফরি কুরির টিমের তৈরি নোটেও একই ধরনের কথা বলা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের চেয়ে স্বর্ণ এখন ভালো হেজ, এমন শিরোনামের নোটে বলা হয়েছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় স্বর্ণের বাজার চাঙ্গা রয়েছে। যে কারণে মুদ্রারও বড় আকারে দরপতন হয়েছে। যুদ্ধ বা সামরিক উত্তেজনার মধ্যে অধিকাংশ সময় এমন অবস্থা তৈরি হয়।

গোল্ডম্যান স্যাকসের ওই নোটে আরো বলা হয়েছে, নাইন-ইলেভেনের সময়ও স্বর্ণের বাজার খুব ভালো অবস্থায় ছিল। যদিও এ সময়ে মুদ্রা বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং মন্দা অবস্থায় ছিল। যে কারণে ইরান-মার্কিন উত্তেজনা আরো জোরালো হলে স্বর্ণের দামও আরো বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

গত শুক্রবারের এ হত্যাকাণ্ডের জের ধরে ২০১৫ সালে করা পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। অন্যদিকে তেহরান এ হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রতিশোধ নিলে দেশটির ৫২ স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের যে অনুরোধ করেছে বাগদাদ, তারও কড়া জবাব দেয়ার বার্তা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরই স্বর্ণ ও জ্বালানি তেলের বাজার নতুন করে চাঙ্গা হওয়া শুরু করে।

সম্প্রতি স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৫৮৮ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা গত সেপ্টেম্বরে সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলার পর সর্বোচ্চ।

তবে জ্বালানি তেলের দাম সামনের দিনগুলোয় কমে যেতে পারে বলে মনে করছে গোল্ডম্যান স্যাকস। প্রতিষ্ঠানটি তাদের নোটে বলছে, সামনের সপ্তাহগুলোয় জ্বালানি তেলের দাম আকস্মিকভাবে কমে যেতে পারে।

যদিও সা¤প্রতিক এ ঘটনার জেরে জ্বালানি তেলের ন্যূনতম মূল্যের বেশি বা ব্যারেলপ্রতি ৬৩ ডলারের বেশি দামে বেচাকেনা হচ্ছে।

এর বিপরীতে স্বর্ণের দাম আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছে গোল্ডম্যান স্যাকস। ব্যাংকটির তিন মাস, ছয় মাস এবং ১২ মাসের প্রাক্কলন প্রতিবেদনও বলছে, সামনের দিনগুলোয় প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬০০ ডলার পর্যন্ত উঠে আসতে পারে। তবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হলে স্বর্ণের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে, সেটা এখনই নিশ্চিত করতে পারছে না ব্যাংকটি।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj