ইংরেজি মাসের নামকরণের গল্প

বুধবার, ৮ জানুয়ারি ২০২০

বন্ধুরা, গত সংখ্যায় তোমাদের জানিয়েছিলাম- কীভাবে এলো ইংরেজি নববর্ষ। আজ চলো জেনে নেই ইংরেজি ১২ মাসের নামকরণের গল্পগুলো।

ইতোমধ্যেই তোমরা জেনেছো, এখন যে ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হয় তার নাম মূলত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার বা খ্রিস্টান ক্যালেন্ডার। ১৫৮২ সালে প্রথম এই ক্যালেন্ডার ব্যবহার শুরু করেন পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি। এর আগে যে ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হতো সেটি ছিল ‘জুলিয়ান ক্যালেন্ডার’। খ্রিস্টপূর্ব ৪৫ সালে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার এই ক্যালেন্ডারের প্রচলন শুরু করেন। দিনের হিসাবে সামান্য ফারাক থাকলেও মাসের নামগুলো কিন্তু দুটো ক্যালেন্ডারেই এক। তবে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের পুর্বসূরি রোমান ক্যালেন্ডারে বছর শুরু হতো মার্চ মাস থেকে। এখন যে যে নামে আমরা মাস চিনি, তার নামকরণ হয় জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের সময় থেকেই।

জানুয়ারি : ‘জানুস’ নামের একজন রোমান দেবতার নামে এই মাসের নাম রাখা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী দেবতা জানুসকে বলা হয় ‘গড অফ ডোরস’। কোনো কিছু শুরু করার দরজা। বিভিন্ন জাদুঘরে এই দেবতার দুদিকে দুটো মুখবিশিষ্ট মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়। এমনটা মনে করা হয় যে, ইনি ভূত এবং ভবিষ্যৎ দুটোই দেখতে পেতেন। তাই মনে করা হয় আগের বছরের শেষ আর নতুন বছরের শুরুর দিকে ঘোরানো তার দুই মুখ।

ফেব্রুয়ারি : অনেক কাল আগে থেকে পাশ্চাত্যে বসন্তকালের শুরুর দিকে এক ধরনের উৎসব পালন করা হতো যার নাম ছিল ‘ফেব্রুয়া’। এই উৎসবে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট সব পরিষ্কার করা হতো। এই শোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের আত্মা এবং মনেরও এক ধরনের শুদ্ধিকরণ হতো। আর এই উৎসবের নাম থেকেই মাসটির নামকরণ করা হয় ‘ফেব্রুয়ারি’।

মার্চ : মার্চ মাসের নামকরণের পেছনে দুটো গল্প আছে। আর দুটোই গড়ে উঠেছে রোমান যুদ্ধদেবতা ‘মার্স’কে ঘিরে। এই মাস থেকেই প্রবল ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে বলে এর হিংস্রতা বা প্রচণ্ডতাকে তুলনা করা হতো ‘মার্স’-এর সঙ্গে। আবার কারো কারো মতে, আগে মার্চ মাস দিয়ে শুরু হতো রোমানদের বছর। তাই এই সময়ে সব যুদ্ধের অবসান ঘটত। সেই সূত্র ধরে যুদ্ধদেবতা মার্সের নামানুসারে নামকরণ করা হয় মাসটির।

এপ্রিল : এই মাসের নামকরণ নিয়েও আছে ভিন্ন ভিন্ন মত। কেউ কেউ মনে করেন ‘দ্বিতীয়’ কথাটির লাতিন শব্দ থেকে এসেছে নামটি। আবার অনেকে মনে করেন লাতিন শব্দ ‘আপেরিরে’ যার অর্থ খোলা বা ফোটা, এর থেকে এসেছে নামটি। এর কারণ হিসেবে দেখানো হয় এপ্রিল মাসে সবকিছু নতুন করে ফোটে। প্রকৃতি সাজে এক নতুনরূপে আর সেই বিচারেই এর নামকরণ। আরেক মতে এই নামকরণের পেছনে আছেন রোমান দেবী ‘অ্যাফ্রোদিতি’।

মে : রোমানদের এক দেবী ছিলেন। তার নাম ছিল ‘মেইয়া’। তিনি দেবতা অ্যাটলাসের মেয়ে এবং মারকিউর তার ছেলে। কথিত আছে এই দেবীই ছিলেন সব শস্যের রক্ষাকর্ত্রী। তাই এই শস্য ফলনের মাসটিকে তার নামে উৎসর্গ করা হয়।

জুন : রোমানদের সবচেয়ে বড় দেবতা ‘জুপিটারের’ স্ত্রী ‘জুনো’। রোমানদের মতে তিনি বিয়ের দেবী। আর প্রাচীনকাল থেকেই এই মাসে অনেক বিয়ের অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। সেই বিবেচনায় মনে করা হয়, দেবী জুনোর নাম থেকেই এই মাসের নামকরণ করা হয়।

জুলাই : খ্রিস্টপূর্ব (যিশুখ্রিস্টের জন্মের আগের) ৪৫ সালে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার যে ক্যালেন্ডারের প্রচলন করেছিলেন তার নাম ছিল ‘জুলিয়ান ক্যালেন্ডার’। আর এই ক্যালেন্ডারের প্রবর্তক জুলিয়াস সিজারের নামানুসারেই ‘জুলাই’ মাসের নামকরণ করা হয়।

অগাস্ট : প্রাচীন রোমান ক্যালেন্ডারে এই মাসটি ছিল বছরের ষষ্ঠ মাস। তখন এই মাসটিকে ‘সেক্সটিলিয়া’ (লাতিন ভাষায় ছয়) বলা হতো। পরবর্তী সময় এই নাম পরিবর্তন করা হয় অগাস্ট নামে। জুলিয়াস সিজারের একমাত্র উত্তরাধিকারী ছিলেন অগাস্টাস সিজার। তার পর তিনিই সিংহাসনে বসেছিলেন। মনে করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম সাল নাগাদ অগাস্টাসের নাম অনুসারে এই মাসের নাম করা হয় অগাস্ট।

সেপ্টেম্বর : লাতিন ভাষায় ‘সেপ্টেম’ মানে সাত। সেখান থেকেই এসেছে এই নামটি। গ্রেগরিয়ান এবং জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে এটি নবম মাস হলেও দশ মাস বিশিষ্ট রোমান ক্যালেন্ডারে এটি ছিল সপ্তম মাস। অপরিবর্তিতভাবে সেই নামটিকেই ধরে রাখা হয়েছে পরবর্তী ক্যালেন্ডারগুলোতেও।

অক্টোবর : অক্টোবরের ক্ষেত্রেও অনেকটা একই যুক্তি খাটে। ল্যাটিনে ‘অক্টো’ মানে বোঝায় আট। রোমান ক্যালেন্ডারের অষ্টম মাস পরবর্তী সময়ে অন্যান্য ক্যালেন্ডারে হয়ে গেল দশম মাস। কিন্তু উৎস একই বলে অক্টোবর নামটিই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

নভেম্বর এবং ডিসেম্বর : নভেম্বর এবং ডিসেম্বর দুটোই এসেছে লাতিন ভাষার নবম ও দশম মাসের নাম থেকে। লাতিন ভাষায় ‘নোভেম’ মানে নয় এবং ‘ডিসেম’-এর অর্থ দশ। কিন্তু লাতিন ভাষার এই দুটো মাসই পরবর্তী সময়ে এগারো এবং বারো মাসে রূপান্তরিত হয়। আর এই ডিসেম্বর মাস থেকেই একটি বছরের সমাপ্তি ধরা হয়ে থাকে। পুরনো বছরের জরাজীর্ণতাকে পেছনে ফেলে নতুন করে নতুন বছরে বাঁচার প্রেরণা নিয়েই ডিসেম্বর মাসকে বিদায় দেয়া হয়।

:: শাহীদ হাসান

ইষ্টিকুটুম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj