গাড়ির স্টিয়ারিং নারীর হাতে নিরাপদ : সারথী ভৌমিক

সোমবার, ৬ জানুয়ারি ২০২০

ছালেহা বেগম। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম নারী গাড়িচালক হিসেবে স্বীকৃতি পান। আর তাকে গাড়ি চালানো শিখিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ছালেহা বর্তমানে ইউনিসেফ বাংলাদেশ অফিসে কর্মরত আছেন। তার পরে অনেক নারী কর্মীকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র গাড়ি চালানো শিখিয়েছে। শেষ ব্যাচে প্রশিক্ষণ নিয়ে সাফল্য পেয়েছেন মামুনী আক্তার। মামুনী বলেন, আমি যখন অনার্স পড়ি তখন টাকা না থাকায় প্রাইমারিতে চাকরি হয়নি। তাই গাড়ি চালানো শিখে এখন চাকরি করছি।

রাজবাড়ীর স্বজনকান্দার মেয়ে শারমিন আক্তার পিংকি। গ্রামের স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার পর চলে আসেন চাচির বাসায়। এরপর চাচাতো বোনের সঙ্গেই সময় কাটত তার। সেভাবে আর স্কুলে লেখাপড়ার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। জোর করে তাকে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় পিংকিং। পিংকি সব সময় চাইত নিজে কিছু একটা করার। সেই ইচ্ছাশক্তি থেকেই ব্র্যাকে তিন মাসের ফ্রি ড্রাইভিং শেখেন। এরপর শিক্ষানবিস চালক হিসেবে যোগ দেন চাকরিতে।

রিতা সরকার প্রশিক্ষণ নিয়ে কেয়ার বাংলাদেশের টাঙ্গাইল অফিসে গাড়িচালক হিসেবে যোগ দেন ২০০৬ সালের মে মাসে। ২০১২ সালে রিতা ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলে ট্রেনিং অব ইন্সট্রাক্টর প্রশিক্ষণ নেন। তার দক্ষতার কারণেই ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ তাকে ড্রাইভিং স্কুলে প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এখন রিতা সরকার ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলে মহিলা গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ দেন।

সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও ছালেহা, মামুনী, পিংকি ও রিতার মতো অনেক নারী গাড়ি চালনাকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তারা জানান, মেয়ে ড্রাইভার বলে অনেকেই রাস্তার সাইডে চাপতে চাইতো। বিশেষ করে বাস আর ট্রাকের ড্রাইভাররা কখনোই ছাড় দিত না। এছাড়া রাস্তায় মানুষের বিদ্রƒপাত্মক কথা শুনে পিছিয়ে না গিয়ে বরং নিজের মনকে শক্ত করেছেন তারা। সতীর্থদের উৎসাহে সাহস সঞ্চয় করেছেন। একটা কথাই ভেবে গেছেন সারাক্ষণ, যতক্ষণ হাতে স্টিয়ারিং ততক্ষণ খুব সতর্ক থাকতে হবে। একটু অসতর্ক হলেই ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা- যা হতে পারে কারো সারা জীবনের কান্না। গবেষণায় দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত রাস্তায় গাড়ি চালনার ক্ষেত্রে নারী গাড়ি চালকদের দুর্ঘটনার ঘটনা পুরুষদের চেয়ে অনেক কম। এদিকে ইন্টারনেট থেকে ইন্ডিয়ান টাইমসের প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ একটি জরিপ করেছে। এ জরিপের তথ্য অনুযায়ী নারীরা শুধু ভালো চালকই নয়, যত বেশিসংখ্যক নারী স্টিয়ারিং হুইল ধরছে ততই দুর্ঘটনার হার কমে আসছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের পরিচালক (এক্সিডেন্ট রিসার্স ইনস্টিটিউট) ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, সারাবিশ্বে মোট গাড়িচালক হচ্ছে পুরুষ ১ দশমিক ১৩ এবং নারী ১ দশমিক ১১ বিলিয়ন। এই পেশায় নারীরা বর্তমানে আগ্রহী হচ্ছে এবং সফলও হচ্ছে। গাড়ি চালানো ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীরা ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কম অপরাধী। বাংলাদেশে পেশাগত কাজ হিসেবে নারী-পুরুষ সবাই গাড়ি চালানো কাজ করছে, তবে তাদের দায়িত্ব এবং কাজের স্বচ্ছতা পরিপূর্ণতা হিসেবে তারা রাস্তার ব্যবহার ও প্রয়োজনীয়তা অনুসারে গাড়ির স্পিড সেফ করে চালাতে হবে, তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে যাবে।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj