সরফরাজী রঙ্গরস

শনিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২০

সরফরাজ উদ্দিন পারভেজ। পাঠক ফোরামের বিখ্যাত বন্ধু। এক সময় লিখেছেন দুই হাতে। সংগঠন সামলেছেন তখন থেকে; অদ্যাবধি আছেন সেই ধারায়। শুধু টান পড়েছে লেখালেখির হাতে। সেই হাতও আবার খুলছে। এক সময় ঊনচক্র আর শব্দজব্দ গ্যাঁড়াকলে ভোরের কাগজ পাঠকদের মগজে ঝড় তুলে জট খোলার খেলায় যে কজন লেখক অগ্রণী ছিলেন, সরফরাজ তাদের একজন। তার রসবোধেরও প্রশংসা করতে হয়। কিছু সাম্প্রতিক বিষয়ে ভার্চুয়াল সমাজে তার কাজেরই সংকলন এই ‘সরফরাজী রঙ্গরস’

৯-৬ ধারার মামলা : গরাদে পাফো নেতারা

সম্প্রতি লেখালেখি বাদ দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত ঘুরন্তিসের অভিযোগে এক হালি পাফোস (পাঠক ফোরাম সদস্য) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের নাম সফিক, সবুজ, বোরহান ও শ্যামল বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, লেখালেখি আইনের ৯-৬ ধারায় রুজু করা এক মামলায় প্রথমে গ্রেপ্তার হন সফিক ও সবুজ। সিআইডি অফিসার সুব্রত শেখর ভক্তের নেতৃত্বে একদল চৌকস পুলিশ গত ২৭ ডিসেম্বর সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর দুটি পৃথক বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় অন্য ২ লেখক আসামি মো. বোরহান উদ্দিন ও শ্যামল কুমার সরকার পালিয়ে যান। গোপন সূত্রে আসামিদের ঢাকার অদূরে ধামরাইয়ে অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। আটককৃত ২ আসামিকে নিয়ে বিকেলে ধামরাইয়ে অভিযান চালিয়ে বাকি ২ আসামিকে ধাওয়া করে পুলিশ। পালানোর প্রাক্কালে মানিকগঞ্জের বালিয়াটি এলাকা থেকে আটক করে বালিয়াটি প্রাসাদের গরাদে অন্তরীণ রাখা হয়। পরে ওই দিন বিকেলে প্রাসাদ আদালত আসামিদের ৬০০ মোহর মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন। বিকেলেই তারা মুক্তি পান। মানিকগঞ্জের বালিয়াটি প্রাসাদের গরাদ থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া দুই পাফো নেতা সফিকুর রহমান ওরফে দন্ত্যস সফিক এবং রেজাউর রহমান সবুজ। জেলগেটে মুক্তির প্রাক্কালে হাসিমুখে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন তারা। অনুতপ্ততার সঙ্গে তারা জানান, এরপর কাউকে না জানিয়ে এমন ‘ঘুরন্তিস’ আর হবে না। ছবিতে মুক্তির আনন্দে উদ্বেল সফিক ও সবুজকে দেখা যাচ্ছে। অন্য দুই আসামি বোরহান ও শ্যামল সরকার জামিন মঞ্জুর না হওয়ায় অদ্যাবধি কারান্তরীণ রয়েছেন।

খান বংশের জন্মদিন আয়োজন

আইজ (২৯ ডিসেম্বর ২০১৯) আমাগো ঢাকা পরিবারের বন্ধু, খান বংশের একমাত্র প্রতিনিধি মি. আব্দুল করিম খানের জন্মদিন। এ ব্যাপারে কারো কোনো সন্দেহ নেই। তাই সুদূর চট্টগ্রাম থেকে জন্মদিনের কেক পার্টিতে অংশ নিতে ‘বিশিষ্ট ভাইছা’ আনোয়ার আবসার উপস্থিত। অবশ্য খান ভাই আমাদের কেক খাইয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা না করে আস্ত গরু দিয়ে মেজবান খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমি একা সিদ্ধান্ত দিতে পারিনি। এতে সবার সহযোগিতা কাম্য।

মেজবানি খাওয়ার পরে না হয় একটু কষ্ট করে কইলাম, ‘এ রকম মেজবানি আরো শত বছর চালু থাকুক। আপনিও সুস্থ থাকুন। ভালো থাকুন-ভালো রাখুন। শুভ জন্মদিন।’

ঠাণ্ডাবীর উদ্ধার পর্ব

দেশের কতিপয় ভার্চুয়াল দুষ্টু বালক-বালিকার হাতে আমাদের চট্টগ্রামের বন্ধু, ঠাণ্ডাবীর নামে খ্যাত মি. রূবাইয়াত হোসেন বেলাল সম্প্রতি অপহৃত হয়েছেন। জানা গেছে, তিনি অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে কয়েকজন দুষ্টুলোক জোর করে তাকে উবারের একটি গাড়িতে তুলে উত্তর দিকে রওনা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি পাঠক ফোরাম থানায় জানালে এর সদস্যরা ওই লোকদের ধরার জন্য তৎপর হয় এবং সব থানায় জানিয়ে দেয়া হয়।

অপহৃত হবার একদিন পরই ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে টঙ্গীর মেইন রোড এলাকা থেকে পাফো বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড মি. ফারুক তাকে উদ্ধার করেন। পরে উদ্ধারকৃত ব্যক্তিকে সুস্থ-সবল অবস্থায় তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধারকৃত ব্যক্তি মি. বেলাল স্বীকারোক্তিতে জানান, ১ জানুয়ারি গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা করার জন্য তাকে অপহরণ করা হয়েছিল (ছবিতে পোস্টার খেয়াল করুন)।

বয়ান মাহফিল

৩১ ডিসেম্বর আর ১ জানুয়ারি দিনের মধ্যে একটু ‘উনিশ-বিশ’ তফাৎ আছে। যেমনটা, হালকার ওপর ঝাপসা- ঠিক একই রকম আরকি!

তেমনি করে ১ জানুয়ারি দেশের ১৮ কোটি পাবলিকের মধ্যে কম করে হলেও ৪ কোটির জন্মদিন। একদিনে কেমনে এত পাবলিক জন্মায়, তা নিয়ে বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষকরা হতবাক এবং অস্থির!

বাংলাদেশের জন্মবিরতিকরণ সামগ্রী বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জরিপের ফলাফলও অবাক করা। জরিপ বলছে- যাদের জন্মতারিখ নিয়ে গ্যাঞ্জ্যাম, সন্দেহ, মনে নাই, হিসেব রাখতে সুবিধা- কেবল তারাই ১ জানুয়ারিতে তাদের ঐতিহাসিক ‘জন্মদিন’ বলে চালিয়ে দেয়! ফলে মিষ্টি, কেকের অভাবে বাকিরা না খেয়ে পেটে হাত দিয়ে বসে থাকে। অবশ্য ১ জানুয়ারি আমার একমাত্র বউয়েরও জন্মদিন। সেটা কোন ক্যাটাগরিতে তা এখনো জানা যায়নি!

নতুন বছর, নতুনভাবে আসবে, সবকিছু পরিবর্তন হবে চিন্তা করলাম- কিন্তু ঘুম থেকে উঠে দেখি সেই পুরাতন বউ বিছানায় শুয়ে আছে!

সবাইকে (যাদের অরিজিনাল জন্মদিন) শুভেচ্ছা!

প্রসঙ্গ : টুয়েন্টি টুয়েন্টি

যে নতুন বছর এসেছে তার সঙ্গে ক্রিকেটের খুব ভালো একটা যোগসূত্র আছে। অনেক টাকা বিনিয়োগ করেই আইসিসি এ কাজটা করছে। মানে তাবৎ দুনিয়ার ৭০০ কোটি পাবলিককে তারা মদন বানিয়েছে। এতে কারো কোনো সাড়াশব্দ তো দূরের কথা, একে অন্যের সঙ্গে কথা বলবে সে সুযোগটাও রাখেনি। এতে করে আইসিসি সীমাহীন প্রশংসার দাবিদার।

দেখুন, বিশ^ সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বা সামনের দিনগুলোতেও মানুষের প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে অথবা বিনোদনের জন্য যত রকমের খেলাধুলার আবিষ্কার হয়েছে তার সবগুলো কমবেশি সব মানুষ খেলেছে, জেনেছে, দেখেছে অথবা শুনেছে। তার মধ্যে ফুটবল-ক্রিকেট বিশ^ময় পরিচিত ঈর্ষণীয়ভাবে। সে সুবাদে এ দুটো খেলার নিয়ন্ত্রক ফিফা ও আইসিসি সব সময়ই একটা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। কে কার চেয়ে এগিয়ে থাকবে তা নিয়ে চলে নানান ফন্দি-ফিকির। তবে এবার বহগুণে জিতে গেল আইসিসি। তারা এমন সিস্টেম করল- শুধু খেলায় নয়, লেখায়ও বাধ্য করেছে দুনিয়ায় সব পাবলিককে।

তো, এ ক্রিকেট খেলার একটি ফরমেট হলো- টি-টুয়েন্টি মানে টুয়েন্টি টুয়েন্টি। ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টার পরই আপনি টের পাচ্ছেন টুয়েন্টি কাহাকে বলে, ১২ মাসে বছর শেষ না হয়ে হবে টুয়েন্টি ওভারে। ৪ সপ্তাহে মাস শেষ হবে না, হবে ছয় বলে। দিন ছব্বিশ ঘণ্টায় না- প্রতি বলে বলে। যে কাউকে বলা যাবে না- ভাই এখন কটা বাজে, দুপুরে গিয়ে আম্পায়ারকে বলতে হবে- স্যার কয় বল শেষ হলো! আইসিসির সফলতা এখানেই। তারা ২০২০ কে কিনে নিয়েছে। এমনকি ফিফাকেও লিখতে হবে ২০২০, মানে আইসিসিকে অনুসরণ করতে হবে তাদেরও। স্বাগতম : টুয়েন্টি টুয়েন্টি! ধন্যবাদ পেতেই পারে আইসিসি।

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj