মুক্তিযুদ্ধের অসামান্য দলিল

শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯

জহুরুল আলম

কোনো আদর্শে কেবলমাত্র বিশ্বাস রাখা নয়, একে ধারণ করে আরো সামনে এগিয়ে যাওয়াই হচ্ছে সে আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার পরিচায়ক। এ ধরনের অটল বিশ্বস্ততার উদাহরণ পৃথিবীতে বিরল নয়। তবে তারচেয়ে অনেকগুণ বেশি সে ধরনের মানুষ যারা শেষাবধি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থে সেই আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে উল্টো পথের যাত্রী হয়েছে। এর অতি সরল কারণ হচ্ছে এই যে, এদের অধিকাংশই পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অথবা আখেরে কোনো কাক্সিক্ষত সুযোগ লাভের সন্ধানে সেসব আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ততা প্রদর্শন করেছিল। তাই সময়মতো তাদের সে আদর্শ থেকে সরে আসতে কোনো অসুবিধা হয়নি।

এর বাইরে আরেকটি শ্রেণি আছে, যে শ্রেণি আদৌ সেই আদর্শে বিশ্বাস কখনোই রাখেনি। এরা এই আদর্শিক সংগ্রামের অংশ হয় সেই আদর্শের শত্রু হিসেবে, শত্রুর গুপ্তচর হিসেবে। এদের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে সময় ও সুযোগানুযায়ী সেই আদর্শ বা আদর্শের সাফল্যগুলোকে নস্যাৎ করে শত্রুর উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা। এই শ্রেণির গুপ্তচরের দল শত্রুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ঢুকে পড়ে বা এর কাছাকাছি স্বীয় অবস্থান সৃষ্টি করে নেয়। তারপর এরা নিজেদের ভাবাদর্শের আরো অনেক মানুষদের জন্য ভালো অবস্থানের সৃষ্টি করে ক্ষমতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে এবং ঘুণ পোকার মতো রাষ্ট্র বা সমাজের অভ্যন্তরে সৃষ্টি করে অসংখ্য বিধ্বংসী ফাটল।

ফলত অন্তিমে মহান আদর্শভিত্তিক সব সাফল্য নস্যাৎ হয়ে যায়, নতুবা হুমকির ভিতর পড়ে যায়। এরাই হচ্ছে সেই অতি পরিচিত গুপ্তচরের দল। গুপ্তচরবৃত্তি বা বংঢ়রড়হধমব যুদ্ধের একটা অতি প্রাচীন ও অতি প্রচলিত কৌশল। এই কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে গুপ্তচরদের শত্রুপক্ষের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়ে থাকে যাতে করে এরা উপযুক্ত সময়ে শত্রু পক্ষকে আদর্শগতভাবে পরাস্ত করে নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে আসতে পারে বা সেখানে নিজেদের প্রভুত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই বা তারও অনেক আগে থেকেই পাকিস্তানি বংঢ়রড়হধমব বা গুপ্তচরচক্র বাঙালির সকল সংগ্রামের ও মুক্তিযুদ্ধের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ছিল এবং ঘটনা পরম্পরায় এরা সেখানে আরো শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়, যার নেতিবাচক প্রভাবগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন থেকে শুরু করে পরবর্তী আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যমান থেকে দেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

আমরা আমাদের জাতির অধিকার আদায়ের আন্দোলন, সংগ্রাম, যুদ্ধসহ প্রায় সব গর্বের অর্জনগুলো সম্পর্কে পড়েছিলাম অজ্ঞতার অমানিশায়, আর আমাদের চোখের সামনে আমরা বেড়ে উঠতে দেখেছি একটি অজ্ঞ প্রজন্ম, যে প্রজন্ম এখন মধ্য বয়সের দ্বারপ্রান্ত থেকে প্রায় শেষ পর্যায়ে উপনীত। এরা না জানে দেশের প্রকৃত ইতিহাস, না জানে জয়বাংলার বিজয়গাথা। এরা জানে ড্রাম তত্ত্ব ও হঠাৎ করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কল্প কাহিনী।

জয়বাংলা কেবলমাত্র একটি স্লোগান নয়, এটি একটি আদর্শের নাম। স্লোগান সাময়িক। পরিস্থিতি অনুযায়ী ও মানুষের চাহিদা অনুযায়ী তা প্রস্তুত হয়। কিন্তু আদর্শ চিরঞ্জীব। জয়বাংলা শব্দটি যখন নজরুল ব্যবহার করেন তিনিও ভাবেননি, একদিন এই শব্দটি এক মহামানবের মাধ্যমে এক মহান জাতিকে কেমন করে নতুন জীবনের পথ দেখাবে, কেমন করে এটি একটি জাতির মুক্তির মন্ত্রে রূপান্তরিত হবে, কেমন করে কত গভীরভাবে এই শব্দ মৃত্যুকে জয় করার মন্ত্রে পরিণত হবে।

জয়বাংলা বাঙালির স্লোগান, একটি জাতির স্লোগান। যারা বিভেদ, মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে, যারা বাংলাকে ঘৃণা করে বিজাতীয় রাজনীতি, ভাষা ও কৃষ্টিকে বাংলার মানুষের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়, যারা মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্রকেই অস্বীকার করে তাদের গাত্রদাহ হয় এই স্লোগান শুনলে, ঠিক যেমনটি হতো পাকিস্তানিদের। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে সকল মুক্তিযোদ্ধাকে বন্দি করা হতো তাঁদের ওপর আমৃত্যু পাশবিক অত্যাচার চালানো হতো শুধুমাত্র জিন্দাবাদ বলানোর প্রচেষ্টায়। কিন্তু হাজারো মুক্তিযোদ্ধা জয়বাংলা স্লোগানে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতো, ঘৃণা ভরে বিজাতীয় স্লোগানকে প্রত্যাখ্যান করে, সে কি কেবলমাত্র একটি স্লোগানকে উচ্চারণ করার জন্য না আরো বেশি কিছু, যার জন্য তাঁরা জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল। ‘জয়বাংলা’ ছিল এমনই এক উজ্জীবনী নিনাদ যা শত্রুর বন্দুকের নলকেও অবজ্ঞা করেছে হেলাভরে।

জয়বাংলার মাহাত্ম্য এখানেই যে এটি বাংলার রাজনীতিতে আসন গেড়েছে এমন একটি সময়ে যখন জাতি স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে। সকল পথ পরিক্রমা শেষে আসন্ন যুদ্ধের স্লোগান হিসেবে, বাঙালির অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এই স্লোগান। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্ত হন বাংলার স্বাধীনতা সনদ ৬ দফা নিয়ে সামনে এগিয়ে চলা শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা পাকিস্তানিদের বাধ্য করে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে। এ উপলক্ষে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ২২ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্সে আয়োজন করে ছাত্র-জনতার বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান, যেখানে বাংলার জনতা তাদের মহান নেতাকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করে। এই গণসংবর্ধনার আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা ও ডাকসুর ভিপি, ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা তোফায়েল আহমেদ ও অন্যান্য ছাত্র ও শ্রমিক নেতা।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত লাখো জনতার কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হতে থাকে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলার আকাশে বাতাসে যেন ছড়িয়ে দিল সেদিনের এই আয়োজন এই বার্তা যে জনগণের নেতা আবির্ভূত তাঁর সমস্ত শক্তি, বুদ্ধি, সাহস ও প্রজ্ঞা নিয়ে জনগণকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে চিরতরে মুক্তি দেয়ার জন্য। তাই জয়াবাংলা-মুজিব-মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতা সেই মুহূর্ত থেকে হয়ে গেল সমার্থক, একে অপরের পরিপূরক। পরবর্তী ইতিহাস যুদ্ধের ইতিহাস। কিন্তু বীর বাঙালি তখন থেকেই নিজের করে নিয়েছে আসন্ন যুদ্ধের মন্ত্র : ‘জয়বাংলা’, যুদ্ধের নেতা : বঙ্গবন্ধু, যুদ্ধের ফসল : স্বাধীনতা ভিন্ন আর কিছু নয়।

জয়বাংলা এসেছে বাংলার মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় বিজাতীয় জিন্দাবাদকে প্রত্যাখ্যান করে। ঠিক তেমনিভাবে যেমন করে বাংলার স্বাধীনতা এসেছে অবৈজ্ঞানিক-উদ্ভট দ্বিজাতিতত্ত্বকে প্রত্যাখ্যান করে, পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের অঙ্গীভূত থেকে সকল অবিচার, অত্যাচার, শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি লাভের প্রবল বাসনা থেকে। তাই জয় বাংলা যখন আমাদের সকল বাঙালির- এ দেশের সকল মানুষের প্রাণের কথা বলে, গর্বের ও সাফল্যের গান গায়, জিন্দাবাদ ধ্বনি তখন টেনে নিয়ে আসে পুঁতি গন্ধময় পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের উল্লাস, বাঙালির অপমান আর হতাশার গøানি আর শোষণ ও বঞ্চনার অতীতকে। আর তাই এ দেশে জয়বাংলা ও জিন্দাবাদ একসঙ্গে চলতে পারে না।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমান-মোশতাক গং পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টায় ব্যাপৃত হয় এই বাংলায় ধিকৃত ও প্রত্যাখ্যাত জিন্দাবাদের রাজনীতি। এদের এই ষড়যন্ত্রে এরা সঙ্গে পায় অন্ধকার গহŸর থেকে একে একে বেরিয়ে আসা স্বাধীনতাবিরোধী, গণহত্যাকারী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, জামায়াত ও উগ্র বামপন্থি শক্তিগুলোকে। এই তথাকথিত উগ্র বামেরা তখনো স্বাধীন বাংলাদেশের পরিবর্তে নিজেদের পূর্ব পাকিস্তানের তথা পাকিস্তানের দল হিসেবে জাহির করত। এরা রাজাকারদের ও গণহত্যাকারীদের সাথে মিলে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস কেবল নয়, তার আগে ও পরে প্রকাশ্যে ও গোপনে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে গেছে অবিরত। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিভ্রান্ত বাম শক্তি, যারা মার্কসবাদের প্রথমিক ধারণাগুলো সম্পর্কেও ছিল অনবগত।

এদের কাঁধে সওয়ার হয়ে পাকিস্তানি দালালের দল নির্বাসিত করে বাঙালির রণনিনাদ : ‘জয় বাংলা’, রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে বিজাতীয় ‘জিন্দাবাদ’। দেশের সংবিধানকে ছিন্নভিন্ন করে একে একটি পাকিস্তানি দলিলে পরিবর্তিত করা হয়, এমনকি দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেয়া হয়। দেশকে পাকিস্তানি আদলে বাংলাস্তান নাম দেয়ার পাঁয়তারা শুরু করে জিয়া-মোশতাক গং।

কিন্তু চতুর জিয়া-মোশতাক ও পাকিস্তানি ভাবধারাপুষ্ট এ দেশীয় দালাল শ্রেণি, জামায়াত, গণহত্যাকারী চক্র ও বিদেশি চক্রান্তকারীরা অচিরেই হৃদয়ঙ্গম করতে সক্ষম হয় যে বাংলার লাখো মানুষের রক্ত ও অশ্রæর সাগরে দাঁড়িয়ে থাকা স্বাধীনতার স্তম্ভগুলোকে প্রকাশ্যে ধ্বংস করার যে কোনো পদক্ষেপ প্রকারান্তরে তাদেরই চিরতরে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে, কারণ স্বাধীন বাংলার মানুষ তা কখনোই মেনে নেবে না। তাই অতি চতুরতার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে থাকে। বঙ্গবন্ধুর নাম চিরতরে মুছে ফেলার জন্য ইতিহাসের চরমতম বিকৃতিগুলো ঘটানো হতে থাকে।

বাংলাদেশ বেতারকে পাকিস্তানি কায়দায় রেডিও বাংলাদেশ নাম দিয়ে সেখান থেকে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু বিরোধী প্রচারণা চালানো হতে থাকে। ২১ ফেব্রুয়ারিতে ঘটা করে পাকিস্তানি কাওয়ালি প্রচারিত হতে থাকে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিকতাকে পাকিস্তানি ভাবধারায় গঠিত করার প্রয়াসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে স্কুলের পাঠ্য পুস্তকগুলোতে চরমভাবে বিকৃত করা হয়। তাই দেখা যায় অদ্যাবধি জিয়া-এরশাদ-খালেদা আমলে গঠিত মননাধিকারী প্রজন্ম এখনো চরমভাবে বিকৃত ইতিহাস প্রভাবিত ও এদের মধ্যে অধিকাংশই বিভ্রান্ত মতবাদে বিশ্বাসী। এদের অধিকাংশই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী প্রজন্ম হিসেবে গড়ে উঠেছে ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির অন্যতম ভোটব্যাংক হিসেবে এখনো বিদ্যমান।

আজ এদের অনেকেই রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আছে, যা দেশের অগ্রগতি ও অব্যাহত শান্তির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনকও বটে। তাই দেখা যায় যে, সরকারের অনেক গণমুখী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয় না আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে। অনেক চিহ্নিত ইতিহাস বিকৃতকারীকে কোনো প্রকার শাস্তি দেয়া যাচ্ছে না। কারণ এদের সমর্থনে এগিয়ে আসছে এদেরই সহযোগী ‘সাথী’রা।

দেশের দুটি সশস্ত্র বাহিনীকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উচ্ছেদ করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। এর পরের বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে নানা রূপে, নানা ছদ্মবেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এই সরকারকে হটানোর বহুবিধ পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু দেশের জনগণই ঢাল হয়ে রক্ষা করে যায় শেখ হাসিনার সরকারকে। বঙ্গবন্ধু কন্যা পিতার মতোই প্রগাঢ় শক্তি, বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে দশকব্যাপী প্রবল সংগ্রামের মাধ্যমে জয়বাংলার এই সূতিকাগারকে আজ পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায় আর সেই সাথে নিজেও অবস্থান করছেন এমন এক পর্যায়ে যেখানে অদ্যাবধি বঙ্গবন্ধু ব্যতীত আর কেউই যাওয়ার কথা চিন্তাও করেনি।

স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের দায়িত্ব জয়বাংলা স্লোগানকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এটাই হবে লাখো শহীদের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা ও সম্মান জানানোর এবং মুক্তিযুদ্ধের নামাবলি পড়ে থাকা রাজাকারদের মোনাফেকির সবচাইতে বড় শাস্তি।

যে স্লোগান দিয়ে লাখো মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যু ভয়কে তুচ্ছ করে দেশমাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করার জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করেছে, যে বাণী বক্ষে ধারণ করে বিপুল রণনিনাদে আকাশ বাতাস কাঁপিয়েছে সারা বাংলার মুক্তিকামী জনতা, যে বজ্রনিনাদ ধ্বনিত হয়েছে বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতার কণ্ঠে তাঁর প্রতিটি ভাষণে, দেশে ও বিদেশে, এমনকি জাতিসংঘে, যে কথামালা বক্ষে ধারণ করে বাংলার রাজপথ, মাঠ, ঘাট প্রান্তরে প্রাণ দিয়েছে লাখো মানুষ, যে কথাগুচ্ছ আজো বুকে নিয়ে মাটির নিচে শুয়ে আছেন লাখো শহীদ, সেই বাণী আজ এই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির জয় জয়কারের দিনে আর পারে না থাকতে অবহেলিত এ দেশে।

জয়বাংলা অচিরেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্লোগানের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হোক, স্বাধীনতার মাসে- এটাই দেশবাসীর আকাক্সক্ষা।

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj