খালের বাঁধ ধসে ১০ বিল জলাবদ্ধ : কেশবপুরে বোরো আবাদে সংশয়

সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর (যশোর) থেকে : আপারভদ্রা নদীর পানির চাপে কেশবপুরের বুড়–লিয়া খালের মুখের বাঁধ গত বুধবার রাতে ভেঙে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে পানি ৩ ইউনিয়নের ১০টি বিলে ঢুকে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে আসন্ন বোরো মৌসুমে বিলগুলোতে বোরো আবাদ হবে কিনা তা নিয়ে কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট, পাঁজিয়া ও সুফলাকাটি ইউনিয়নের ১৫-১৬টি গ্রামের বর্ষার অতিরিক্ত পানি বুড়–লিয়া খাল দিয়ে আপারভদ্রা নদীতে নিষ্কাশন হয়ে থাকে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বুড়িভদ্রা, হরিহর ও আপারভদ্রা নদীসহ এর সংযোগ খালগুলোতে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প নামে পানি উন্নয়ন বোর্ড সাড়ে ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। চলতি বছর আপারভদ্রা নদী খননকালে ঠিকাদার বুড়–লিয়া খালের মুখে বাঁধ দিয়ে পুনঃখনন কাজ শুরু করে। ফলে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে যায়। ওই বাঁধের কারণে বিলগুলো জলাবদ্ধ থাকায় আসন্ন বোরো মৌসুমে বোরো বীজতলা তৈরির উপযুক্ত সময় হলেও এখনো কৃষকরা বীজতলা তৈরি করতে পারেননি।

বুড়–লিয়া গ্রামের কৃষক আব্বাজ মোড়ল জানান, জলাবদ্ধ বিলগুলোর পানি নিষ্কাশনে যখন এ অঞ্চলের কৃষকরা ঘের মালিকদের নিয়ে আন্দোলন, সভা, সমাবেশ করে চলেছে ঠিক তখনই ১১ ডিসেম্বর রাতে আপারভদ্রা নদীর অতিরিক্ত পানির চাপে বুড়–লিয়া খালের মুখের বাঁধ ধসে ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পানি ঢুকে চুয়াডাঙ্গা, হদ, মাগুরখালি, ঘাঘা, পাঁজিয়া, কেশনগর, কাটাখালিসহ ১০টি বিলে পানি ঢুকে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে চলতি মৌসুমে ওই বিলগুলোতে বোরো আবাদ হবে কিনা তা নিয়ে তার মতো এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

সুফলাকাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম মুনজুর রহমান বলেন, আপারভদ্রার সন্ন্যাসগাছা থেকে কাশিমপুর পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার নদী ভরাট হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পাথরাগেটে জরুরিভাবে বিলের পানি নিষ্কাশনে ঘের মালিকদের সঙ্গে শত শত কৃষকের উপস্থিতিতে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পানি না সরলে কৃষকরা আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, এখন বোরো বীজতলা তৈরির উপযুক্ত সময়। গত মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় বিলের পানি সরানোর দাবি জানিয়ে বিষয়টি সবাইকে অবহিত করা হয়েছে। পানি না সরলে কৃষকরা বীজতলা তৈরি করতে পারবে না।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্সি আছাদুল্লাহ বলেন, ওই বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কথা শুনেছি। কৃষকদের দাবির মুখে দ্রুত পানি সরানোর জন্য গত ১১ ডিসেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমামের নেতৃত্বে পানি বিষেজ্ঞরা আপারভদ্রা নদী পরিদর্শন করেছেন। ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে পানি নামানো শুরু হবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj