আজমখালী খাল দখল : মানিকগঞ্জে হাজারো কৃষক দিশেহারা

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

মো. তজুমুদ্দিন, মানিকগঞ্জ থেকে : প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে আজমখালী খাল। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কালীগঙ্গা নদীর সঙ্গে মিশিয়ে পাকিস্তান আমলে খনন করা হয়েছিল আজমখালী খাল। ১৯৫০ সালে আজম খান নামে এক ব্যক্তির নাম অনুসারে নামকরণ করা হয় আজমখালী খাল।

হাটিপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ^াস জানান, ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে ৬ হাজার ৫২ মণ গম বরাদ্দের বিনিময়ে আজমখালী খালটি পুনরায় খনন করা হয়।

সংস্কারের পর থেকেই ওই খাল দিয়ে কালীগঙ্গা নদীর পানি কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে প্রবেশ করায় বছরে ৩টি ফসল হতো। কৃষকের ফসলের কথা ভেবে সরকারি অর্থায়নে জনসাধারণের চলাচলের জন্য খালের ওপর নির্মাণ করা হয় ৩টি ব্রিজ।

কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা করে খালটি ভরাট করায় হাজার হাজার হেক্টর জমির মালিকরা ফসল আবাদ করতে না পাড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

কাটাখালী ব্রিজের দক্ষিণ পাশে মাটি ভরাট করে খাল বন্ধ করেছেন ছালামের ছেলে আব্দুল আজিজ। বইট্রা গ্রামের মান্নানের ছেলে আব্দুল আউয়াল পাকা দেয়াল নির্মাণ করে খাল ভরাট করেছেন। মাটি ভরাট করে খালটি অবৈধভাবে দখল করেছেন সহিমুদ্দিনের ছেলে কাইয়ুম, মৃত আনছর আলী মাদবরের ছেলে ফজলুল হক, আদু দেওয়ানের ছেলে আইয়ুব আলী, ইয়াকুব আলীর ছেলে শাহিদ, নাঈম মাস্টার প্রমুখ।

আজমখালীরা খাল ভরাট করায়, কালিয়াডগীর চক, বরুন্ডির চক, বইট্রার চক, সাবারিয়ার চক, জাগীর চক ও সোনাতুল্লার চকে পানি ঢুকতে না পারায় হাজার হাজার হেক্টর জমির মালিকরা ফসল উৎপাদান করতে না পারায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

হাটিপাড়া ইউনিয়নের মোসলেম উদ্দিন মেম্বর জানান, ওই খালটি ৭২ ফুট প্রস্থ ছিল। প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল থেকে খালটি উদ্ধার এবং পুনর্খননের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে হাজার হাজার কৃষকের মুখে পুনরায় ফুটবে হাসি।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj