যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কত? : ভাতা ঘোষণার পর সংখ্যা দ্বিগুণ

বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

ঝর্ণা মনি : সারাদেশে বর্তমানে ‘এ’ শ্রেণি (পঙ্গুত্বের হার ৯৬-১০০) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ৪৫ হাজার টাকা। ‘বি’ শ্রেণির (হার ৬১-৯৫) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ৩৫ হাজার টাকা। ‘সি’ শ্রেণির (হার ২০-৬০) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা পান ৩০ হাজার এবং ‘ডি’ শ্রেণির (হার ১-১৯) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা পান ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া দেশের চিকিৎসার পাশাপাশি ভারত, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে চিকিৎসা সুবিধা, মেয়ের বিবাহ ভাতা, সন্তান ও নাতি-নাতনিদের বঙ্গবন্ধু বৃত্তি, শিক্ষা ভাতা, ছেলেমেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়া, রেশন কার্ড, পরিচয়পত্র, পানির বিল, গ্যাস বিল ও বিদ্যুৎ বিল সম্পূর্ণ মওকুফ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের। তবে তিন বছর আগে সরকার আলাদা করে যুদ্ধাহত ভাতা দেয়ার ঘোষণার পর থেকেই মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বৃদ্ধির মতোই দিন দিন বাড়ছে ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা’র সংখ্যাও। প্রতিদিনই নতুন করে এ সংক্রান্ত আবেদনও জমা পড়ছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, বর্তমানে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৫৯৮। এর মধ্যে ‘এ’ শ্রেণির ১৪, ‘বি’ শ্রেণির ১৪৬, ‘সি’ শ্রেণির এক হাজার ৭০৪ এবং ‘ডি’ শ্রেণির ২ হাজার ৬৮৩সহ ৪ হাজার ৫৪৭ জনকে যুদ্ধাহত ভাতা দেয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে তাদের চলাচলের জন্য হুইল চেয়ার, ক্র্যাচ, লাঠি, কৃত্রিম অঙ্গ, জুতা-মোজা, শ্রবণযন্ত্র, চশমা, হুইল চেয়ারে চলাচলকারী সম্পূর্ণ পঙ্গু যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বছরে একবার কক্সবাজারে আবহাওয়া পরিবর্তন বা ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট বলছে, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ হাজারের বেশি নয়। সরকার আলাদা করে যুদ্ধাহত ভাতা দেয়ার ঘোষণার পর থেকেই ‘যুদ্ধাহত’ ভাতা পাওয়ার জন্য ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অনেকেই অবৈধভাবে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা তুলছেন। তাদের অনেকের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্নও নেই। কেউ কেউ অন্য দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হলেও নিজেদের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেছেন। জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ভোরের কাগজকে বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কিছু কিছু অভিযোগ আসছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেব। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সে ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের এক হাজার ৫০০ বর্গফুট পর্যন্ত নিজস্ব বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ, চিকিৎসা ও বিভিন্ন কাজে ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য মোবাইল ফোন দেয়া হয়েছে। মাসিক এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত মোবাইল কার্ড সুবিধাও পান তারা। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ভাতাভোগী সব শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বর্তমানে প্রয়াত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে স্বল্পমূল্যে রেশন দেয়া হচ্ছে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রয়াত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ৭ হাজার ১৯৪ জনকে অন-লাইনের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব হিসাব নম্বরে সম্মানী ভাতা পাঠানো হয়ে থাকে। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১-এ ৮৪টি ফ্ল্যাট ও ৭৪টি দোকান আছে। এর মধ্যে ৩৩টি ফ্ল্যাট ও ৩৩টি দোকান যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর গেজেটের মাধ্যমে সাতজনকে বীরশ্রেষ্ঠ, ৬৮ জনকে বীরউত্তম, ১৭৫ জনকে বীরবিক্রম এবং ৪২৬ জনকে বীরপ্রতীক খেতাব দেয়া হয়। ২০১১ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বিভিন্ন বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো হয়। এই সুবিধা পাচ্ছিলেন সেনাবাহিনীর ২৫১ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন, বিমানবাহিনীর ২৩ জন, বিজিবির ১১৮ জন এবং আনসারের একজন সদস্য। কিন্তু খেতাবপ্রাপ্ত বেসামরিক ২১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা আগের হারে সম্মানী ভাতা পাচ্ছিলেন। এটি সমন্বয় করতে ২০১৩ সালের ২২ জুলাই খেতাবপ্রাপ্ত বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো হয়। সর্বশেষ আবার তাদের ভাতা বাড়ানো হয় ২০১৬ সালে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj