দুটি ড্রিমলাইনার আনতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন ৪৫ জন : রাষ্ট্রীয় টাকায় প্রমোদ ভ্রমণ!

বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ‘সোনার তরী’ ও ‘অচিন পাখী’ নামের দুটি ড্রিমলাইনার আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে যাচ্ছেন ৪৫ জন। এর মধ্যে পাইলট, কেবিন ক্রুসহ বিমানের কারিগরি বিভাগের রয়েছেন ২৮ জন। বাকি ১৭ জন বিমান মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রীর একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব ও তথ্য কর্মকর্তা। আগামী ২২ ও ২৪ ডিসেম্বর বিমান দুটি বাংলাদেশের মাটিতে নামার কথা রয়েছে। তবে বিমান মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে খবর প্রকাশ করাকে ভালো চোখে দেখছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বিমান চালিয়ে আনবেন পাইলট। তাদের সহযোগিতা করবেন ক্রুরা। এখানে বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব, তথ্য কর্মকর্তার নাম যুক্তরাষ্ট্রগামীর তালিকায় কেন? অবশ্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এবং সচিব মো. মুহিবুল হক এই সফরে নেই।

জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মো. মুহিবুল হক ভোরের কাগজকে বলেন, আমি বুঝতে পারছি না বিষয়টি নিয়ে এত কথা কেন? বিমান আনতে পাইলট, কেবিন ক্রুসহ বহু লোকের দরকার হয়। এখানে দুটি বিমান আসছে। বিমান দুটি আনতে পাইলট, কেবিন ক্রুদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা যুক্ত হয়েছেন। এটা স্বাভাবিক ঘটনা। এ বিষয়ে খবর প্রকাশের কী আছে? আর বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসাইনও উষ্মা প্রকাশ করে ভোরের কাগজকে বলেন, এটা একটা নিউজ হলো? একজন পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন্স) সিয়াটলে নতুন দুটি বিমানকে বাংলাদেশের পক্ষে বোঝে নেবেন।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন বিভাগের প্রধান শরিফুল হাসান এ প্রসঙ্গে ফেসবুকে লিখেছেন, বোয়িং থেকে কেনা ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ‘সোনার তরী’ আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ৪৫ জ?নের বিশাল এক বহর। আমার শুধু জান?তে ইচ্ছা করছে, বিমানটা কী দুজন পাইলট আকাশে উড়িয়ে আনবেন নাকি ৪৫ জন মিলে ঠেলে? রাষ্ট্রীয় টাকায় ৪৫ ?জনের এমন পিক?নি?কের মা?নে কী? চক্ষু লজ্জা ব?লেও কী কিছু থাক?তে নেই?

বিমান সূত্রে জানা গেছে, এটি যান্ত্রিক পরিবহন হওয়ার কারণে প্রকৌশল দল ছাড়া অন্য কেউ নতুন উড়োজাহাজের খুঁটিনাটি সবকিছু বুঝে আনতে পারবে না। তাই একটি টেকনিক্যাল টিম সিয়াটলে যাচ্ছে। বিমানের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেশ কিছু সদস্য সিয়াটলে যাওয়ার দলে যুক্ত হয়েছেন। তারা সিয়াটলের পাঁচতারকা মানের হোটেলে থাকবেন। সেখানে বোয়িংয়ের কারখানা পরিদর্শন ছাড়াও সফরকারী সদস্যরা বেড়াবেনও। এ ছাড়া নিউইয়র্ক যাওয়ার টিকেটের দামও চড়া। সবমিলিয়ে খরচের তালিকা বাড়বে।

‘সোনার তরী’ আনতে বিমানের প্রকৌশল শাখার ৯ জন প্রকৌশলী ছাড়াও এই দলে বৈমানিক রয়েছেন ৯ জন, কেবিন ক্রু ১০ জনসহ বেশ কিছু কর্মকর্তা। বাকিদের সেখানে কোনো কাজ না থাকলেও তারা ‘পিকনিক’ করতে যাচ্ছেন বলে রসিকতা করছেন অনেকে।

জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক পরিচালনা পর্ষদ সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বহর দেখে মনে হচ্ছে, এটি আনন্দ ভ্রমণ। সিয়াটলে কোনো কাজ নেই- এমন কর্মকর্তাদের পাঠানো কোনোভাবেই ঠিক নয়। আর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাবেক এয়ার মার্শাল ইনামুল বারী বলেন, অন্যান্য বছর উড়োজাহাজ আনতে যেভাবে যাওয়া হয় এবারো ঠিক সেভাবেই যাওয়া হচ্ছে। বহরে অপ্রয়োজনীয় কর্মকর্তাদের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর চতুর্থ ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ ‘রাজহংস’ উদ্বোধনের পরপরই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে আরো দুটি বোয়িং যুক্ত হচ্ছে বলে আলোচনা শুরু হয়। রাজহংস উদ্বোধনের সময়ই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই দুটি বোয়িং কেনার আগ্রহ দেখান। পরে জানা যায়, আরো বড় আকৃতির বোয়িংয়ের ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার কিনতে যাচ্ছে বিমান। প্রতিটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার বর্তমান বাজার মূল্যের অর্ধেক দামে, অর্থাৎ ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কমে কেনা হয়েছে। দরদাম ঠিক হওয়ার পর উড়োজাহাজ দুটি নামকরণের কার্যক্রম চলে। প্রায় ৪০টি নামের একটি তালিকা করা হয়। সেই তালিকা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন বিমানের একটির নাম দেন ‘সোনার তরী’, অন্যটি ‘অচিন পাখি’।

বিমানবহরে বর্তমানে উড়োজাহাজ রয়েছে ১৬টি। এগুলোর মধ্যে নিজস্ব উড়োজাহাজের সংখ্যা ১০। বাকি ৬টি লিজে আনা। নিজস্ব ১০টি উড়োজাহাজের সবই বোয়িং কোম্পানি থেকে কেনা। নতুন দুটি ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজ নিয়ে বিমানের উড়োজাহাজ হবে ১৮টি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj