রুম্পার মৃত্যুরহস্য : হত্যা না আত্মহত্যা জানতে সৈকতকে জিজ্ঞাসাবাদ

মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার (২১) মৃত্যু ‘হত্যা না আত্মহত্যা’ তা নিশ্চিত হতে তার প্রেমিক আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের বিবিএ শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান সৈকতকে (২২) জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রিমান্ডের প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদে সৈকত নানা রকম তথ্য দিলেও রুম্পার মৃত্যুর ঘটনাটি ‘হত্যা না আত্মহত্যা’ তা নিশ্চিত হতে পারেননি এ মামলার তদন্তে থাকা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সৈকত বর্তমানে চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) শামসুল আরেফিন ভোরের কাগজকে বলেন, রুম্পার মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনে সৈকতকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার দেয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে রুম্পা ছাদ থেকে পড়ে গেছে, না তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়েছে- এ ব্যাপারে আমরা এখনো সে রকম কোনো তথ্য পাইনি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার দিন আসলে কী ঘটেছিল তা জানতে একটু সময় লাগবে।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন রাতে নাটকীয়ভাবে সিদ্ধেশ্বরীর যে বাসায় রুম্পা গিয়েছিল ওই বাসার আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করেছি। এ ছাড়া আয়শা শপিং কমপ্লেক্সের বিভিন্ন দোকানে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। যদিও এসব ফুটেজে প্রবেশপথ সেভাবে কাভার করে না। এগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেহেতু রুম্পার কাছে মোবাইল ফোন ছিল না। ফুটেজ দেখে আমরা তার অবস্থান নিশ্চিত হতে চাই যে, সে কখন ওই বাসায় প্রবেশ করেছিল।

ডিবি সূত্র জানায়, সৈকতের সঙ্গে রুম্পার প্রেম ছিল। গত মার্চে তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর রুম্পা বহুবার সৈকতের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ঘটনার দিনও সৈকতের সঙ্গে রুম্পার দেখা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুম্পার মৃত্যুর সঙ্গে সৈকতের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে রুম্পার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করেন। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শারমিনের মেরুদণ্ড, বাঁ হাতের কনুই ও ডান পায়ের গোড়ালি ভাঙা ছিল। মাথা, নাক, মুখে জখম এবং বুকের ডান দিকে ক্ষতচিহ্ন ছিল।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj