রোহিঙ্গা গণহত্যা শুনানি হেগে কাল শুরু

সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আইনি সংস্থা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে) তথা বিশ^ আদালতে আগামীকাল মঙ্গলবার মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার করা মামলার শুনানি শুরু হচ্ছে। কোনো দেশের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুতর হিসেবে বিবেচিত। চলতি দফায় নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে আইসিজেতে আগামী ১০-১২ ডিসেম্বর তিন দিনব্যাপী চলবে এ শুনানি। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫৭ সদস্যবিশিষ্ট ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে আইসিজেতে এ মামলা রুজু করে পশ্চিম আফ্রিকার ছোট্ট দেশ গাম্বিয়া। মামলার শিরোনাম ‘অ্যাপলিকেশন অব দ্য কনভেনশন অন দ্য প্রিভেনশন এন্ড পানিশমেন্ট অব দ্য ক্রাইম অব জেনোসাইড’। ওই কনভেনশন অনুসারে এতে অনুস্বাক্ষরকারী ১৫০টি দেশ গণহত্যা সংঘটন থেকে বিরত থাকবে ও এ ধরনের অপরাধ প্রতিহত করবে এবং অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করবে। তিন দিনের শুনানি চলাকালে আইসিজের ১৬ সদস্যের বিচারক প্যানেলের কাছে আবেদন জানাবে ‘অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ’ নেয়ার জন্য যাতে পুরো মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে রোহিঙ্গা গণহত্যা বিচার মামলার শুনানি পর্যবেক্ষণে নেদারল্যান্ডসের হেগে আইসিজেতে যাচ্ছে ২০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। গতকাল রবিবার রাতে প্রতিনিধিদল এ উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছে। তবে বাংলাদেশ নিজে এই মামলা না করায় বিধি মেনে এখনই এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছে। এ ছাড়া কক্সবাজারে আশ্রিত তিনজন রোহিঙ্গাও শুনানিতে হাজির থাকবেন। মিয়ানমার প্রকৃতই গণহত্যার অপরাধে অপরাধী কিনা, সেটি এবারকার শুনানিতেই সুরাহা হবে না। এ পর্বে গাম্বিয়ার প্রতিনিধিদল আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন ‘ইনজাংশন’ চাইবেন যাতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মামলা চলাকালীন যে কোনো ধরনের নির্যাতনমূলক রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয় মিয়ানমার। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত যদি মনে করে এ ধরনের আদেশ বাঞ্ছনীয়, সে ক্ষেত্রে তারা রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় সেনা অভিযান এবং অনুরূপ সহিংসতা নিবারণে মিয়ানমারের প্রতি নির্দেশ জারি করতে পারেন বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ আদেশ পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইসিজের যে কোনো রুলিং চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য এবং এর বিরুদ্ধে কোনো আপিল করার সুযোগ নেই। যদিও নির্দেশ কার্যকরে বাধ্য করার কোনো উপায় নেই এ আদালতের। তবে গণহত্যা নিয়ে প্রধান অভিযোগের শুনানি আগামী বছর ২০২০ সালের শুরুতেই শুরু হতে পারে। যদিও আইসিজেতে করা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের এ জাতীয় মামলার নিষ্পত্তি হতে কখনো কখনো অনেক বছরও লেগে যেতে পারে।

এদিকে বিশ^ আদালতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যার অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়তে গতকালই নেদারল্যান্ডসের পথে রওনা হয়েছেন দেশটির ডি-ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু কি। এর আগে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে উভয় দেশ শক্তিশালী মিত্রতার প্রতিশ্রæতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগের দিন শনিবার শহরটিতে তার কয়েক হাজার সমর্থক সমাবেশ করে তার প্রতি সমর্থন জানায়। ইয়াঙ্গুনে তার জন্য প্রার্থনা করেন দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কিছু স্থাপনায় ‘বিদ্রোহীদের’ কথিত

হামলার পর রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে শুরু হয় সেনাবাহিনীর অভিযান। সেই সঙ্গে শুরু হয় বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে রোহিঙ্গাদের ঢল। গত দুই বছরে সাত লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের এ ঘটনাকে জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে অভিহিত করে জাতিসংঘ। এদিকে নিজের দেশে সু কি বীরের মর্যাদা পেলেও আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের হয়ে সু কির লড়ার ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার বন্ধু বলে পরিচিত প্রভাবশালী অনেককে বিস্মিত করেছে। তার এমন পদক্ষেপ বিশ্ব স¤প্রদায়ের নিন্দাও কুড়িয়েছে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj