খাদ্যে ভেজাল রোধে প্রতি জেলায় হচ্ছে পরীক্ষাগার

সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : খাদ্যদ্রব্য ও ফলমূলে কার্বাইডসহ অন্যান্য ভয়াবহ ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মেশানো রোধে দেশের ৬৪টি জেলায় মোট ৭০টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার স্থাপন করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি আইন করার উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন কমিটির সদস্য খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ইউএসএইডের আর্থিক সহায়তায় ৭০টি পরীক্ষাগার স্থাপন করা হচ্ছে। এতে ফলমূলে কার্বাইডসহ অন্যান্য কেমিক্যাল সম্পর্কে একটি মনিটরের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তথ্য জানা সম্ভব হবে। এ ছাড়া পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে বেশি মুনাফার সুযোগ যাতে না করতে পারে, সে ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বৈঠকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান বলেন, কার্বাইডসহ অন্যান্য কেমিক্যাল দিয়ে ফলমূল পাকানোর ব্যাপারে অতি সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ফলমূল পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি জেলা পর্যায়ে জনবল বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের যথাযথ ভূমিকা রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়ার বিষয়টি অবহিত করেন।

তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তাপর্যায়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ১৮টি সংস্থার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তাদের সঙ্গে বৈঠক করে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভারতসহ অন্যান্য দেশে খাদ্যসামগ্রী নিরাপদ করতে পারলেও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম বলেন, খাদ্যে ভেজালের কারণে সাধারণ জনগণ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তসহ বিভিন্ন রোগে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

অঞ্চলভিত্তিক কৃষি সমবায় কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করেন কমিটির সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। তিনি ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য সংস্থা দ্বারা তদারকি জোরদার করার মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের মেয়াদ এবং সময়সীমা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্যান্সারসহ নানা প্রকার জটিল রোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তাব করেন। তিনি মজুতবিরোধী আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

চলতি বছর কৃষকদের কাছ থেকে ছয় লাখ মেট্রিক টন ধান/চাল ক্রয় করা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে দাবি করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চালের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে গঠিত ২২টি মনিটরিং টিম প্রতিদিন কোন মিলে কী পরিমাণ মজুত রয়েছে, তা সার্বক্ষণিক জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মনিটরিং করছে। তিনি বলেন, একটি চক্র লবণের ন্যায় চালের বাজার অস্থিতিশীল করার প্রক্রিয়া শুরু করে, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সাথে সাথে হুঁশিয়ারি দেয়ায় চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj