স্বর্ণখচিত আরেকটি দিন : এসএ গেমস

রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : এবারের এসএ গেমসের তৃতীয় দিনে কারাতে তিনটি স্বর্ণ জয়ের পর তিন দিন কোনো স্বর্ণ জয় করতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। গতকাল সপ্তম দিনে সেই স্বর্ণ খরা কাটিয়ে ফের একদিনে তিন স্বর্ণ জয় করে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। এ নিয়ে ১৩তম এসএ গেমসে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা ৭টি স্বর্ণ জয়ে সমর্থ হলো। ২০১৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত ১২তম এসএ গেমসে বাংলাদেশ জিতেছিল ৪টি স্বর্ণ। আজ আরচারি এবং ক্রিকেট থেকে রোমান-সালমাদের দেশকে আরো চার-পাঁচটি স্বর্ণ এনে দেয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। নেপালের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা বলেছিলেন, গতবারের চেয়ে এবার অধিক স্বর্ণ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ১৩তম এসএ গেমসে অংশ নিচ্ছেন।

গতকাল বাংলাদেশ যে তিনটি স্বর্ণপদক জিতেছে তার দুইটি এসেছে ভারোত্তোলনে অন্যটি ফেন্সিংয়ে ব্যক্তিগত সেভার ইভেন্টে। এবারই প্রথম দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে অন্তুর্ভুক্ত হয়েছে ফেন্সিং। কাঠমান্ডুতে গতকাল ফেন্সিং এককে প্রথম স্বর্ণ জয়ের স্বাদ পান ফাতেমা। মাবিয়া আক্তার সীমান্তের হাত ধরে এবার এসএ গেমসে পঞ্চম স্বর্ণ জেতে বাংলাদেশ। গতকাল ৭৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে সাফল্যের হাসি হেসেছেন এই ভারোত্তোলক। গত আসরেও স্বর্ণ জিতেছিলেন তিনি। নেপালের এসএ গেমসে স্বর্ণ জিততে পারবেন কিনা, এ নিয়ে সংশয় ছিল মাবিয়ার। যদিও সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে আবারো দেশকে স্বর্ণ আনন্দে ভাসিয়েছেন এই ভারোত্তোলক।

গতবার ভারতের গেমসে ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্ন্যাচ এবং ক্লিন এন্ড জার্ক মিলিয়ে ১৪৯ কেজি তুলে লাল-সবুজ পতাকা সবার উঁচুতে তুলেছিলেন মাবিয়া। আর এবার সাফল্য পেলেন ৭৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে।

গতকাল ভারোত্তোলন ইভেন্টে স্ন্যাচে ৮০ কেজি ও ক্লিন এন্ড জার্কে ১০৫ কেজি মিলিয়ে মোট ১৮৫ কেজি ওজন তুলেছেন মাবিয়া। তার পরেই জায়গা করে নেন শ্রীলঙ্কার বিসি প্রিয়ান্থি। তিনি ১৮৪ কেজি ওজন তুলে জিতেছেন রৌপ্য আর স্বাগতিক নেপালের তারা দেবী ১৭২ কেজি তুলে হয়েছেন তৃতীয়।

শিলং-গুয়াহাটিতে আনন্দে কেঁদেছিলেন বিজয়ীর মঞ্চে দাঁড়িয়ে। এবারও আনন্দ প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না মাবিয়া। তিনি বলেন, আনন্দ ব্যাখ্যা করার মতো নয়। আমাদের এই গোল্ড মেডেলটা অনেক জরুরি ছিল। ফেডারেশন ও কোচরা এ জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। আমি বলব, এই পদকটা আমি ফেডারেশন, কোচ, বাংলাদেশ আনসার সবাইকে উৎসর্গ করব। ওনারা না থাকলে আমি হয়তো আজ এটা পেতাম না। অনুভূতি আমি স্টেজেই প্রকাশ করেছি। কারণ, আমি একটু নার্ভাস ছিলাম ক্লিন এন্ড জার্কে ১০৫ কেজি আমার কনফার্ম লিড ছিল। কোচের আত্মবিশ্বাসের প্রতিদান দিতে পেরেছি। আসলে হাজারবার বললেও আমি এ অনুভূতি বোঝাতে পারব না।

দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের ভারোত্তোলনে গতকাল দারুণ কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। মাবিয়া আক্তার সীমান্তে পর স্বর্ণ উপহার দিয়েছেন জিয়ারুল ইসলাম। আগের ১২ আসরে কখনোই এই ইভেন্ট থেকে একটির বেশি স্বর্ণ জিততে পারেনি বাংলাদেশ।

পোখারায় গতকাল ছেলেদের ৯৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্ন্যাচ (১২০ কেজি) ও ক্লিন এন্ড জার্ক (১৪২ কেজি) মিলিয়ে ২৬২ কেজি তুলে সেরা হন জিয়ারুল। নেপালের বিশাল সিং সব মিলিয়ে ২৪৭ কেজি তুলে রৌপ্য এবং ভুটানের কিনলে গাইয়েলতসেন ১৭০ কেজি তুলে ব্রোঞ্চপদক জিতেছেন। অনুশীলনে কষ্ট করার ফল নেপালে পাওয়ায় খুশি জিয়ারুল।

আল্লাহ যার কপালে যা লিখে রেখেছে, সে সেটা পাবে। আমি কষ্টও করেছি। আর কষ্ট করলে কেষ্টো মেলে। কোচ আমাদের অনেক কষ্ট করিয়েছেন। এ জন্য আমরা সফল হয়েছি।

গতকাল বাংলাদেশকে সপ্তম স্বর্ণ উপহার দিয়েছেন ফাতেমা মুজিব। ফেন্সিং ডিসিপ্লিনে মেয়েদের একক সাবরে ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেন তিনি। এবারের এসএ গেমসে ফেন্সিংয়ে বিশাল এক দল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। দেশে অপ্রচলিত এ খেলায় ২৩ খেলোয়াড়ের সঙ্গে ৫ অফিসিয়াল গেছেন নেপালে। তাদের মধ্যে ৩ জনই ম্যানেজার। এই বিশাল বহরের দল শনিবারের আগে গোটা তিনটি ব্রোঞ্জ জিতেছিল।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj