সরকারি কর্মচারী বিধি : দুদিন দেরিতে এলে একদিনের বেতন কাটা

রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : সরকারি চাকরিজীবীদের অফিসে নিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে নতুন বিধিমালা জারি করছে সরকার। এতে বলা হয়েছে, পরপর দুদিন দেরি করে কর্মস্থলে গেলে একদিনের বেতন কাটা যাবে। ২ ডিসেম্বর ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা ২০১৯’ জারি করার পর গত বৃহস্পতিবার এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ১৯৮২ সালের গণকর্মচারী শৃঙ্খলা (নিয়মিত উপস্থিতি) অধ্যাদেশ আদালতের রায় অনুযায়ী বাতিল হয়ে গেছে। এরপর ওই অধ্যাদেশটি যুগোপযোগী করে নতুন বিধিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে। মূলত অধ্যাদেশের বিষয়গুলোই বিধিমালায় এনেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, উপস্থিতি নিশ্চিতে প্রত্যেক অফিসে নির্ধারিত হাজিরা বইতে স্বাক্ষর নেয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ হাজিরা বই সংশ্লিষ্ট শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অফিস সময় শুরু হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে উপস্থাপন করতে হবে। দেরিতে উপস্থিত কর্মচারীর নামের পাশে লাল কালি দিয়ে বিলম্ব উপস্থিতি চিহ্নিত করতে হবে। এ ব্যবস্থার পাশাপাশি বা বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা যাবে। সেক্ষেত্রে উপস্থিতি নিশ্চিতে অফিসপ্রধান এক বা একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োজিত করতে পারবেন।

বিধিমালায় আরো বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মচারী নিজ কর্মে অনুপস্থিত থাকতে পারবে না। কোনো কর্মচারী অনুমতি ছাড়া অফিসে অনুপস্থিত থাকলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দিয়ে কর্মচারীর প্রতিদিনের অনুপস্থিতির জন্য একদিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ কেটে নিতে পারবেন। এতে আরো বলা হয়েছে, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মচারী অফিস ত্যাগ করতে পারবেন না। তবে শর্ত থাকে যে, জরুরি প্রয়োজনে অফিস ত্যাগের ক্ষেত্রে সহকর্মীকে অবগত করে অফিস ত্যাগ করা যাবে। সংরক্ষিত রেজিস্টারে অফিস ত্যাগের কারণ, সময়, তারিখ ইত্যাদি লিখতে হবে। কোনো সরকারি কর্মচারী যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া দেরিতে অফিসে উপস্থিত হতে পারবেন না- উল্লেখ করে বিধিমালায় বলা হয়েছে, এই বিধান লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে প্রতি দুইদিনের বিলম্বে উপস্থিতির জন্য একদিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ টাকা কাটা যাবে। এ ছাড়া কোনো সরকারি কর্মচারী ৩০ দিনের মধ্যে একাধিকবার বিনা অনুমতিতে অফিসে অনুপস্থিত, অফিস ত্যাগ ও দেরিতে অফিসে উপস্থিত হলে ওই কর্মচারীর আরো অতিরিক্ত সাতদিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ কাটা যাবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর বেতন কাটা হলে তিনি তিন কার্যদিবসের মধ্যে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারবেন। পুনর্বিবেচনার কোনো আবেদন করা হলে, আদেশ দানকারী কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে শুনানির যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দিয়ে, বেতন কর্তনের আদেশ সংশোধন বা বাতিল করতে পারবে। পুনর্বিবেচনার আবেদন শুনানির ক্ষেত্রে সাক্ষ্যের সংক্ষিপ্তসার, প্রাপ্ত তথ্যাদি এবং সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করতে হবে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj