কম শীতেও ফ্যাশন থাক

রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

আশরাফুল ইসলাম রানা

ফ্যাশন তখনই স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় যদি তাতে সমকালীন রুচির প্রকাশ ঘটে। এ কারণেই দেশী ব্র্যান্ডগুলো পাশ্চাত্য ট্রেন্ড অনুসরণ করে শীতের জন্য আভিজাত্যের মিশেলে তৈরি করেছে ফেস্টিভ এবং স্ট্রিট ক্যাজুয়াল ফ্যাশন আউটফিট। সময়ের আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে লং কার্ডিগ্যান বা সোয়েটারে ঠিক কী রকম হওয়া উচিত তরুণীদের আউটলুক? এবারের ফিচারে থাকছে সেই খোঁজ

এখনো শীত কম, তবুও শীত পোশাকের বাহারে কমতি নেই। কম ঠান্ডায় পরার উপযোগী করেই বানানো হচ্ছে এ সময়ের শীতের পোশাক। আর ট্রেন্ডও বদলে যাচ্ছে বছর বছর। বেশি শীতে সোয়েটারের বিকল্প আর কী হতে পারে। টিন থেকে তরুণী সবার গায়েই এখন নানা ধরনের নানা রঙের সোয়েটার। বেশ কয়েক বছর আগেও ভারী বোতামযুক্ত কোমর পর্যন্ত শর্ট সোয়েটারের দাপট ছিল। তবে গত বছর তা থেকে বেরিয়ে এসেছে ফ্যাশনসচেতনরা। তাদের পছন্দের তালিকায় যোগ হয়েছে নানা কাটের লং সোয়েটার, কার্ডিগ্যান বা লেয়ারিং পণ্য। সর্বশেষ কালার চার্ট এবং প্যাটার্নে তৈরি এসব বৈচিত্র্যপূর্ণ পোশাকে থাকছে ডিজাইন, ফিটিংস ও কাপড়ের ভিন্নতা।

তরুণ-তরুণীদের জন্য রেডি টু ওয়্যার আউটফিট হিসাবে এবার হালকা শীতে থাকছে জ্যাকেট, কটি, সোয়েটার, ডেনিম ও শ্রাগ। লেয়ারিং ফ্যাশন ট্রেন্ডের আদলে শীত পোশাকে প্রাধাণ্য পেয়েছে রঙের বর্নিলতা। হালকা শহুরে শীতে পরার উপযোগী নিট কাপড়ের ইনার পলো, শ্রাগ ও টি-শার্টও সববয়সীদের জন্য ফ্যাশনে ইন। তরুণ প্রজম্মের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফ্যাশন এখন আর স্ট্যাটিক কনসেপ্ট নয়। সময় ও ঋতুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্রমশ বদলাতে থাকে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। তাই ওয়্যাড্রবে থাকতে হবে সময়োপযোগী পোশাক। ঋতুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঠিক কী রকম হওয়া উচিত আউটলুক?

তবে এখনো যেহেতু শীতের প্রকোপ কম, তাই এই সময় সঙ্গী হতে পারে হালকা কিন্তু ফ্যাশনেবল শীতের পোশাক। শ্রাগ, হুটি, লং কটি, পাতলা সোয়েটার বা ভারি ফ্লিস নিটের রাউন্ডনেক আর ডেনিমই হতে পারে ফ্যাশনিস্তাদের সঠিক স্ট্রিটওয়্যার! তাই ভারী সোয়েটার, জ্যাকেট, শাল, কানটুপি তীব্র শীতের জন্য তুলে রেখে তার পরিবর্তে পরতে পারেন ভারী কাপড়ের টপস, বিভিন্ন ডিজাইনের লং কার্ডিগান বা পাতলা সোয়েটারও। এ ছাড়াও আঁটসাঁট জিন্স বা জেগিন্স পরার মোক্ষম সময় এখনই।

এ সময়ে লেয়ারিংয়ের হালকা ধাঁচের এসব শীতের পোশাকের মজা হলো, এতে ভেতরের পোশাকটিও তেমন ঢাকা পড়ছে না। অর্থাৎ সামনের অংশে খোলা কোনো সোয়েটার পরলে ভেতরে পছন্দের ইনার টি-শার্টটিও পরতে পারেন। প্রিয় টি-শার্ট বা টপগুলো গরমের জন্য তুলে রাখার তেমন প্রয়োজন নেই। জ্যাকেট আর শ্রাগের বেলাতেও তাই। সামনের অংশে বোতাম দেয়া শীতের পোশাক এখন কমই দেখা যাচ্ছে। সোয়েটারের গলাও এখন বেশ বৈচিত্র্যতায় পূর্ণ। তরুণীদের জন্য অ্যাসিমেট্রিক বা অসমান কাটের সোয়েটারও এই শীতে বেশ দেখা যাবে। এক্ষেত্রে জিন্স বা লেগিংসের সঙ্গে লং সোয়েটার ভালোই মানাবে। এ ছাড়াও পরতে পারেন গেঞ্জি কাপড় বা ট্রাউজার কাপড়ের তৈরি হুডি। এটি একদিকে যেমন হালকা শীতের জন্য আরামদায়ক।

অন্যদিকে স্টাইলিশও বটে। পাশাপাশি হালকা শীতে পরার জন্য বাজারেই পাওয়া যায় রংবেরঙের নানা নকশার সোয়েটার। গলার ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের হালকা বুননের সোয়েটার ট্রেন্ডে ইন। তরুণদের জন্য তৈরি এসব সোয়েটারে প্রাধান্য পাচ্ছে ভি নেক, টারটল নেক, ক্রু নেক, গোল গলা প্রভৃতি।

নিট আর ওভেন- দুই ধরনের ফেব্রিকেই লং সোয়েটার তৈরি হচ্ছে। তরুণীদের লং সোয়েটার প্রসঙ্গে জেন্টল পার্কের চিফ ডিজাইনার শাহাদত হোসেন বাবু জানান, ‘নিটের মধ্যে ফেরিস্টারি, টেরি ফেব্রিকই বেশি। লং সোয়েটারে গাঢ় রঙের মধ্যে আছে লাল, নীল, সবুজ, সাদা, বেগুনি, কমলা ও গোলাপি। পাশাপাশি হালকা রঙের মধ্যে কালো, ছাই ও বাদামি। স্ট্রাইপ বা চেকও আছে। কিছু সোয়েটারে এম্ব্রয়ডারি, ব্লুক, স্কিনপ্রিন্ট, টু টোন ইফেক্ট দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে।’

শীতে অনেকেই জিন্স টপ খুঁজে নেন। তাদের জন্যই এ ধরনের সোয়েটার বিশেষভাবে উপযোগী। আকাশী, সাদা ও কালোর ওপর স্টাইপ দেয়া সোয়েটারও খুব চলছে। সোয়েটারের গলায় ওভার ফ্লিপ ডিজাইন করা, যা স্কার্ফের বিকল্প হিসেবেও কাজ করে। লং সোয়েটারে আরো নতুনত্ব বাড়ানোর জন্য এর মধ্যে কুচি দেয়া হচ্ছে। এগুলো সম্পূর্ণ আঁটসাঁট নয়, ঢোলাঢালা ও ঘের দেয়া। নিট কাপড় ছাড়াও পশমি উল ও ক্রুশকাজের লং সোয়েটারও পরছেন অনেকে।

কোমরে বেল্ট বা বোতাম রয়েছে এমন ধরনের লং সোয়েটার টিন অর্থাৎ কলেজপড়–য়াদের বেশি মানাবে। পাতলা কাপড়ের লং সোয়েটার চলছে বেশ। তবে অল্প শীতে এ ধরনের পাতলা সোয়েটার আরামদায়ক। এসব সোয়েটার স্কিন জিন্স ছাড়াও সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে পরা যায়। কিছু সোয়েটারে হাতে ¯িøভ বৈচিত্র্যতাও চোখে পড়ে।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj