নেপাল গাধিমাই : বিশ্বের বড় রক্তাক্ত উৎসব

শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : প্রায় পাঁচ বছর কম সময় আগে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রক্তাক্ত উৎসব বলে পরিচিত নেপালের ধর্মীয় পশু বলিদান প্রথার সমাপ্তি ঘোষণা করেছিল নেপালের প্রাণী দাতব্য সংস্থাগুলো। কিন্তু মঙ্গলবার ছাগল, ইঁদুর, মুরগি, শুকর আর কবুতর হত্যার মধ্য দিয়ে ‘গাধিমাই উৎসব’ আবার শুরু করা হয়েছে। নেপালের প্রত্যন্ত ওই এলাকা ঘুরে আসা একজন প্রাণী অধিকার কর্মী বলছেন, এরপরে সেখানে কয়েক হাজার মহিষ হত্যা করা হয়। ২০১৪ সালের সর্বশেষ উৎসবে প্রায় দুই লাখ প্রাণী হত্যা করা হয়েছিল। এই প্রথার শুরু হয় প্রায় আড়াইশ বছর আগে থেকে। তখন একজন পুরোহিত বলেছিলেন যে, তিনি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছেন, শক্তির দেবী গাধিমাই তাকে বলেছেন যে, কারাগার থেকে তাকে মুক্ত করতে হলে রক্ত ঝরাতে হবে। যে লাখ-লাখ ভক্ত ভারত ও নেপাল থেকে নেপালের বারিয়ারপুরে গাধিমাই দেবীর মন্দিরে যান, তাদের কাছে এটা নিজেদের ইচ্ছা পূরণ করার একটি সুযোগ।

আমার চারজন বোন রয়েছে। আট বছর আগে আমি একটা ভাইয়ের জন্য কামনা করি এবং দেবী আমার সেই আশা পূরণ করেছেন, বিবিসির নেপালি ভাষা সার্ভিসের কাছে বলছেন জনকপুর থেকে আসা প্রিয়াঙ্কা যাদব।

২০১৫ সালে হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল এবং অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক নেপাল বিজয় ঘোষণা করে জানায় যে, পশু বলিদান নেপালে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে বারিয়ারপুর গাধিমাই মন্দিরের চেয়ারম্যান রাম চন্দ্র শাহ বিবিসিকে বলছেন, এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ভক্ত হিন্দুদের অনুরোধ করা যেতে পারে যাতে তারা দেবীর উদ্দেশ্যে পশু বলি না দেন। কিন্তু সেজন্য তাদের বাধ্য করা যাবে না এবং এই রীতিও পুরোপুরি নিষিদ্ধ বা বন্ধ করা যাবে না। তিনি তখন বলেছিলেন। ২ দিনব্যাপী এই উৎসবটি শুরু হওয়ার আগে পশুর আনা-নেয়া আটকে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। অনুমোদন ছাড়া সীমান্ত দিয়ে পশু পারাপার করার সময় সেগুলো জব্দ করতে শুরু করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। নেপালের সরকারও কোনোরকম সহায়তা করেনি বলে জানিয়েছেন উৎসবের চেয়ারম্যান মোতিলাল কুশোয়া। তা সত্ত্বেও নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে বারিয়ারপুরের মন্দিরে পশু আনা হতে থাকে। মঙ্গলবার ভোর থেকে ২০০ কসাই তাদের কাজকর্ম শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নেয়।

উৎসবের চেয়ারম্যান মতিলাল কুশোয়া বিবিসিকে জানিয়েছেন, এই আয়োজনের মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যের খাবার ও তাঁবু।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj