ভোক্তাস্বার্থ সুরক্ষায় কেন পৃথক মন্ত্রণালয় নয়

শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯

সম্প্রতি কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ভোক্তাস্বার্থ সুরক্ষার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বিভাগ কিংবা একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে। কারণ ঐতিহাসিকভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান ভূমিকা ও কাজ হলো ব্যবসা সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষা দেয়া। দেশে শিল্প-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানির যারা চালিকাশক্তি, তাদের প্রতি অধিকতর সহানুভূতিশীল থাকা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য স্বাভাবিক বিষয়। দেশে ন্যায্য ব্যবসার চর্চা থাকলে হয়তো ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম অংশীজন ভোক্তাদের বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ সৃষ্টি হতো। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এই দায়িত্ব পালন করে সব পরিস্থিতিতে ভোক্তাস্বার্থ সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্রমাগত সিন্ডিকেট ও অসুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের কারণে বড় ব্যবসায়ীরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে কীভাবে ঠকানো যায়, সেটাই মুখ্য বিষয় হয়ে যায়, সেখানে একটা স্বার্থের বড় সংঘাত থাকে। প্রশাসনিক বিন্যাসের বেলায় আমরা যদি উপমহাদেশের ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলেও একটি মৌলিক ভিন্নতা লক্ষ করি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের কাঠামোগত উত্তরাধিকার বহন করে চলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতকে নয়, পাকিস্তানকেই বেশি অনুসরণ করেছে। স্বাধীনতার পরে পাকিস্তানি আমলাতান্ত্রিক কাঠামোকে পুরোপুরি গ্রহণ করে যাবতীয় প্রশাসনিক বিন্যাস ও কাঠামো পুনর্গঠন করা একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

দেশের ১৭ কোটি মানুষই ক্রেতা-ভোক্তা হলেও তাদের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষায় কোনো পৃথক মন্ত্রণালয় নেই। ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ক্ষুদ্র অধিদপ্তরের মাধ্যমে কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও এটিও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। আর ভোক্তাদের অধিকার ও সুবিধা প্রদানের জন্য সবকিছুর ভার দেয়া হয়েছে ব্যবসায়ীদের ওপর। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোক্তা স্বার্থের বিষয়টি দেখভাল করার কারণে ভোক্তাস্বার্থ বারবার উপেক্ষিত ও ভূলণ্ঠিত হচ্ছে। বিষয়গুলো অনেকটাই বিড়ালকে মাছ পাহারা দেয়ার মতো। ফলে ব্যবসায়ীরা মুক্তবাজার অর্থনীতির নামে একবার পেঁয়াজ, একবার চাল, একবার মসলা, একবার সয়াবিন- এভাবে বছরজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণের পকেট কাটছে।

দেশে বর্তমানে ভোক্তাদের স্বার্থসংক্রান্ত বিষয়গুলো ১৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ দেখে থাকে। নতুন মন্ত্রণালয় হলে তারা সবার সঙ্গে সমন্বয় সাধনের কাজটা অনেক ভালোভাবে করতে পারবেন। সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রব্যবস্থার মূলমন্ত্র হলো সবার আগে নাগরিক ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা। যখন বিষয়গুলো বিপন্ন ও ক্ষুণœ হতে পারে, তখন নতুন নতুন কৌশল ও পন্থা উদ্ভাবন করাটাই সমীচীন। এবারের পেঁয়াজ বলেই নয়, অতীতের সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য-ভোগ্যপণ্য সংকট মোকাবেলায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ এবং তার ফলাফল বিবেচনায় নিলে একটি বিষয় পরিষ্কার। তবে অধিকাংশ সময়ই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের দায়িত্ব পালনে সফলতা দেখাতে সমর্থ হয়নি। পৃথক মন্ত্রণালয় থাকলে অবশ্যই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক মহলে ভোক্তাস্বার্থের দিকগুলো বেশি মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে আসবে। কারণ একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী, সচিব ও অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অন্তত সারাক্ষণ ভোক্তাদের কাছে জবাবদিহি করবে, সেটিই বা কম কিসের। তাই এ মুহূর্তে নতুন পৃথক মন্ত্রণালয় করা সম্ভব না হলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অবিলম্বে আমরা একটি নতুন বিভাগ খুলে জনপ্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী এগিয়ে আসবেন, এটা আশা করা যায়।

এস এম নাজের হোসাইন

ভাইস প্রেসিডেন্ট, ক্যাব।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj