বাণিজ্যমন্ত্রী : সুদহার না কমলে বাড়তেই থাকবে খেলাপি

শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : সুদহার এক অঙ্কে নামানোর অজুহাতে নানা সুবিধা নিলেও ব্যাংকাররা সুদহার কমাননি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। পাশাপাশি বর্তমান রাজস্ব আদায়ের নিয়মের সমালোচনা করে বলেন, এ নিয়মে করের আওতা না বাড়িয়ে একই ব্যক্তির ওপর কর চাপিয়ে দিচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে ব্যবসা করা যায় না। তিন দিনব্যাপী আয়োজিত সিরামিক এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সিরামিক এক্সপোতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া আসার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম তার অনুপস্থিত থাকাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি ঋণের উচ্চ সুদহার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার ১১ মাস কী করেছেন জানতে চান।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী সিরামিক এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইফরান উদ্দিন প্রমুখ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি যা বলি তার উল্টোটা পত্রিকায় ছাপা হয়। সেদিন পেঁয়াজের দাম বাড়ার বিষয়ে বললাম, আমি পদত্যাগ করলে যদি পেঁয়াজের দাম কমে যায় তাহলে পদত্যাগ করাটা এক মিনিটের ব্যাপার। পরের দিন পেপারে খবর আসল, আমি পদত্যাগ করব। এটা আমাদের প্রবেøম। ব্যাংকারদের ক্ষেত্রেও একই কথা। তারা সুবিধা নিলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার বললেন তারপরও কাজের কাজ কিছুই হলো না। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে অর্থমন্ত্রী ব্যাংকারদের নিয়ে বসেছিলেন। সম্ভবত জানুয়ারি থেকে সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেখি কী হয়, আমাদের ভরসা করা ছাড়া তো আর কিছু করার নেই। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এনবিআর যে পদ্ধতি নিয়ে রাজস্ব সংগ্রহ করে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এ পদ্ধতিটা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে অনেক মানুষ আছে আয়কর দেয়ার যোগ্য। কিন্তু কয়জন দেয়? এই পরিধিটা বড় না করে যারা দেয় তাদের ওপরই যদি চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে যারা দেয় তাদের তো নাভিশ্বাস উঠে যাবে, যোগ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ফজলে ফাহিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেখানে ব্যবসায়ীদের সম্মান করছে, সংবর্ধনা দিচ্ছে সেখানে এনবিআর ব্যবসায়ীদের বাধা সৃষ্টি করছে। গ্লোবাল কম্পিটিশন, ব্যাংকের উচ্চ সুদ ব্যবসাকে পেছনের দিকে নিচ্ছে উল্লেখ করে শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, যেখানে সিম্পল ইন্টারেস্টে সিঙ্গেল ডিজিট হওয়ার কথা (সহজ শর্তে ব্যাংকের সুদ হার এক অঙ্কে) সেখানে বর্তমান অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার ১১ মাস পরে এসে বলছেন, বাংলাদেশে ব্যাংকের সুদের হার এত বেশি যে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করা খুবই কষ্টকর। আমার প্রশ্ন, তাহলে তিনি ১১ মাস কি ঘুমিয়ে ছিলেন। যখন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এই উদ্বেগের বিষয়গুলো জোরালোভাবে আসছে তখন তিনি এই বক্তব্য দিয়ে আবারো বিশ্রামে চলে যাবেন। এগুলো দুঃখজনক।

সকল বাধা দূর করতে আমাদের এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।

সিরামিক সেক্টরের উত্থান তুলে ধরে এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, গত দশ বছরে ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বাজার বেড়েছে। অর্থাৎ ২০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ঘটেছে এই খাতে। সুতরাং এ শিল্পকে সুবিধা দিয়ে বিকাশ করা দরকার। তা না করে উল্টো শিল্পের ওপর একের পর এক কর বসানো হচ্ছে। কর দিতে হয়, আমদানি শুল্ক দিতে হয়।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj