নেপথ্যে যৌন ব্যবসা : প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ২ খদ্দের হত্যা করে বৃদ্ধা-তরুণীকে

শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : রাজধানীর মিরপুরে জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত দুজনের একজন প্রাপ্ত বয়স্ক হলেও অপরজন ছিল অপ্রাপ্ত বয়স্ক। খদ্দের হিসেবে তারা নিহত তরুণী সুমি আক্তারের (২০) সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপের উদ্দেশ্যে যায়। আর ওই তরুণীকে দিয়ে নিজ বাসায় যৌন ব্যবসা চালাতেন নিহত বৃদ্ধা রহিমা বেগম (৬৫)। আর খদ্দের হিসেবে যাওয়া ওই দুজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হলে এক পর্যায়ে বৃদ্ধা ও তরুণীকে শ^াসরোধে হত্যা করে তারা।

রাজধানীর মিরপুরে জোড়া খুনের ঘটনায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. আবদুল বাতেন। পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে মিরপুর ২ নম্বর সেকশনের এ ব্লুকের ২ নম্বর সড়কের ৯ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলা থেকে রহিমা ও সুমির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রহিমা ওই বাড়িতে একাই থাকতেন, আর সুমি তার একদিন আগেই ওই বাড়িতে কাজ নেন। এর মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। পরে নারায়ণগঞ্জে থাকা রহিমার মেয়ে মামলা করার পর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তে নেমে গত বুধবার দুজনকে পুরান ঢাকার সদরঘাট থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনই পেশায় রাজমিস্ত্রি, একজনের নাম ইউসুফ খান (১৯) ও অন্যজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তারা দুজন ওই দুই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, রহিমা তার বাড়িতে যৌন ব্যবসা চালাতেন ও এ কাজে তাকে মদত জোগাতেন বাবুল নামে এক ব্যক্তি। এক রাত যাপনের জন্য জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা নিত রহিমা। তবে ইউসুফসহ দুজন সেদিন খদ্দের হিসেবে ওই বাড়িতে গেলে তাদের হাতে মোট ছিল সাড়ে ৩ হাজার টাকা। তাই ওই দুজন যখন কম টাকা নিতে বলছিল, তখন রহিমা বাবুলের ভয় দেখিয়েছিল। তখন তারা দুজন সিদ্ধান্ত নেয়, টাকা কম থাকায় একজন সুমির সঙ্গে রাতযাপন করবে। পরে অন্যজন রাতে বারান্দায় ছিল। কিন্তু ভোরের দিকে তাদের মনে ভয় ঢুকে যায় যে, যদি সকালে বাবুল আসে ও কম টাকা দেয়ায় তাদের মেরে ফেলে। তখন তারা সুমিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় বুঝতে পারে যে, দরজার চাবি রহিমা বেগমের কক্ষে। তখন দুজন রহিমাকে ফোন করে ঘুম থেকে তোলে। পরে রহিমার সঙ্গে তারা ঝগড়ায় জড়িয়ে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করে। ভয় থেকে তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা বাতেন। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরো তথ্য জানা যাবে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা। তবে নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এমনও হতে পারে যে একজনের কথা বলে দুজন ওই তরুণীর সঙ্গে রাত কাটাতে চাওয়ায় তিনি হয়তো চিৎকার বা ঝামেলা করেছে। তাই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। রহিমা বিষয়টি জেনে যাওয়ায় তাকেও হত্যা করে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj