কাউনিয়ায় মাছের অভয়াশ্রম মাত্র একটি!

শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

গৌতম সরকার, কাউনিয়া (রংপুর) থেকে : উত্তর ও পূর্বে তিস্তা নদীবেষ্টিত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা মাছ চাষে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও এ উপজেলায় মাছের অভয়াশ্রম রয়েছে মাত্র একটি। অথচ এ উপজেলায় রয়েছে ১৪৪ একর জমি নিয়ে রংপুর জেলার সবচেয়ে বড় বিল ‘ধূমনদী’। এ ছাড়া রয়েছে তপসীডাঙ্গা বিলসহ বড় চারটি সরকারি বিল। যার আয়তন প্রায় ২০০ একর। সরকারি বিল ছাড়াও উপজেলায় ব্যক্তি মালিকানায় রয়েছে ৪ হাজার ১৪৩টি ছোট-বড় পুকুর।

এ উপজেলার মৎস্যচাষিদের উৎপাদিত মাছ জেলা শহরের চাহিদা মিটিয়েও জেলার বাইরে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন মৎস্য আড়তে বিক্রি হয়। কিন্তু উপজেলাটিতে মাছের অভয়াশ্রম রয়েছে মাত্র একটি। তাও আবার নামেমাত্র। উপজেলার তপসীডাঙ্গা বিলে অভয়াশ্রমটি থাকলেও সেখানে দেদার মাছ নিধন চলে। এটি দেখার কেউ নেই। নেই তেমন কোনো তদারকি বা নজরদারি। নামকাওয়াস্তে অভয়াশ্রমের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা নেই।

এলাকার মাছচাষিরা বলছেন, দেশীয় মাছ রক্ষায় সরকারিভাবে সময় মতো পদক্ষেপ জরুরি। তা না হলে দেশীয় মাছ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

উপজেলার পূর্ব চান্দঘাট গ্রামের রংপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ও সফল মাছচাষি আ. ছোবহান বলেন, মাছের অভয়াশ্রম না থাকায় দিন দিন দেশীয় মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা হাইব্রিড জাতীয় মাছ চাষের ওপর নির্ভশীল হয়ে পড়ছি। একই এলাকার অপর মাছচাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, মাছের অভয়াশ্রম না থাকলে আর কয়েক বছর পর দেশি জাতের মাছ যেমন- কৈ, গচি, পাপদা, মাগুর, পুঁটি, শোল, ময়াসহ অনেক মাছ আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশীয় মাছ রক্ষায় মাছের অভয়াশ্রমের বিকল্প নেই। এ উপজেলায় মাছের একটি মাত্র অভয়াশ্রম আছে। তবে শিগগিরই আরো ৩-৪টি অভয়াশ্রম নির্ধারণ করা হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj