বব উইলিসের মৃত্যুতে ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া

শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : কিংবদন্তি সাবেক পেসার ও ইংলিশ অধিনায়ক বব উইলিসের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো ক্রীড়াঙ্গনে। নিজের ক্যারিয়ারে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নে পাঠাতেন তিনি। গত বুধবার রাতে ৭০ বছর বয়সে এসে থাইরয়েড ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করে না ফেরার দেশে চলে যতে হলো তাকে। ঝাঁকড়া চুল আর লম্বা রানআপের সঙ্গে আগ্রাসী পেস বোলিং দিয়ে ‘রোল মডেল’ হওয়া বিশে^র সর্বকালের অন্যতম এক সময়কার সেরা এ পেসার হয়েছিলেন অনেক তরুণের রোল মডেল।

বব উইলিস যথন বল করতেন তখন ব্যাটসম্যানদের বুকে কাঁপুনি ধরত। তার ছন্দময় দৌড়ের অ্যাকশন দেখে খেই হারিয়ে ফেলতো প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা। সত্তর দশকে অস্ট্রেলিয়া এবং উইন্ডিজ পেসারদের জয়জয়কারের সময় ইংলিশ ক্রিকেটে আবির্ভাব ঘটে বব উইলিসের। ১৯৭১ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের পর ১৩ বছর ধরে ইংল্যান্ডের পেস বোলিংয়ের অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি। ৯০ টেস্টের পরে যখন খেলা ছাড়েন, তখন তার নামের পাশে যুক্ত হয় ৩২৫ উইকেট। সেই সময়ে তিনিই ছিলেন ইতিহাসের সফলতম একমাত্র টেস্ট বোলার। পরবর্তীকালে অবশ্য মাত্র তিনজন বোলার বব উইলিসকে ছাপিয়ে গেছে। তারা হলেন- জেমস অ্যান্ডারসন (৫৭৫), স্টুয়ার্ট ব্রড (৪৭১) এবং ইয়ান বোথাম (৩৮৩)।

উইলিসের ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত ছিল ১৯৮১-এর অ্যাসেজের হেডিংলে টেস্ট। ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে এখনো সেটি স্মরণীয়। ফলোঅন হজম করে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে বিপাকে পড়েছিল। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে বোথামের আক্রমণাত্মক ১৪৮ বলে ১৪৯ রানের ইনিংস ম্যাচে ফিরিয়ে আনে ইংলিশদের। তারপর বল হাতে ভেলকি দেখান উইলিস। ৪৩ রানে ৮ জন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়েছিলেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে ইংল্যান্ডকে ১৮টি টেস্ট ও ২৯টি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বব উইলিস। ১৯৭৫ সালে ক্যারিয়ার শুরুতেই উইলিসের দুপায়ের হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়। সেই আঘাত সামলে দেশের জার্সিতে খেলেন ১৯৭৯ ও ১৯৮৩ সালের বিশ^কাপ। বব উইলিস বোলিংয়ের পাশাপাশি প্রত্যাবর্তনের নায়ক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন চিরকাল।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj