এইডস এবং মুখের রোগ : ডা. মো. ফারুক হোসেন

শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

এইচআইভি বা ঐঁসধহ ওসসঁহড়-ফবভরপরবহপু ঠরৎঁং. ২০১৮ সালে টঘঅওউঝ-এর ডাটা অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী ১ মিলিয়ন মানুষ এইডস সম্পৃক্ত রোগে মারা যায়। এইচআইভি আক্রান্তদের তিন ভাগের এক ভাগেরও বেশি মানুষের মুখে সমস্যা থাকে। এটি হয়ে থাকে দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে।

সর্ব সাধারণের সচেতনতার জন্য এইচআইভি সংক্রমণের কিছু লক্ষণ জানা প্রয়োজন যেমন-

* বারবার জ্বর আসা। দ্রুত গতিতে ওজন কমে যাওয়া।

* শুষ্ক কাশি।

* রাতের বেলায় প্রচণ্ড ঘামিয়ে যাওয়া।

* অনবরত এবং বর্ণানাতীত দুর্বলতা।

* কিছু স্থানের লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া।

* এক সপ্তাহের বেশি সময় ডায়রিয়া থাকলে।

* সাদা অথবা ব্যতিক্রমধর্মী কোনো দাগ জিহ্বা বা মুখের ভিতর দেখা দিলে।

* স্মৃতি শক্তি ধীরে ধীরে নষ্ট হওয়া এবং বিষণœতা।

এইচআইভি আক্রান্তদের মুখের সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়।

যেমন-

* ওরাল ক্যান্ডিডোসিস (থ্রাশ)।

* বারবার মুখে অ্যাপথাস আলসার।

* হেয়ারি লিউকোপ্লাকিয়া।

* জ্বর ঠোসা।

* ক্যাপোসিস সারকোমা (টিউমার)।

* হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস সংক্রমণ।

* লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া।

* শুষ্ক মুখ, দাঁতে ক্ষয়।

* জিহ্বা বা মুখে কালো, সাদা বিশেষ ধরনের দাগ।

তার মানে এই নয় যে, উপরের মুখের ও শারীরিক লক্ষণসমূহ দেখা দিলেই কেউ এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছেন বা এইডস রোগ আছে- এমনটি ভাবা মোটেও ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে আপনার চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে আপনাকে এইডস পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। এইডস পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ হওয়ার অর্থ এই নয় যে, আপনার এইডস রোগ হয়ে গেছে। এমন অনেক মানুষ দেখা গেছে যারা এইচআইভি আক্রান্ত, তাদের অনেক বছর কোনো লক্ষণই দেখা যায়নি। এইচআইভি সংক্রমণের লক্ষণসমূহের ওপর ভিত্তি করে ও সব সময় মন্তব্য করা ঠিক নয়। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এইডস বিস্তারে বর্তমানে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। এইডস রোগীর পরিসংখ্যান যাই হোক না কেন এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে। কেবল সভা, সেমিনার নয় সত্যিকার অর্থে কাজ করতে হবে।

একটি কথা না বললেই নয় যে, বর্তমানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বেশ কিছু এইচআইভি ভাইরাস পজিটিভ ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ রোহিঙ্গাদেরই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়নি। তাই যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে আমাদের দেশের জনগণ এইডস-এর ব্যাপক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তাই এই বিষয়টি সবার খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে মিয়ানমারে প্রচুর এইডস রোগী রয়েছে। তাই বাঁচতে হলে শুধু জানলেই হবে না, অন্যকে জানানোর মাধ্যমে সার্বিক সামাজিক সচেতনতার লক্ষ্যে সবার একযোগে কাজ করতে হবে।

মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

ইমপ্রেস ওরাল কেয়ার-বর্ণমালা সড়ক,

ইব্রাহিমপুর, ঢাকা।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj