উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড

শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড (জন্ম : ৬ ডিসেম্বর, ১৯১৭; মৃত্যু : ১৮ মে, ২০০১) অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র বিদেশি ওলন্দাজ নাগরিক, যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার কর্তৃক ‘বীর প্রতীক’ রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত হন। ওডারল্যান্ড ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৭ বছর বয়সে তিনি বাটা সু কোম্পানিতে সু-শাইনার বা জুতা পলিশকারের চাকরি নেন। দুবছর পর চাকরি ছেড়ে তিনি জাতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি ১৯৪০ সালে সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে ওলন্দাজ বাহিনীর গেরিলা কমান্ডো হিসেবে দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধে অংশ নেন। ঢাকায় বাটা সু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে ওডারল্যান্ড ১৯৭০ সালের শেষের দিকে প্রথম ঢাকায় আসেন। কয়েক মাসের মধেই তিনি কোম্পানি ম্যানেজার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও নৃশংস বর্বরতা দেখে তিনি মর্মাহত হন এবং যুদ্ধে বাংলাদেশকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমদিকে তিনি দখলদার পাকবাহিনীর পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের গোপন তথ্য সংগ্রহ করে আগেভাগেই মুক্তিযোদ্ধাদের জানিয়ে দিতেন। একজন বিদেশি হিসেবে পাকবাহিনীর কাছে তার নিঃসংশয় গ্রহণযোগ্যতা ছিল বলে তিনি সেনাসদরে অনেকটা অবাধ বিচরণের এবং প্রায়শ সেনানিবাসে সামরিক অফিসারদের আলোচনা সভায় অংশ নেয়ার সুযোগ পান। তিনি গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ, আর্থিক সহায়তা এবং সব সম্ভাব্য উপায়ে সাহায্য করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গেরিলা কমান্ডো হিসেবে স্বীয় অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এবং স্বয়ং ২নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা শাখার সক্রিয় সদস্যরূপে অকুতোভয় ওডারল্যান্ড বাটা ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণসহ টঙ্গীর কয়েকটি গোপন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত গেরিলা রণকৌশলের প্রশিক্ষণ দিতেন। এর পাশাপাশি তিনি মুক্তিযুদ্ধের গোড়ার দিকে বাংলাদেশে পাকবাহিনীর নৃশংস নির্যাতন ও গণহত্যার আলোকচিত্র তুলে গোপনে বহির্বিশ্বের বিভিন্ন তথ্য-মাধ্যমে পাঠাতে শুরু করেন এবং এরূপে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন। ওডারল্যান্ড ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ঢাকায় ছিলেন। তারপর চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ফিরে যান অস্ট্রেলিয়ায়। জীবনের শেষ দিনগুলোতে প্রায়ই তিনি তার স্ত্রী ও কন্যাকে বলতেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের ভালোবাসা; পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে আবেগের এ ধারা অব্যাহত রেখো।’

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj