রাইনের মারিয়া রিলকে

বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৯

রাইনের মারিয়া রিলকে (জন্ম : ৪ ডিসেম্বর, ১৮৭৫; মৃত্যু: ২৯ ডিসেম্বর, ১৯২৬) বিখ্যাত জার্মান কবি ও ঔপন্যাসিক। রাইনের মারিয়া রিলকের পুরো নাম রেনে কার্ল উইলহেম জোহান জোসেফ মারিয়া রিলকে। তার লেখা কবিতা এবং গদ্য উভয়ই গীতিময়। একটা মিস্টিক বা রহস্যময় আঙ্গিক রিলকের লেখার বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এলিয়টের মতোই তার বেশিরভাগ লেখাতে নিঃসঙ্গতা ও উদ্বিগ্নতা গ্রাস করেছে। সৃষ্টির মধ্যে অস্তিত্বের এই টানাপড়েনই তাকে যথার্থ আধুনিক কবি করে তুলেছে। রিলকে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার ছোটবেলাটা খুব সুখের ছিল না। বাবা জোসেফ রিলকে সেনাবাহিনীর চাকরি ছাড়ার পর রেলওয়ে অফিসার হন। মা সোফিয়ার সঙ্গেই রিলকের ছোটবেলার বেশিরভাগ সময়টা কেটেছে। রিলকের জন্মের আগেই তার মায়ের প্রথম কন্যাসন্তান মারা যায়। সেই শোক ভুলতে না পেরেই তার মা তাকে মেয়েদের পোশাক পরিয়ে রাখতেন। বাবা মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের পরে তাকে জোর করে মিলিটারি একাডেমিতে পাঠানো হয়। ১৮৮৬ থেকে ১৮৯৫ পর্যন্ত সেখানে থাকার পর অসুস্থতার জন্য একাডেমি ছেড়ে দেন। ১৮৯৫ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশিকা পরীক্ষা পাস করেন। ১৮৯৬ পর্যন্ত তিনি সাহিত্য শিল্প ইতিহাস ও দর্শন নিয়ে প্রাগ ও মিউনিখে পড়াশোনা করেন। রিলকে তার ‘দুইনো এলিজি’ কাব্যের জন্য বিখ্যাত হলেও জার্মান ও ফরাসি ভাষায় তিনি বহু কবিতা ও গদ্য লিখে গেছেন। তার ‘ঘণ্টার বই’ হলো তিনটি কবিতার সম্পূর্ণ সংকলন। বিশ শতকের গোড়ার দিকে রাশিয়ায় ভ্রমণকালে সেন্ট ফ্রান্সিস ও খ্রিস্টান ধর্মের ঈশ্বরবিশ্বাস নিয়ে কবিতাগুলো লেখা। ‘মাল্ট লরিডস ব্রিজের নোটবুক’ জার্মান ভাষায় লেখা রিলকের একমাত্র আত্মজৈবনিক ধাঁচের উপন্যাস। যৌবনে লেখা বইগুলোতে রিলকে বারবার নিঃসঙ্গতার প্রসঙ্গে ফিরে আসেন। মাল্টেতে তা গম্ভীর ও ভারি হয়ে পড়ে। ১৯১২ সাল থেকে কাউন্টেস মারি ভন থার্নের অতিথি হয়ে তিনি দুইনো ক্যাসলে থাকতে শুরু করেন। ১৯১২ থেকে ১৯২২ এই সময়েই তিনি তার বিখ্যাত এলিজিগুলো লেখেন। মাঝে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে অবসাদগ্রস্ত হয়ে কয়েক বছর লেখা বন্ধ রাখেন। এলিজিগুলোর গীতিকাব্যময়তা ও মিস্টিসিজমের পাশাপাশি অস্তিত্বের টানাপড়েন একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে। রিলকে ইম্প্রেশনিস্ট কবি, তাই খ্রিস্টান ধর্ম ও বিশ্বাস নিয়ে প্রতীকী দৃষ্টিভঙ্গি কবিতাগুলোর বিশেষত্ব।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল

শিশুদের জন্য উৎসব

মযহারুল ইসলাম বাবলা

চেতনার ভেতর-বাহির

Bhorerkagoj