ক্রিকেটারদের নতুন প্রযুক্তি ‘ব্যাটসেন্স’

মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর ২০১৯

বর্তমান বিশে^ ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে আকর্ষণীয় ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে যেমনি উদ্ভাবিত হচ্ছে নিত্যনতুন প্রযুক্তি, তেমনি এর সফল প্রয়োগ ক্রিকেট খেলাকে দিচ্ছে নতুন মাত্রা। শুধু তাই নয়, ক্রিকেট খেলা এখন হয়ে উঠেছে প্রযুক্তিনির্ভর খেলা। প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ক্রিকেট খেলার পণ্যসহ দর্শকদের জন্য প্রতিটি অংশেই রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির প্রত্যক্ষ ছোঁয়া। তেমনি ‘ব্যাটসেন্স’ নামক অত্যাধুনিক যন্ত্রটি ব্যাটসম্যানকে তার ব্যাটিংয়ের সব তথ্য দেবে। ভিডিও বিশ্লেষকের মতো ব্যাটিং কতটা নিখুঁত হচ্ছে, ব্যাটের গতি কেমন ছিল, কতগুলো বল খেলা হয়েছে এসব তথ্যও সংগ্রহে রাখবে। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ ক্রিকেট বিশ^কাপের সময় অস্ট্রেলিয়ান মারকুটে ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার তার ব্যাটে ব্যবহার করেছেন ‘ব্যাটসেন্স’ প্রযুক্তি। ওয়ার্নারের ব্যবহারের কারণে আলোচনায় এসেছিল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মিত ছোট্ট এই যন্ত্রটি।

ক্রিকেট খেলায় প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন কিছু নয়। তবে বাংলাদেশে এই প্রথম ক্রিকেটে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হতে যাচ্ছে। ‘ব্যাটসেন্স’ নামে এই চিপ প্রযুক্তি চলে এসেছে বাংলাদেশেও। প্রথমবারের মতো এই যন্ত্রের ব্যবহার শুরু করেছে সাকিব-মুশফিকদের মতো দেশসেরা ক্রিকেটার তৈরির কারিগর বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। গত ২৭ নভেম্বর বিকেএসপির কনফারেন্স রুমে এক সেমিনারে প্রযুক্তিটির ব্যবহার সম্পর্কে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। ব্যাটসম্যানদের সুবিধার্থে এই যন্ত্র বিকেএসপিতে আনেন লন্ডনপ্রবাসী সাবেক ক্রিকেটার শহীদুল রতন। স্মার্ট ক্রিকেট তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে এই আধুনিক যন্ত্র আনেন তিনি।

ব্যাটের হাতলের চূড়ায় থাকা ডিভাইসটি মোবাইল অ্যাপে ব্যাটিংয়ের বিভিন্ন তথ্য দেয়। ত্বরিতগতিতে তথ্য পরিবহনে সক্ষম এই ডিভাইস। তথ্য মজুত করে রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। বিকেএসপিতে নেট সেশনে ক্রিকেটাররা এটি দিয়ে অনুশীলনও করেছে। সে সময় ভিডিও বিশ্লেষকের মতো ডিভাইসটি জানিয়ে দিচ্ছিল- ব্যাটিং কতটা নিখুঁত হচ্ছে, ব্যাটের গতি কেমন ছিল, কতগুলো বল খেলা হয়েছে ইত্যাদি।

ব্যাটসেন্সকে স্বীকৃতি দিয়েছে আইসিসিও। বিকেএসপির প্রখ্যাত কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিম মনে করছেন, ‘ব্যাটসেন্স’ ব্যবহার করে ব্যাটসম্যান নিজের সম্পর্কে নিজেই জানতে পারবেন সহজে। তিনি আরো বলেন, হয়তো অনেক তথ্যই পাওয়া যাবে, যার জন্য বেশি পরিশ্রম করতে হবে না। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয় ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে, যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়।

সাধারণত ব্যাটিংয়ের টেকনিক-ভুলত্রুটি বিশ্লেষণের জন্য কোচ বা পরামর্শকের দ্বারস্থ হতে হয় ব্যাটসম্যানদের। তবে এখন থেকে বিকেএসপির ব্যাটসম্যানদের থাকছে না সেই বাধ্যবাধকতা। এসে গেছে নতুন এক ডিভাইস, যার মাধ্যমে নিজের মোবাইল ফোনসেটই বলে দেবে- ব্যাটিংয়ের কোথায় কী করা প্রয়োজন। অর্থাৎ মোবাইল ফোনে দেখে নিজের সম্পর্কে জানতে পারবে একজন ব্যাটসম্যান। ‘ব্যাটসেন্স’ যন্ত্রটি তথ্য মজুত রাখে বলে, নিজেকে নিয়ে বারবার পর্যালোচনা করতে পারবে ক্রিকেটাররা।

ক্রিকেটকে বলা হয় ভদ্রলোকের খেলা। সমালোচকরা বলেন, অলস লোকের খেলা। তবে যে যাই বলুক, ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে, বৈ কমছে না। ক্রিকেট কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সীমা ছাড়িয়ে বিশে^র বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি চীনের মতো সমাজতান্ত্রিক দেশেও এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

এসব দেশের সরকার ও ক্রীড়া সংগঠনগুলো ক্রিকেটের প্রতি সবার আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ক্রীড়ামোদিদের নিকট এখন ফুটবলের পরই সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। তবে এ উপমহাদেশ বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতা তথা আইসিসি বিশ^কাপ ক্রিকেটে একবার করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্রিকেট উন্মাদনা আরো অনেক বেড়ে গেছে। সেই সূত্রে এ অঞ্চলে ক্রিকেট এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় এক খেলায় পরিণত হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পর বাংলাদেশেও ক্রিকেট উন্মাদনা অনেক গুণে বেড়ে গেছে। দিন দিন এর কলেবর বাড়ছে। বাড়ছে সাফল্য, ক্রীড়ানৈপুণ্য আর রেকর্ড। সেই সঙ্গে ক্রিকেটে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি।

:: আ ত ম মাসুদুল বারী

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj