ট্রেন্ড : ভিন্নতা ও নতুনত্বে…

রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৯

শেফালী সোহেল

জাঙ্ক জুয়েলারির বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে এগুলো বেশ বড়, অনেক বেশি রঙিন আর নজরকাড়া। দামও তুলনামূলক কম। টপস, কুর্তা, জিন্স, শার্ট, টিউনিক, স্কার্ট বা ক্যাপ্রি সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেও মানানসই। এতে পোশাকের সঙ্গে রঙ মেলানোর ঝামেলা নেই, যে কোনো পোশাকের সঙ্গে সুন্দর মানিয়ে যায়। দেখতে ভারী মনে হলেও এ গহনাগুলো বেশ হালকা, তাই স্বাচ্ছন্দ্যে পরা যায়। তাই যে পোশাকের সঙ্গে পরুন না কেন, খুব বেশি গহনা না পরে দু-একটি গহনা পরুন। এতে দেখতে যেমন ছিমছাম লাগবে, তেমনি নজরকাড়াও লাগবে।

চটজলদি তৈরি হয়ে যেতে হবে বন্ধুদের আড্ডা বা কোনো পার্টিতে। কতক্ষণ সময় নেন ঠিকঠাক রেডি হতে? বড়জোড় ৩০ মিনিট? এ কম সময়ে ছিমছাম লুকে আবার নিজেকেও দেখতে চান গর্জিয়াস। চিন্তার শেষ নেই, পাশ্চাত্য পোশাকে মেকআপের সঙ্গে সঙ্গে গহনা কী থাকবে? বাড়তি চিন্তা না নিয়ে অপশন হিসেবে নিতে পারেন জাঙ্ক জুয়েলারি।

খুব গর্জাস পার্টি ছাড়া হালকা গয়নার দিকে ঝুঁকছেন তরুণীরা। পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গে তামা, হাতের কাজ করা মালা, কাপড়ের মালা, গলা খোলা মালা এখন বেশ ট্রেন্ডি।

পেঁচানো, একটু লম্বা, গোল- নানা আকারে জাঙ্ক জুয়েলারির দেখা মেলে এখন। এটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন মেটাল, বেশিরভাগ সময় পিতল ও রুপা, সঙ্গে থাকে পাথর বা পুঁতির কারুকাজ।

মেটাল ও নানারকম বিডস দিয়ে তৈরি এসব গহনার নকশায় করা হচ্ছে নানারকম এক্সপেরিমেন্ট। ফলে একই গহনায় মিলবে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ। টিনএজারদের ফ্যাশনের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা হচ্ছে হেভি মেটাল জুয়েলারি। এটি দেখতেও যেমন সুন্দর, স্টাইল স্টেটমেন্টের দিক থেকেও অনবদ্য।

প্রায় দুই হাজার বছর আগেও মিসর ও গ্রিসের গহনার ভান্ডার ছিল সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। এ দুই জাতির অভিজাত মেয়েরা গহনার ব্যাপারে ছিল বিশেষভাবে আগ্রহী। মূলত তারাই গড়ে তোলে অলঙ্কারের ভান্ডার এবং তা থেকে এসেছে জাঙ্ক জুয়েলারির ধারণা। ১৯২০ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে ইউরোপে নতুন নতুন নকশায় তৈরি করা হয় এধরনের জুয়েলারি। তবে এর বেশ আগে থেকেই আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নারী-পুরুষ সবাই কলার জুয়েলারি পরে আসছেন।

বিশ্ব ফ্যাশনের হাত ধরে বাংলাদেশে এর চল খুব বেশি দিনের নয়। দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোতেই মূলত এসব গহনা বেশি চোখে পড়ে। এটি এখন এক ধরনের জাঙ্ক জুয়েলারি হিসেবে পরা হয়। ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে আসা নামটি রয়ে গেলেও এখনকার জাঙ্ক জুয়েলারির ডিজাইনে রয়েছে বেশ ভিন্নতা ও নতুনত্ব।

তরুণীদের পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গে বড় একটা রঙিন গলার মালা নিয়ে আসবে ভিন্নতা। স্টাইলিশ করে তুলতে পারে।

ছিমছাম পোশাক হলে নানা রকম বিমূর্ত মোটিফ, টেরাকোটার মোটিফে নকশা করা অলংকার পরতে পারেন অনায়াসে। চোকার, বিব, কলার কিংবা দু-তিন ছড়ার স্টাইলে তৈরি হচ্ছে এগুলো।

সাজসজ্জাটা যেমন

এ ধরনের গয়না পরলে মেকআপের তেমন প্রয়োজন নেই, গয়নাটাই নজর কাড়ে। ফলে মুখের সাজ হালকা হলেই ভালো বলে মনে করেন হেয়ারোবিক্স ব্রাইডালের রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন মিউনী। আবার বন্ধুদের কোনো পার্টিতে একটু মজার ভঙ্গিতেও সাজা যেতে পারে। যেমন গাঢ় নীল, সবুজ, গোলাপি ইত্যাদি রঙের আইশ্যাডো দেওয়া যেতে পারে চোখে। হলুদ, লাল, কালো, সবুজ এসব রঙের নেইলপলিশও ব্যবহার করা যায়।

তবে সে ক্ষেত্রে গয়না কম পরাই ভালো। গলায় বড় কোনো মালা অথবা হাতে মোটা একটি ব্যাঙ্গল আর ঠোঁটে থাকবে হালকা রঙের লিপগøস।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj