ভবিষ্যতের গাড়ি

রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৯

গাড়ি কি উড়তে পারে? স্থলের পাশাপাশি জলেও নামতে পারে? এমন প্রশ্ন যাদের মাথায় সারাক্ষণ ঘুরপাক খায় তারা জেনে খুশি হবেন সামনের কয়েক বছরের ভেতর এমন গাড়ির নিয়মিত ব্যবহার দেখা যাবে দেশে দেশে। জল-স্থল জয় করার মতো গাড়ি এখনই অবশ্য অনেকেই দেখে ফেলেছেন। তবে তার ব্যবহার বহুল প্রচলিত নয়। আছে অনেক সীমাবদ্ধতা। সেই সীমাবদ্ধতা জয় হতে খুব একটা সময় লাগবে না। সঙ্গে যোগ হবে চোখধাঁধানো সব প্রযুক্তি।

গাড়ি আপনার মন বুঝবে

মন পড়ার ডিভাইস নিয়ে প্রযুক্তিবিশ্ব কয়েক বছর ধরেই কাজ করছে। বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এটি নিয়ে আরো আগে কাজ শুরু করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অন-বোর্ড কম্পিউটারের মাধ্যমে গাড়ির চালকের সব ডেটা সংরক্ষণ করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে মার্সিডিজ বেঞ্জ। সংরক্ষণের পাশাপাশি গাড়ির এই কম্পিউটার প্রচুর ডেটা উৎপাদন করবে। গাড়ি সাধারণত কোন রাস্তা দিয়ে যায়, কোথায় থামে, কত গতিতে চলে, কতভাবে মোড় নেয়– সব জানিয়ে দেবে কম্পিউটার। গাড়ির চালক কখন তার সন্তানকে স্কুলে দিয়ে আসেন, কখন আনতে যান এসব তথ্য সরবরাহ করবে মার্সিডিজ বেঞ্জ। চালকের মন কিংবা শরীর ভালো না থাকলেও ওই কম্পিউটার সংকেত পাঠাবে। চালানোর সময় কোনো ভুল করলে শুধরে দেবে!

স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত গিয়ারবক্স

‘রোলস রয়েস রেইথ’ মডেলের গাড়িতে রয়েছে স্যাটেলাইট এইডেড ট্রান্সমিশন (এসএটি) সুবিধা। এ প্রযুক্তির সুবিধা হলো, উইন্ডশিল্ডের ভেতর দিয়ে চালক পথের যে পর্যন্ত দেখতে পান, তা ছাড়িয়ে সামনের অদেখা পথটুকুও বিশ্লেষণ করবে ‘এসএটি’ প্রযুক্তি। ‘জিপিএস ডেটা’ ব্যবহার করে ভ্রমণপথে যে কোনো সময়ে গাড়ির গিয়ার ঠিক রাখাই এ প্রযুক্তির কাজ। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সামনের কয়েক বছরে এ প্রযুক্তির আরো চমকপ্রদ সব ব্যবহার দেখা যাবে।

যে গাড়ি আকাশে উড়বে

আকাশে গাড়ি ওড়ার কথা আগে মানুষ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতেই পড়ত। কিন্তু ২০১৯ সালের এই নভেম্বরে এসে প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, আর মাত্র কয়েক বছর পরেই এমন গাড়ির দেখা মিলবে। পোর্শে, ডেইমলার এবং টয়োটার মতো কোম্পানি প্রযুক্তি অর্থাৎ ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেকঅফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং এয়ারক্রাফট গাড়ি তৈরির চেষ্টায় আছে। দুই বছর আগে অ্যারো মবিল নামে ¯েøাভাকিয়ার একটি কোম্পানি উড়ন্ত গাড়ির সঙ্গে বিশ্বকে পরিচয় করায়। কিন্তু সেটি সাধারণ ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। ব্যবহার করা অত সহজও নয়। পোর্শে এ ধরনের গাড়ি সহজলভ্য করার চেষ্টায় আছে। অ্যারো মবিলের উড়ুক্কু গাড়ি কেনার পর রাস্তায় চালানো যায়। তবে কিছু শর্ত থাকছে। ওই গাড়িতে হালকা ফ্রেমে পাখা থাকবে যা ভাঁজ করা যাবে। এতে একটি হাইব্রিড ইঞ্জিন আছে। এ গাড়ি চালানোর জন্য চালকের পাশাপাশি পাইলটের লাইসেন্সও লাগবে।

গাড়ি বার্তা পাঠাবে গাড়িকে

এখনকার দিনে প্রায়ই একটা কথা বলা হয় যে, প্রযুক্তি পণ্য নিজেরাই অদূর ভবিষ্যতে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারবে। এ ধারণার বাস্তবায়ন হবে গাড়ি শিল্পেও। আপনার গ্যারেজে থাকা গাড়িতে সংকেত পাঠাবে রাস্তায় থাকা তারই কোনো ‘বন্ধু’ গাড়ি। রাস্তায় রিয়েল টাইমে যানজট কেমন, কোনো দুর্ঘটনা হয়েছে কি না তা অন্য গাড়িকে জানাতে পারবে। চলাচলের সময় পাশের গাড়ি খুব কাছে চলে এলে, দুর্ঘটনার সম্ভাবনা সৃষ্টি হলেও মেসেজ পাঠাবে। নিশান এ প্রযুক্তিকে বলছে, ‘ভিটুভি’। প্রোটোটাইপ ভিটুভি প্রযুক্তির তিন হাজার গাড়ি অ্যান আরবার, মিশিগানে কয়েক বছর আগে চলাচল শুরু করে। পুরোপুরি বাণিজ্যিক ব্যবহার দ্রুত শুরু হবে।

চালকবিহীন গাড়ি

২০১২ সালের দিকে চালকবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামানোর লাইসেন্স পায় গুগল। তখন থেকেই তারা বাজারজাত শুরু করে। সেই থেকে এ ধরনের গাড়ি নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। কয়েকটি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। চালকবিহীন গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটালে এর দায়-দায়িত্ব কে নেবে বা জনসাধারণের ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে পদক্ষেপ কে নেবে, এমন প্রশ্ন আছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব ছাপিয়ে বিস্ময়কর সব চালকবিহীন গাড়ি তৈরির চেষ্টায় আছে। ভবিষ্যতে এগুলো যেন সহজলভ্য করা যায়, চলছে সেই চেষ্টা। বিএমডব্লিউ ভিশন আইনেক্সট বিস্ময়কর একটি চালকবিহীন গাড়ি। বৈদ্যুতিক বিলাসবহুল গাড়িটিতে রয়েছে কাঠ এবং চামড়ার তৈরি আবরণের নিচে লুকিয়ে রাখা স্পর্শকাতর স্ক্রিন এবং গাড়ির ভেতরে যে কোনো স্থানে স্ক্রিন প্রজেকশনের ব্যবস্থা সঙ্গে রয়েছে। ২০২১ সাল নাগাদ পুরোদমে এ গাড়ির বাজারজাত শুরু হবে বলে ফোর্বসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রাণ বাঁচাবে এয়ারব্যাগ

আমেরিকার ‘আটোলিভ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এয়ারব্যাগ তৈরি ও গবেষণা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন এক ধরনের এয়ারব্যাগ বাজারে ছেড়েছে, যেটি গাড়ির ছাদ এবং উইন্ডশিল্ডে লাগানো যাবে। গাড়িটি দুর্ঘটনার মুখোমুখি হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি খুলে যাবে। এয়ারব্যাগ এয়ারপকেট তৈরি করে আরোহীদের বড় ধরনের চোট পাওয়া থেকে রক্ষা করবে।

হার্টবিট কার

গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লেক্সাস এমন একটি গাড়ির নকশা করেছে যাতে চালকের হৃৎস্পন্দনের প্রতিফলন দেখা যাবে। এ গাড়ির বাইরের দিকে ইলেকট্রো-লুমিনিসেন্ট রঙে ফুটে উঠবে চালকের হৃৎস্পন্দন। লেক্সাস তাদের আরসি এফ মডেলের গাড়ির নাম দিয়েছে ‘হার্টবিট কার’। এতে বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি যুক্ত করার ফলে চালক ও গাড়ির মধ্যে মানসিক এবং শারীরিক বন্ধন দৃশ্যমান হবে। সূত্র: ইন্টারনেট

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj