কর্মক্ষেত্রে তৈরি করুন সফল দল

রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৯

ছোটবেলায় শেখা এই নীতিবাক্যটি কিন্তু আমরা ভুলিনি। সে বয়সে এই কথার মর্ম সেভাবে না বুঝলেও বড়বেলায় অর্থাৎ কর্মজীবনে কিন্তু এর অর্থ খুব গভীর। কোনো একটি প্রতিষ্ঠান চালনার মূল শক্তিই হচ্ছে কর্মীরা। আর কর্মীরা যদি মিলেমিশে দলবদ্ধ হয়ে কাজ না করে তাহলে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই সেটি বিপদজনক। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতি বিশেষ একটা মানেন না।

সম্ভাব্য ঝুঁকি নেয়ার মানসিকতা

দলের সব সদস্য একে অপরের উপর বিশ্বাস করবে এমনটিই যেন হয় দলের পরিবেশ। এতে করে অনাগত সমস্যা থেকেও যেমন দূরে থাকা যাবে তেমন সমস্যা তৈরি হলে সেগুলো নিয়ে দলগতভাবে কাজও করা যাবে। কোনো কাজ করতে হলে সেখানে নানা ধরনের সমস্যা আসতে পারে। যেমন- যোগাযোগ সমস্যা, আইনি সমস্যা, সঠিক পরিকল্পনা না নেয়ায় সমস্যা। হুট করে এ ধরনের কোনো পরিস্থিতিতে পড়ে গেলে যেন সেগুলো মেনে নিয়ে কাজ করতে সমস্যা না হয় এমন মানসিকতা থাকতে হবে দলের সবার মাঝে।

যদি কোনো সদস্য কাজ করতে সম্মত না হয় তবে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার বা মনোমালিন্য সৃষ্টি হয় এমন কোনো অবস্থার সৃষ্টি করা যাবে না। একজন সদস্য কাজ করতে পারছেন না বা চাচ্ছেন না এমনটি হলে সেটিও দলের অন্য সদস্যকে সহজে মেনে নিতে হবে।

যোগাযোগ করতে হবে সম্মানের সঙ্গে

যোগাযোগ সব সময় সৎ, মুক্ত আর সম্মানীয় হওয়া চাই। মানুষ যেন কথা বলার সময় দ্বিধায় না ভোগে, সমস্যা সমাধানের পথ যেন দলের সদস্যদের কাছ থেকে পায় এমন মানসিকতা থাকা উচিত সবার মাঝে। দলের সঙ্গে বাহিরের যে কেউই কথা বলতে আসুক না কেন তিনি যেন নির্দ্বিধায় কথা বলতে পারেন এমন পরিস্থিতি থাকতে হবে সব সময়।

শুধু জরুরি প্রয়োজনে কেউ এসে কথা বলবে এমন নয়, সহকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলতে হবে সম্মানের সঙ্গে। নিজ দলের বাইরে অন্য কারো সঙ্গে কথা বলা যাবে না বিষয়টি যেন কখনোই এমন হয়ে না দাঁড়ায়।

দলের প্রতিশ্রæতি নিয়ে শক্তিশালী মনোভাব থাকা

দলের সব সদস্যের দলীয় প্রতিশ্রæতি নিয়ে শক্তিশালী মনোভাব থাকতে হবে। এ ছাড়াও সিদ্ধহস্ত হতে হবে দলের সব ধরনের সিদ্ধান্ত এবং কার্যকারিতা নিয়ে। যখন দলের সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে সময় কাটায়, কাজ নিয়ে আলোচনা করে, কীভাবে দলকে আরো সুগঠিত করা যায় সে নিয়ে ভাবে তখন এই প্রতিশ্রæতিগুলো যেমন আরো মজবুত হয় তেমন সবার মাঝে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়। হতে পারে দল নিয়ে কাজ করার সময় একেকজনকে একেক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কারণ কঠিন অবস্থা সব সময় বলে কয়ে আসে না। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, মতের মিল না হওয়া, সঠিক জ্ঞানের অভাব এবং একেকজনের একেক মত এসব বিষয় নিয়ে হতে পারে নানা সমস্যাও। এসব পরিস্থিতি হুট করে চলে আসলে দলীয়ভাবেই তার মোকাবিলা করতে হবে। দল গঠনের সুবিধা কিন্তু এটাই। একেকজন একেক বিষয়ে ভালো হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, সবার মতামত নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নাহলে কেন অন্য একটি প্রতিষ্ঠান আপনার দলের কাছে তাদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট সম্পাদন করতে দেবে? তার চাইতেও বড় কথা হচ্ছে, একেক দলে যখন একেক ধরনের মানুষ মিলে কাজ করে, তখন নানা ধরনের আইডিয়া শেয়ার হয়।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj