ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন বছরব্যাপী কার্যক্রম

রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৯

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা করছে বাংলাদেশ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে ১২৯ জনের। এমন পরিস্থিতি আমাদের জন্য উদ্বেগজনক। মশাবাহিত এই রোগ বাংলাদেশে প্রথম দেখা দেয় ২০০০ সালে, সে সময় এই রোগে মারা যান ৯৩ জন। তিন বছর পর থেকে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার কমতে থাকে এবং কয়েক বছর এতে মৃত্যু শূন্যের কোটায় নেমে আসে। তবে গত বছর আবার বড় পরিসরে দেখা দেয় ডেঙ্গু, ১০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ২৬ জনের মৃত্যু হয় সরকারি হিসাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত শুক্রবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২১ জন। তাদের তথ্য মতে, এ বছর সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন আগস্ট মাসে, রোগীর সংখ্যা ছিল অর্ধলক্ষাধিক। মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২৬৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের মধ্যে ১২৯ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করা গেছে। এই সংখ্যা ২০১৮ সালের এই সময়ের তুলনায় ১০ গুণ। রাজধানীর বাইরে দেশের অন্যান্য জনপদেও ডেঙ্গু আক্রান্তে মানুষ মারা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন আক্রান্তদের হার্ট, কিডনি, লিভার ডেঙ্গুর কারণে স্বল্প সময়ে অকার্যকর হয়ে পড়ছে। যা আক্রান্ত রোগীকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করছে। এ ছাড়া এবার ডেঙ্গুর সেরোটাইপ আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কে আক্রমণ করছে। মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে বা নিউরনে আক্রমণ করে মস্তিষ্কের তীব্র প্রদাহ বা এনক্যাফালাইটিস সৃষ্টি করে। উপযুক্ত সময়ে যথাযথ চিকিৎসা না পেলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। ডেঙ্গু যেহেতু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর অন্যান্য অনেক ভাইরাস রোগের মতো সরাসরি এরও কোনো প্রতিষেধক নেই, টিকাও নেই। লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়ে এর মোকাবেলা করা হয়। আইইডিসিআরের তথ্য মতে, সাধারণত জুন-জুলাই থেকে শুরু করে অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার থাকে। তবে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত পরিস্থিতি বেশি খারাপ থাকে। সাধারণত মশক নিধন কার্যক্রমের স্থবিরতা, গাইডলাইনের অভাব এবং মানুষের অসচেতনতাই ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য দায়ী। হঠাৎ থেমে থেমে স্বল্পমেয়াদি বৃষ্টিতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা খুব বেশি মাত্রায় প্রজনন সক্ষমতা পায়। ফলে এডিস মশার বিস্তারও ঘটে বেশি। এমতাবস্থায় রাজধানীর দুটি সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য তাদের দায় নিতে হবে। মশা নিধনে ওষুধ ছিটানোতে গাফিলতিসহ মেয়াদোত্তীর্ণ অকার্যকর ওষুধের ব্যবহারের ফলে ওষুধ ছিটিয়েও লাভ হয়নি। করপোরেশন এলাকার বাইরেও স্থানীয় প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ কাজে তৎপর হওয়া দরকার জরুরিভিত্তিতে। এ ছাড়া ডেঙ্গুর প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরি, ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে মানুষকে ওয়াকিবহাল করা, ডেঙ্গু হলে করণীয় সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা বাড়ানো দরকার। প্রয়োজন বছরব্যাপী কার্যক্রম।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj