বরিসের বিরুদ্ধে গোপন আলোচনা চালানোর অভিযোগ করবিনের

শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : ব্রেক্সিটকে সামনে রেখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্রিটেনের স্বার্থবিরোধী বাণিজ্যচুক্তির লক্ষ্যে গোপনে আলোচনা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী নেতা জেরেমি করবিন। তবে, করবিনের এ অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নিতেই এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন করবিন। এদিকে যে কোনো মূল্যে ব্রেক্সিট ঠেকানোর অঙ্গীকার করে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা নিকোলা স্টারজন।

নির্বাচন যতই কাছিয়ে আসছে ততই জমজমাট হয়ে উঠছে প্রচারণা, বাড়ছে কথার লড়াই। ভোটারদের মন জয় করতে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ এবং বিরোধী লেবার পার্টির পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে নানা প্রতিশ্রæতি, একে অপরের প্রতি ছুঁড়ছেন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। সবমিলিয়ে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে ব্রিটেনজুড়ে। এর মধ্যেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির মূল উপাদানগুলো নিয়ে গোপনে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী নেতা জেরেমি করবিন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন ওষুধ উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্যাটেন্ট স্বত্ব যুক্তরাজ্যেও কার্যকরের বিষয়ে দেশটির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বুধবার, লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ সংবলিত ৪৫১ পৃষ্ঠার গোপন নথি উপস্থাপন করেন করবিন।

তিনি বলেন, এই নথিগুলোই প্রমাণ করে আমরা যা আশঙ্কা করেছিলাম তাই সত্যি। শুধু তাই নয়, আমাদের ধারণার চেয়েও দ্রুত গতিতে এগিয়েছে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তির আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্রিটেন সরকারের প্রাথমিক আলোচনা এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এমনকি, মার্কিন প্যাটেন্ট যুক্তরাজ্যে স¤প্রসারণের আলোচনাও দুই দেশের মধ্যে হয়েছে। এটা হয়ে থাকলে, ওষুধের দাম বেড়ে গিয়ে এদেশের স্বাস্থ্যখাত মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। তবে, বিরোধী নেতার এ অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি আরো বলেন, দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য খাতকে দরকষাকষির টেবিলে তোলার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। নির্বাচনের আগে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নিতেই করবিন এমন অভিযোগ তুলেছেন বলেও দাবি করেন বরিস। তিনি বলেন, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি করবিন যেসব অভিযোগ করেছেন তা কোনো অবস্থাতেই সত্যি নয়। এদেশের স্বাস্থ্য খাতকে বিক্রি করার প্রশ্নেই ওঠে না। এমন কোনো আলোচনাই হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আমাদের কোনো ধরনের গোপন আলোচনা হয়নি। আমরা যে ধরনের চুক্তিই করি না কেন, অবশ্যই তা ব্রিটেনের অর্থনীতির সমৃদ্ধির স্বার্থেই করা হবে। এদিকে আগামী ১২ ডিসেম্বর ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী লেবার পার্টি এবং ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির পর এবার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি-এসএনপি।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj